রাজ্যে বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ নিল বিএসপিএস, লক্ষ্য স্কুলছুট পড়ুয়াদের সাক্ষর করা
রাজ্যে বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র খোলার উদ্যোগ নিল বিএসপিএস, লক্ষ্য স্কুলছুট পড়ুয়াদের সাক্ষর করা
দেশজুড়ে করোনা ভাইরাসের মহামারির জন্য পশ্চিমবঙ্গে স্কুল শিক্ষা বন্ধ রয়েছে তবে রাজ্যের ৫ থেকে ৬ শতাংশ পড়ুয়া এই সময় অনলাইনে শিক্ষা নিতে সক্ষম। এই আশাহীন পরিস্থিতির মধ্যে বঙ্গীয় সাক্ষরতা প্রসার সমিতি (বিএসপিএস) গ্রামীণ এলাকার শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই শিক্ষার সুযোগ না থাকার কারণে প্রায় ১৮ মাস পর স্কুল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

স্বাক্ষরতা কেন্দ্র স্থাপনে বাধা
বিএসপিএসের নেতৃত্বে থাকা কর্মী ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার সংগঠনের সম্পাদক বিকাশ দে এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর ১৯৯২ সালে রাজ্যে হিংসাত্মক ঘটনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে ছিল এই সাক্ষরতা কেন্দ্রগুলি। তবে বর্তমানে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চলছে, বাম আন্দোলন দ্বারা শুরু করা সাক্ষরতা আন্দোলন নতুন কেন্দ্র স্থাপনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

এই বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্রের লক্ষ্য
মহামারির আগে উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার কিছু অংশে বেশ কিছু সাক্ষরতা কেন্দ্র পরিচালিত হত। এই বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্রগুলির লক্ষ্য হল স্কুল না যাওয়া শিশুদেরকে শিক্ষার পরিধিতে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের মা-বাবাকে প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার আওতায় আনা। বিএসপিএসের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও কোচবিহার জেলাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিকাশ দে।

নির্দিষ্ট নাম নেই এই কেন্দ্রগুলির
এই বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট কোনও নাম না থাকার কারণে কিছু কিছু কেন্দ্রগুলিকে অসময়ের পাঠশালা হিসাবে নামকরণ করা হয়েছে। এরকম আরও কিছু কেন্দ্রের নামকরণ করা হয়েছে শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির দুনিয়ার নামে। এই মহামারি সময়ে শিক্ষা নিয়ে কাজের পাশাপাশি বিএসপিএস তাদের কাজকে সাগর দ্বীপের সাগর, কাকদ্বীপ, সন্দেশখালি ও নামখানার মৌসুমি দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকায় প্রসারিত করতে সফল হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় এই সংগঠন একাধিক মেডিক্যাল শিবিরের আয়োজন করেছিল এই এলাকাগুলিতে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা ও শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজও করছে এই সংগঠন।

বাম আমলে স্বাক্ষরতা আলাদা মাত্রা পেয়েছিল
এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অনুপ সরকার জানিয়েছেন যে সাক্ষরতা বিকাশের কাজে রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরে ঠিকঠাক কাজ করছিল না। রাজ্যে সাক্ষরতার হার ৭৬ শতাংশ, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ২ কোটি মানুষ রাজ্যে অশিক্ষিত। সরকার জানান, শিক্ষার হার তখনই বাড়ানো যেতে পারে যদি রাজ্য সরকার দায়িত্ব নেয়। এটি স্মরণ করা যায় যে ২০০৫ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের সমস্ত সাক্ষরতা কেন্দ্র পরিচালনা করত এবং রাজ্যের সাক্ষরতা আন্দোলনে প্রয়াত জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকারের অধীনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছিল এবং ১৯৯৮ সালে নোমা পুরস্কার জিতেছিল। তবে ২০১১ সালের পর (যখন বাম শাসনের অবসান ঘটেছিল), সাক্ষরতা আন্দোলনে শূন্যতা দেখা দিয়েছিল কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার তা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে এসেছিল বলে অভিযোগ করে বিএসপিএস।

সাক্ষরতার হার জেলা ভিত্তিক
প্রসঙ্গত, পূর্ব মেদিনীপুর ও কলকাতায় সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি (৮৫ শতাংশের ওপর), মাঝারি স্থানে রয়েছে দার্জিলিং, কোচবিহার, বর্ধমান, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগণা, হুগলি,সাক্ষরতার হার (৬৫-৭৫ শতাংশ) জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, মূর্শিদাবাদ, বীরভূম, পবাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম (৬৫ শতাংশের নীচে) উত্তর দিনাজপুর ও মালদাতে। এখানে উল্লেখ্য, পুরুলিয়াতে বিএসপিএস একটি আবাসিক স্কুল চালায় যার নাম ইশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, যেখানে ৪৫০ জন পড়ুয়া ও ২২ জন শিক্ষক রয়েছেন।

রাজ্যে খোলেনি স্কুল–কলেজ
সরকার জানিয়েছেন যে প্রাথমিক স্কুল থেকে যে পরিমাণ পড়ুয়া পড়াশোনা থেকে সরে যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অনেক রাজ্যই স্কু-কলেজ পুনরায় খোলা নিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও এ ধরনের কোনও পদক্ষেপ করেনি।












Click it and Unblock the Notifications