চম্পাহাটিতে ফের বিস্ফোরণ আতঙ্ক, উড়ল কারখানার ছাদ, দগ্ধ শ্রমিকরা, সুরক্ষায় বড় প্রশ্ন
চম্পাহাটি আবারও কেঁপে উঠল ভয়াবহ বিস্ফোরণে। সকালে আচমকাই তারা মা ফায়ারওয়ার্ক কারখানা থেকে ভেসে আসে বিস্ফোরণের শব্দ। মুহূর্তের মধ্যে উড়ে যায় ছাদ, আগুনে জখম হন ভিতরে কাজ করা চার শ্রমিক। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
খবর পেয়ে ছুটে আসে বারুইপুর থানার পুলিশ। ঘিরে ফেলা হয় বিস্ফোরণস্থল। স্থানীয়রা জানান, এইসব বাজি কারখানায় বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ যথেষ্ট পরিমাণে মজুত থাকে, কিন্তু সেখানে কোনও আলাদা সুরক্ষা বলয় নেই, নেই যথাযথ দূরত্ববিধিও। তাই স্বভাবতই উঠেছে প্রশ্ন অবহেলা ও নিয়মভঙ্গই কি এই দুর্ঘটনার মূল কারণ?

রাজ্যে এর আগে এগরা, দত্তপুকুর, কল্যাণী একাধিক বাজি কারখানায় এমন বিস্ফোরণের নজির রয়েছে। প্রতিবারই তীব্র ক্ষোভ, তদন্ত ও প্রশাসনিক আশ্বাসের পরও নিরাপত্তা মানদণ্ডে বিশেষ বদল না ঘটায় আবারও আঙুল উঠছে প্রশাসনের দিকেই। পুলিশের নজরদারির ঘাটতিও ফের বিতর্কে।
চম্পাহাটির বাসিন্দাদের দাবি, বাজি কারখানাগুলিকে ঘনবসতি থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহুদিন আগেই হয়েছিল। বেগমপুর মউজায় বাজি ক্লাস্টার গড়ার কথাও ছিল। এমনকি জমিও দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। কিন্তু প্রকল্পটি এখনও কাগজেই আটকে থাকায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগের অভাবেই বারবার ঘটছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াতেও উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপি নেতা তাপস রায় অভিযোগ করেন, "আমরা যেন বোমা বারুদের ওপরেই দাঁড়িয়ে আছি। সরকার যতদিন থাকবে, ততদিন এমন ঘটনা চলতেই থাকবে।"
নিত্যদিনের জীবনে বিস্ফোরণ আতঙ্ক চম্পাহাটির ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, সুরক্ষা ও নজরদারিতে গাফিলতি কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications