তাপস পালের বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টায় এফআইআর, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ

কলকাতা
কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর: আদালতে আবার ধাক্কা রাজ্য সরকারের। তাপস পালের উসকানিমূলক ভাষণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ব্যক্ত করে যে রায় দিয়েছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত, তা-ই সমর্থন করলেন আর এক বিচারপতি নিশীথা মাত্রে। এর ফলে তাপস পালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে পুলিশ-প্রশাসন।

আরও পড়ুন: তাপস পালের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের
আরও পড়ুন: ডিভিশন বেঞ্চে ভিন্ন মত, তাপস পাল মামলা যাচ্ছে বৃহত্তর বেঞ্চে

গত ১৪ জুন নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় চৌমুহা গ্রামে একটি দলীয় সভায় বিরোধীদের উদ্দেশে হুমকি দিয়েছিলেন তাপস পাল। বলেছিলেন, দলের ছেলের ঢুকিয়ে দেবেন বিরোধীদের ঘরে, তারা মেয়েদের ধর্ষণ করে চলে যাবে। সিপিএম, বিজেপি-র লোকেদের খুন করার হুমকি দেন। পরে নদীয়া জেলারই আরও তিনটি জায়গা যথাক্রমে গোপীনাথপুর, তেঘরি ও হরনগরে অনুরূপ উত্তেজনামূলক কথা বলেন তিনি। বঁটি দিয়ে সিপিএমের লোকেদের মাথা ফাঁক করে দিতে বলেন।

অথচ তার পরও রাজ্য সরকার ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা হয়। ২৮ জুলাই বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত নির্দেশ দেন, নাকাশিপাড়া থানাকে ৭২ ঘণ্টায় এফআইআর করতে হবে। তার পর মামলার তদন্তভার বুঝিয়ে দিতে হবে সিআইডি-কে। সিআইডি ঠিকঠাক তদন্ত করছে কি না, তা নিয়ে নজরদারি চালাবে আদালত। পয়লা সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিআইডি-কে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বিচারপতি গিরীশ গুপ্ত ও বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। ১৩ অগস্ট রায় দিতে গিয়ে দুই বিচারপতি ভিন্ন মত পোষণ করেন। বিচারপতি গিরীশ গুপ্ত সহমত হননি বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের সঙ্গে। কিন্তু তপোব্রত চক্রবর্তী সহমত পোষণ করেন। এর ফলে জট পাকিয়ে যায়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটি যায় তৃতীয় বিচারপতি নিশীথা মাত্রে-র কাছে। ঠিক হয়, তিনি যে রায় দেবেন সেটাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বৃহস্পতিবার দেখা গেল, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের রায়ের সিংহভাগই বহাল রাখলেন তিনি।

"সরকারের প্রতি বিচার বিভাগের অনাস্থা প্রকাশ পাচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়।"

বিচারপতি নিশীথা মাত্রে বলেছেন, ৭২ ঘণ্টায় এফআইআর করতে হবে পুলিশকে। তার পর মামলার তদন্তভার বুঝে নেবে সিআইডি। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিআইডি রিপোর্ট জমা দেবে হাই কোর্টে। তবে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের রায়ের একটি অংশকে খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। তা হল, আদালতের নজরদারিতে সিআইডি তদন্ত। বিচারপতি নিশীথা মাত্রে-র মতে, এখনই নজরদারি চালানোর দরকার নেই। সিআইডি স্বাধীনভাবেই তদন্ত করুক।

কলকাতা হাই কোর্টের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। তবে রায়গঞ্জের সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, "আদালত যদি সিআইডি তদন্তের ওপর নজরদারি চালাত, তা হলে ভালো হত। কারণ পাড়ুই মামলা বা সারদা-কাণ্ডে 'সিট' কী করেছে, আমরা দেখেছি। এক্ষেত্রে সিআইডি কতটা নিরপেক্ষ তদন্ত করবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে।"

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, "একটার পর একটা ঘটনায় রাজ্য সরকার ধাক্কা খাচ্ছে আদালতে। সরকারের প্রতি বিচার বিভাগের অনাস্থা প্রকাশ পাচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়।"

প্রসঙ্গত, গতকালই পাড়ুই-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। আর আজ আবারও রাজ্য সরকারের মুখ পুড়ল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+