নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ বিলওদের একাংশের, সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন শুভেন্দু
মঙ্গলবার থেকে ভোটার যাচাইয়ের কাজে নেমে পড়তে হবে বুথ লেভেল অফিসারদের। যদিও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় বিএলওদের একাংশ।
তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআরের বিরোধিতায় মঙ্গলবারই রেড রোডে বিআর আম্বেদকর মূর্তি থেকে জোড়াসাঁকো অবধি মিছিল করবে। যাতে হাঁটবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি আবার দাবি করছে, অনেক জায়গাতেই তৃণমূল নেতা-কর্মীরা বিএলও হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় কর্মসূচির (এসআইআর) জন্য আজ বুথ-স্তরের অফিসারদের (বিএলও) প্রশিক্ষণ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও তাঁদের কয়েকজন প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিভিন্ন জেলায় চলছে এবং ৩ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হবে পরের দিন থেকে।
দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে ভবানীপুর, রাসবিহারী, বালিগঞ্জ, টালিগঞ্জ, কসবা, যাদবপুর, মেটিয়াব্রুজ, বেহালা পূর্ব এবং বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিএলওদের প্রশিক্ষণ চলছে। এই প্রশিক্ষণ বিভিন্ন ব্যাচে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এসআইআর অনুশীলনের অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন বিএলওদের জন্য ১৬-দফা নির্দেশিকা জারি করেছে এবং ফিল্ড অপারেশনকে সুগম করতে একটি নতুন মোবাইল অ্যাপও চালু করেছে। প্রশিক্ষণের সময় বিএলওদের বিশেষ কিট এবং এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশাবলি প্রদান করা হচ্ছে।
৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার যাচাই এবং ফর্ম পূরণের কাজ করবেন। তবে, কিছু বিএলও প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, সঠিক নথি এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি করেছেন।
বিএলও হিসেবে নিযুক্ত শিক্ষকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন। প্রশিক্ষণকালে তাঁদের অনুপস্থিত হিসেবে চিহ্নিত করায় তাঁরা এর প্রতিবাদ জানান। তাঁরা জোর দিয়ে বলেছেন, বিএলওর কাজে তাঁদের অংশগ্রহণকে "অন ডিউটি" হিসেবে সরকারিভাবে নথিভুক্ত করা উচিত। যদিও সেই ব্যাপারে সুর্নিদিষ্ট আশ্বাস মিলছে না।
এ ছাড়াও, বিএলওদের একটি বড় অংশ প্রশিক্ষণ ও ফিল্ডওয়ার্ক উভয়ের জন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে তাঁরা কাজ থেকে বিরত থাকবেন।
নজরুল মঞ্চে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন যে নির্বাচন কমিশন উপস্থিতি বা প্রশিক্ষণের কোনও বৈধ প্রমাণপত্র দেয়নি, যা তাঁদের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পেশ করা যেতে পারে। দুর্গাপুরের মহকুমা অফিস (এসডিও) থেকেও একই ধরনের প্রতিবাদের খবর পাওয়া গিয়েছে, যেখানে বিএলওরা সম্মিলিতভাবে তাঁদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
একজন শিক্ষক বলেছেন, "আজ আমাদের যে ফর্ম দেওয়া হয়েছে, তাতে বিএলও প্রশিক্ষণের কোনও সরকারি উল্লেখ নেই। আমরা আমাদের স্কুলে এটি উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে দেখাতে পারব না। এর আগে, সঠিক নথি সরবরাহ করা হয়েছিল। আমরা আজকের জন্যও একই ধরনের সার্টিফিকেশনের দাবি করছি।"
আরেকজন অংশগ্রহণকারী যোগ করেছেন, "আমরা কাজ করতে ইচ্ছুক, তবে কমিশনকে আমাদের সঠিক নথি এবং নিরাপত্তা দিতে হবে। এগুলো ছাড়া আমরা কাজ চালিয়ে যেতে পারব না।"
কিছু অংশগ্রহণকারী দাবি করেছেন, আগের সেশনগুলিতে সঠিক সার্টিফিকেশন অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, শনিবার বিতরণ করা ফর্মগুলিতে প্রশিক্ষণের কোনও সরকারি উল্লেখ ছিল না। একজন শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, "একটি সরকারি সার্টিফিকেট ছাড়া, আমরা আমাদের স্কুলে প্রমাণ করতে পারব না যে আমরা বিএলও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলাম।"
নির্বাচন কমিশনের সূত্র নিশ্চিত করেছে যে প্রশিক্ষণ চলাকালীন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা মোতায়েন করা হবে না। কমিশন আরও জানিয়েছে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্য প্রশাসনের, এবং বৃহত্তর বুথে দুজন বিএলও নিয়োগের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ নির্বাচন কমিশনের। যদি কোথাও সমস্যা থাকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন বা আমি যোগাযোগ করব। আমি বিরোধী দলনেতা হিসেবে এবং বিজেপি দল হিসেবে আপনাদের কাজে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।












Click it and Unblock the Notifications