মহেশতলায় কঠোর নজরদারিতে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, আগ্রহ শুধু দ্বিতীয় স্থানের লড়াই নিয়ে
রাজ্যের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলিতে তৃণমূলেই একাধিপত্য দেখিয়েছে। লড়াই পর্যবসিত হয়েছে দ্বিতীয় শক্তি নিরূপণে। মহেশতলা উপনির্বাচনের লড়াইয়েও প্রতিটি বুথের চিত্রও বলে দিচ্ছে এ লড়াই দুনম্বর স্থানের।
রাজ্যের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনগুলিতে তৃণমূলেই একাধিপত্য দেখিয়েছে। লড়াই পর্যবসিত হয়েছে দ্বিতীয় শক্তি নিরূপণে। কাঁথি হোক বা সবং, কিংবা নোয়াপাড়া বা উলুবেডিয়া- সর্বত্রই এক চিত্র ধরা পড়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা উপনির্বাচনের লড়াইয়েও প্রতিটি বুথের চিত্রও বলে দিচ্ছে এ লড়াই দুনম্বর স্থানের।

সাম্প্রতিক সবকটি উপনির্বাচনে একটা প্রবণতা দেখা গিয়েছে সিপিএম তথা বামশক্তিকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। প্রথম স্থানাধিকারী তৃণমূল উত্তরোত্তর ব্যবধান বাড়িয়েছে। বদল ঘটেছে তাঁদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের। মহেশতলার নির্বাচনেও একই সুর উঠেছে, কে হবে দ্বিতীয়। বাম-কংগ্রেস জোটই দ্বিতীয় হবে, নাকি তাদের সরিয়ে উত্থান হবে বিজেপির।
২০১৬ সালের পর প্রথম কোনও নির্বাচনে জোট গড়ে লড়ছে বাম-কংগ্রেস। তা সত্ত্বেও শাসকদলকে তারা কোনও চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করাতে পারেনি। বরং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ছে বিজেপি। আর লড়াই পর্যবসিত হয়েছে দ্বিতীয় স্থানের জন্য। এই কেন্দ্রে বাম-কংগ্রেসের একটাই ভরসা, মোট ভোটারের ৪৫ শতাংশই সংখ্যালঘু। সে ক্ষেত্রে বিজেপিকে টেক্কা দিতে পারে বামফ্রন্ট প্রার্থী প্রভাত চৌধুরী।
এদিন মহেশতলার ভোট হচ্ছে শান্তিপূর্ণ মেজাজে। কোথাও কোনও উত্তেজনা নেই। কোনও দলের তরফেই দুপুর পর্যন্ত কোনও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ করা হয়নি। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের পাহাড় জমা হলেও, উপনির্বাচনে সব পক্ষই বলছে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে।
তৃণমূল প্রার্থী দুলাল দাস জানান, পঞ্চায়েতেও কোনও গন্ডগোল ছিল না, বিরোধীরা গন্ডগোল সৃষ্টি করেছিল। এবার সেই গন্ডগোল সৃষ্টি করার লোকও নেই। বিজেপি প্রার্থী সুজিত ঘোষের কথা, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকাতেই কেউ ট্যাঁ-ফু করতে পারছে না। বামপ্রার্থীর বলছেন, ভোট শান্তিপূর্ণই, তবে রমজান মাসে ভোট হওয়ায় রোজাদাররা সমস্যায়।
পঞ্চায়েত ভোটের পর রাজ্যে উপনির্বাচনে মহেশতলা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি যেমন ছিল, ছিল ভিভিপ্যাট ব্যবস্থাও। তারপর রমজান মাসে ভোট হওয়ায় ভোটদানের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ২৮৩টি বুথের মধ্যে ১৫০টিতে সরাসরি নজরদারি চালাচ্ছে। সুষ্ঠু-অবাধ নির্বাচন করাই মূললক্ষ্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। উপনির্বাচনের এই ব্যবস্থা রাজ্য নির্বাচনের কাছেও বিশেষ বার্তা।












Click it and Unblock the Notifications