Buddhadeb Bhattacharjee: বাম জমানার শেষ সেনাপতি, কোন ভিশন নিয়ে বাংলাকে গড়তে চেয়েছিলেন বুদ্ধবাবু
বাম জমানার শেষ সেনাপতি ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ১১ বছর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বাংলাকে নতুন ভিশন নিয়ে গড়তে চেয়েছিলেন তিনি। বংলার শিল্পবিরোধী তকমা মুছে ফেলে শিল্প আনার প্রথম উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি।
বামেদের পুঁজিবাদ বিরোধী বলা হয়ে থাকে। শিল্পপতি নয় শ্রমিক-মজদুরের দল তাঁরা। সেই বাম জমানার শেষ সেনাপতি যখন বাংলাকে শিল্প বান্ধব করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তখন দলের অন্দরে এবং বাইরে বিপুল বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তবে দমে যাননি তিনি টাটাদের ন্যানো কারখানা গড়ার জন্য সিঙ্গুরে জমি দিয়েছিলেন তিনি।

২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্য।ন্ত টানা ১১ বছর বাংলার শাসন ভার তাঁর উপরে ছিল। সাধারণ সাদামাঠা জীবনই তাঁর সবচেয়ে পছন্দের। কলকাতাই জন্ম তাঁর। কলকাতাতেই বেড়ে ওঠা। ছাত্রজীবন থেকেই বাম রাজনীতির সঙ্গে যোগ তাঁর। কমরেড প্রমোদ দাশগুপ্তের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন তিনি। তাঁকে অনুসরণ করেই বাম আদর্শে দিক্ষিত হয়েছিলেন তিনি।
জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভার সদস্যও ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন একাধিক দফতরের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। জ্যোতি বসুর পরে তাঁর হাতেই বাংলার রাশ তুলে দেওয়া হয়েছিল। আপামর বাঙালির প্রতিচ্ছবি ছিলেন বুদ্ধবাবু। সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরা বাংলার শেষ বাম মুখ্যমন্ত্রী। অদম্য অধ্যাবসায় ছিল তাঁর। বাংলাকে গড়তে চেয়েছিলেন নতুন এক রূপরেখা নিয়ে।
শুধু কৃষক-শ্রমজীবীদের সরকার নয়। বাংলা যে শিল্পের জন্যও উপযোগী। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে টাটাদের বাংলায় আনতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি। শিল্প বিরোধী আন্দোলনে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরতে হয় তাঁকে। কিন্তু যে ভিশন নিয়ে তিনি বাংলাকে গড়তে চেয়েছিলেন।
রাজ্যের শিল্পায়ন করতে চেয়েছিলেন তিনি। বামপন্থী হলেও রাজ্যের মানুষের উন্নয়নে। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে। শিক্ষিত মধ্য মেধাবী ছাত্রদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে তিনি চেয়েছিলেন রাজ্যের শিল্পায়ন। কিন্তু তাঁর সেই ভিশন শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়নি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হলেও কোনও দিন ভিভিআইপি জীবন যাপন করতে দেখা যায়নি তাঁকে। সততার এক প্রতিচ্ছবি দিলেন বাম জমানার এই শেষ সেনাপতি।
শুধু বাম সেনাপতিই ছিলেন না বুদ্ধবাবু। এই বাম কমরেডের আরেক পরিচয় ছিল তাঁর। তিনি ছিলেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ভট্টাচার্যের ভাইপো। নিজে লেখালেখিও করতেন। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরে যাওয়ার পর একবার মাত্র তাঁকে দেখা গিয়েছিল বামেদের ব্রিগেড সমাবেশে। তবে অসুস্থতার কারণে গাড়ি থেকে নামেননি তিনি। গাড়িতে বসে থেকেই বাম নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করে দিয়েছিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications