ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যেই জলপাইগুড়িতে বিএসএফের বড় প্ল্যান, দলে দলে মানুষ জমি দিচ্ছেন! কী করবে ঢাকা?
India-Bangladesh Border: একদিকে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি, অন্যদিকে বাংলাদেশ সীমান্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স অর্থাৎ BSF। শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটতেই বিস্তীর্ন বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে প্রতিরক্ষামন্ত্রক। নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে তেমনই জওয়ানের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বেড়া দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে বিএসএফ।
আর তা দিতে গত কয়েকমাসে একাধিকবার বিএসএফ এবং ওপারে সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিডিআর সংঘাতে জড়িয়েছে। এমনকী গ্রামবাসীদেরও বিডিআর মারধর করেছে। যা মোটেই ভালো চোখে নেয়নি ভারত। আর এরমধ্যেই 'চিকেন নেকস' অর্থাৎ 'শিলিগুড়ি করিডোরে'র নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ সেখানকার বাসিন্দাদের।

জানা যাচ্ছে, জলপাইগুড়িতে প্রায় ৫০ জন কৃষক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফকজে জমি দিচ্ছেন। বর্ডার ফেন্সিং নির্মাণের জন্য সেই জমি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। যা খবর, জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ৫০ জন কৃষক তাঁদের জমি সীমান্ত নিরাপত্তা বল (BSF)-এর কাছে হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছেন।
এই জমিগুলো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ১১ কিমি দীর্ঘ কাঁটাতারের বেড়া (ফেন্সিং) নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত হবে বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি বিএসএফ আধিকারিকরা এই সংক্রান্ত একটি বৈঠকও করেন সেখানকার গ্রামের মানুষের সঙ্গে। আর এরপরেই দেশের সুরক্ষার স্বার্থে এই জমি দিতে অন্তত ৫০ জন কৃ|ষক রাজি হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই ফেন্সিং প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিএসএফ ইতিমধ্যেই জমি পরিমাপের কাজ শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বেশ কিছু কারণের জন্য স্থানীয় লোকজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য ফেন্সিং কতটা প্রয়োজন তা স্থানীয় মানুষজন বুঝতে পেরেছেন। আর সেই কারণে অন্তত ৫০ জন কৃষক জমি দিতে রাজি হয়েছেন। খুব শীঘ্রই সীমান্ত এলাকায় বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।
India-Bangladesh Border Citizens' Association এর তরফে সারদা প্রসাদ জানিয়েছেন, আরও ৮ কিমি এলাকায় বেড়া দেওয়ার প্রয়োজন আছে। আর সেই কারণে গ্রামের মানুষ দলে দলে এসে বিএসএফকে জমি দিচ্ছেন বলে এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি।

বলে রাখা প্রয়োজন, ক্ষমতায় এসেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেওয়ার ঘোষণা করেছিল বিজেপি সরকার। সেই কাজ ইতিমধ্যে শেষের দিকে। কিন্তু বাংলায় বহু অংশ ফাঁকা। যা নিয়ে গত কয়েকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে একহাত নেন অমিত শাহ। অভিযোগ করেন, বারবার আবেদন জানিয়েও জমি পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার সাহায্য করছে না। ফলে বাংলায় ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়া নিয়ে কার্যত প্রশ্ন তুলে দেন শাহ।












Click it and Unblock the Notifications