তৃণমূলের শিক্ষামন্ত্রীর গলায় শুভেন্দুর সুর, রাজ্যপাল ইস্যুতে মিলে গেলেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী
কয়েকদিন আগে রাজ্যপালকে যে ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সেই একই সুর শোনা গেল শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গলায়। রাজ্যপাল ইস্যুতে মিলে গেলেন রাজ্যের দুই প্রতিদ্বন্বী শ দলের দুই হেভিওয়েট নেতা। শুভেন্দুর মতো রাজ্যপালকে নিশানায় গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ও জগদীপ ধনখড়ের তুলনা টানলেন ব্রাত্য।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এদিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে নিশানা করতে গিয়ে প্রাক্তন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধী এবং জগদীপ ধনখড়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, 'আমরা গোপালকৃষ্ণ গান্ধী কিংবা জগদীপ ধনখড়কে দেখেছি। যা চান তা একেবারে পরিষ্কার করে বলে দিতেন। এমনকী এম কে নারায়ণনের মতো রাজ্যপালকেও দেখা গিয়েছে স্পষ্ট কথা স্পষ্ট করে বলতে।

ব্রাত্য বসু বলেন, ভাসা ভাসা বিবৃতি দিয়ে লাভ নেই। যেটা বলার পরিষ্কার করে বলাই শ্রেয়। তিনি ঘুরিয়ে বর্তমান রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সমালোচনা করেন। একেবারে একই কথা শোনা গিয়েছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথায়। শুভেন্দুও গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ও জগদীপ ধনখড়ের প্রসঙ্গে টেনে বিবৃতি দিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী রামনবমীর মিছিলে হিংসা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, শিবপুর থানা ও রিষড়া থানাকে ৩৫৬ ধারায় উপদ্রুত ঘোষণা করে একমাসের জন্য থানার দায়িত্ব সিআরপিএফ বা সিআরপিসির হাতে তুলে দেওয়া হোক। রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে আবেদন করতেই পারেন।
তারপর তিনি বলেনস বর্তমান রাজ্যপাল যদি সেই কাজ করতে পারেন, তবেই বলব গোপালকৃষ্ণ গান্ধী, জগদীপ ধনকড়ের মতো বর্তমান রাজ্যপালও কিছু করে দেখাতে চাইছেন। তিনি পশ্চিমবাংলার রাষ্ট্রবাদীদের বাঁচাতে চাইছেন। তা না করে এখন পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েই ক্ষান্ত থেকেছেন রাজ্যপাল। এবার রাজ্যপালের উচিত কোনো কড়া বন্দোবস্ত নেওয়া।

এদিন রাজ্যপালের চিঠি ঘিরে একেবারে সেই ঢঙেই কড়া বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আর্থিক খরচ সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আচার্যের অনুমোদন নিতে হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে রাজভবনের তরফে। আর এই নির্দেশিকা ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাত্য।
তিনি বলেন, এই চিঠি রাজ্যকে একেবারে অন্ধকারে রেখে জারি করা হয়েছে। চিঠির বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি উপাচার্যদের কাছ থেকে। এহেন চিঠির আইনি বৈধতা নেই। এ বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। ব্রাত্য আবেদন করেন, এই চিঠি প্রত্যাহার করে নিন রাজ্যপাল। কারণ রাজ্য সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের সম্পর্ক প্রতিযোগীর নয় সহযোগীর। সেখানে সংঘাত বা দ্বন্দের কোনো জায়গা নেই।












Click it and Unblock the Notifications