সিএএ আইন 'জুমলা', মানুষের অধিকার কাড়ার খেলা, তীব্র কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে তিনি সিএএ চালু করতে দেবেন না। রাজ্যের মানুষের অধিকার তিনি কাড়তে দেবেন না। উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায় মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ছিল। সেখান থেকেই সিএএ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।

সিএএ আইনকে জুমলা বলে কটাক্ষ করলেন মমতা। এই আইন আসলে অধিকার কাড়ার খেলা। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। সিএএর সঙ্গে এনআরসি যুক্ত রয়েছে। যে সব নাগরিকরা দরখাস্ত করবেন, তাদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। অবৈধ নাগরিক চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। বেআইনি ঘোষণা করা হবে। এমনই দাবি করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

mamata banerjee

হাবড়ার জনসভা থেকে রীতিমতো সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণ মানুষকে এই বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে বলেছেন। অধিকার কাড়ার খেলা দরখাস্ত করলেই সেই সব মানুষদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে। সম্পত্তি চলে যাবে। তাদের ছেলেমেয়েদের অধিকার বঞ্চিত হবে। সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা থেকে বঞ্চিত হবেন মানুষ।

এই সিএএ আইনের কোনও স্বচ্ছতা নেই। মানুষের অধিকার কেড়ে নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। এই কথা একাধিকবার জনসভা থেকে জোর গলায় দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষকে বিজেপি ভাঁওতা দিচ্ছে। ধাপ্পা দিচ্ছে। সাধারণ মানুষের এটাও যাবে, ওটাও যাবে। উদাহরণ হিসেবে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এপাড় বাংলা ওপাড় বাংলার দুই পরিবারের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হয়। সিএএ দরখাস্থকারী সেইসব পরিবার সমস্যায় পড়বেন। মেয়ে বাপের বাড়ি যেতে পারবে না। ছেলে শ্বশুরবাড়ি যেতে পারবে না।
হাবড়ার জনসভা থেকে মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের বার বার এইসব বিষয় নিয়ে ভাবতে বললেন তিনি।

নাগরিকত্বের দরখাস্ত করার জন্য বাবার জন্ম শংসাপত্র প্রয়োজন। পুরনো দিনের মানুষদের কতজনের কাছে বাবা-মায়ের জন্মের কাগজপত্র রয়েছে? সেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নিজের কথাও তুলে ধরেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জানেন না, তাঁর বাবা-মায়ের জন্মদিন কবে। এমন অনেক সাধারণ মানুষ আছেন। তারা কী করবেন?

এই আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার মূলে কঠোর আঘাত করছে। পশ্চিমবঙ্গে কিছুতেই মুখ্যমন্ত্রী সিএএ লাগু করতে দেবেন না। প্রয়োজনে তিনি জীবন দিতে প্রস্তুত। জীবন দিয়ে বাংলার মানুষকে রক্ষা করবেন। বাংলার কোনও মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে তিনি পাঠাতে দেবেন না।

সিএএ লাগু হওয়ার পরেই নর্থ - ইস্টের মানুষরা কাঁদছেন। ভারতের মুসলিম, হিন্দুরা কাঁদছেন। অসমের ১৩ লক্ষ হিন্দুর নাগরিকত্ব চলে গিয়েছিল। তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। সেই প্রসঙ্গ এদিন তুলে আনেন মুখ্যমন্ত্রী।

লোকসভা ভোটের আগে কেন এই আইন লাগু করা হল? ২০১৯ সালে আইন হয়েছিল। কেন চার বছর অপেক্ষা করতে হল? এক বছর আগে এই আইন চালু করলেও ভালো খারাপ দিক বোঝা যেত। সাধারণ মানুষ এবার ভোট দিতে পারবেন কী না। সেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটি আসলে বিজেপির পরিষ্কার রাজনীতির খেলা। এমন দাবি মমতার।

বিজেপি আসলে লুডো খেলার কাজ করছে। বিজেপি ভাবছে তারা ছক্কা ফেলছে। আসলে নিট ফল শূন্য। এমন কটাক্ষ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+