অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে শ্যালিকাকে লাগাতার ধর্ষণ, স্ত্রীর প্রতিবাদে জোড়া মৃত্যু দেবীপক্ষে
দেবীপক্ষে বোধনের আগেই নির্মম ঘটনার স্বাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর বনগাঁ। অশ্লীল ছবি তুলে লাগাতার ধর্ষণের ঘটনায় অপমানে আত্মঘাতী হলেন তরুণী। প্রতিবাদ করার পরই রহস্যমৃত্যু হল স্ত্রীর।
দেবীপক্ষে বোধনের আগেই নির্মম ঘটনার স্বাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত শহর বনগাঁ। অশ্লীল ছবি তুলে লাগাতার ধর্ষণের ঘটনায় অপমানে আত্মঘাতী হলেন তরুণী। বোনের উপর স্বামীর যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করার পরই রহস্যমৃত্যু হল স্ত্রীর। দুই ঘটনাতেই অভিযুক্ত একজন। বনগাঁর সীতানাথপুরে জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

দিনের পর দিন শ্যালিকার উপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন জামাইবাবু। অশ্লীল ছবি তুলে লাগাতার ধর্ষণ করে গিয়েছেন নিজের শ্যালিকাকে। শেষপর্যন্ত অপমানে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই তরুণী। তারপর স্বামীর কীর্তিকলাপ প্রকাশ হয়ে যেতেই প্রতিবাদ করেছিলেন স্ত্রী, তাই পথের কাঁটা স্ত্রীকে সরিয়ে দিতেও হাত কাঁপেনি সৌরভ বিশ্বাসের।
শ্যালিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন শ্যালিকার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল সৌরভ। শ্যালিকার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সৌরভের বিরুদ্ধে। এরপরই বোনের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছিল সৌরভের স্ত্রী।
তাঁর পরিণতি হয়েছিল ভয়ঙ্কর। একদিকে লজ্জায়-অপমানে যখন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন শ্যালিকা, তখনই জামাইবাবু সৌরভ দিদি অসীমাকেও দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়। অথচ বছর সাতেক আগে অসীমাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল সৌরভ। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে সৌরভ।
গ্রামে বেশ কয়েকবার বিচারসভাও বসেছিল। কিন্তু আদতে কোনও লাভ হয়নি। ঘুরেফিরে সেই অত্যাচার, অশান্তি। এরই মধ্যে অসীমার বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সৌরভের। তাঁর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলেও বাড়িতে জানিয়ে দেয় অসীমার ছোট বোন। অসীমা স্বামীর কু-কীর্তির প্রতিবাদ করায় অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
অসীমাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন তাঁর বাবা অমলবাবু। এরই মধ্যে লজ্জায়-অপমানে আত্মঘাতী হয় ছোট মেয়ে। অসীমারও ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ে থেকে। তার আগে সৌরভ এসেছিল বাড়িতে। তাতেই সন্দেহ অসীমাকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সৌরভের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন অমলবাবু। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বনগাঁ আদালতে পেশ করে। তারপর নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications