পশ্চিমবঙ্গের যুব সমাজের কাজের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে উঠেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য
পশ্চিমবঙ্গের বাম জমানার অন্যতম মুখ। জ্যোতি বসুর পরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন। শ্বেতশুভ্র ধুতি, পাঞ্জাবি, মাথার চুল৷ বাংলার উন্নয়নে একাধিক স্বপ্নের ফেরিওয়ালাও কি বলা যায়? বাংলার সেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভভট্টাচার্য প্রয়াত।
কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আমৃত্যু জড়িয়েছিলেন। কেমন ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবন? ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য ছিলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী৷ ২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।

জ্যোতি বসুর পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন। তিনি ছিলেন রাজ্যের সপ্তম মুখ্যমন্ত্রী। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন বেকার যুব সমাজদের চাকরি দেওয়ার। রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুব সমাজকে সঠিক চাকরি দিতে হবে। সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছিলেন তিনি৷
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ২০০৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই নতুন উদ্যোগ শুরু হয়। টাটা শিল্পগোষ্ঠী রাজ্যে কর্মসংস্থানের জন্য এগিয়ে আসে। সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরির প্রস্তাব আনা হয়। রীতিমতো হইচই শুরু হয়ে যায়। কারণ, বাংলার শিল্প বিপ্লবে এক নতুন পালক তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় তখন থেকেই।
রাজ্যে নতুন শিল্পতালক তৈরির জন্য বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সুদূরপ্রসারী ভাবনাচিন্তা করেছিলেন। নয়াচরে পেট্রো কেমিক্যাল হাব তৈরি হবে। সেই ইচ্ছাও করেছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামে শিল্পতালুক তৈরি হবে। হলদিয়া পরবর্তী নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হবে পূর্ব মেদিনীপুরে। এ যেন তাঁর জেদ ছিল।
সালিম গোষ্ঠীর সঙ্গে কথাবার্তা এগোতে থাকে কারখানা হবে পশ্চিমবঙ্গে। জমি পর্যন্ত ঠিক হয়ে যায়। সেই সময় শিল্প আনার জন্য জাপান গিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জিন্দল শিল্পগোষ্ঠী কারখানা করবে। সেই কথাও কার্যত নিশ্চিত হয়ে পড়েছিল।
শিল্পতালুক তৈরির পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু সেই সময় তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গকেও তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে তুলে ধরতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সল্টলেক, রাজারহাট এলাকায় শুরু হল তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প তৈরির কাজকর্ম। ধীরে ধীরে একের পর এক বেসরকারি সংস্থা আসতে শুরু করল এই তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে।
টিসিএস, কগনিজেন্ট, সিটিএস সহ একাধিক নামীদামি সংস্থা সল্টলেকে তাদের অফিস তৈরি করল। পশ্চিমবঙ্গের তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের পথচলা শুরু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর আমলেই। তবুও শিল্প ও কর্মক্ষেত্রে সাফল্য এল না বুদ্ধদেবের। রাজনৈতিক চক্রব্যূহে হয়তো সেই সময় পড়ে গিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
একের পর এক বিরোধিতা, সিদ্ধান্তে রদবদল, প্রশাসনিক ব্যর্থতা কাঁধে চেপে বসে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর। যে ফেরিওয়ালা স্বপ্ন দেখেছিলেন, উন্নত পশ্চিমবঙ্গের। তিনি এক সময় বহুল সমালোচিত হতে শুরু করেন। ২০১১ সালের ভোটে পতন হয় তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের। যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নিজেও হেরে গিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
সক্রিয় রাজনীতি থেকে তিনি সরে গিয়েছিলেন। তারপরেই ধীরে ধীরে লোকসমাজ থেকেও তিনি সরে যান। এক সময় ঘরবন্দি জীবন যাপনে নিজেকে অভ্যস্ত করে ফেলেছিলেন শ্বেতশুভ্র বসন পরিহিত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।












Click it and Unblock the Notifications