মমতার তীব্র সমালোচনায় শুভেন্দু ও শমীক, বাংলায় সরকার গঠনের বিষয়েও আত্মবিশ্বাসী বিজেপি
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিচারব্যবস্থার ওপর "রাজনৈতিক চাপ" সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তোলার পাশাপাশি সিঙ্গুরের "শিল্প অচলাবস্থার" জন্য রাজ্যের ভূমি নীতিকেই দায়ী করেন শমীক।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা রক্ষার কৌশল হিসেবে দেখছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা এবং মৃত ভোটারদের ভোটার তালিকায় রেখে নির্বাচনে জিততে তিনি কালো কোট পরে (আদালতে) গিয়েছেন। এটা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।" শমীক আরও অভিযোগ করেন, এমন কার্যকলাপ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতার পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, "যদি একজন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিচারব্যবস্থার ওপর কোনও আস্থা না রেখে সরাসরি আদালতে গিয়ে বসে থাকেন, তার মানে আপনি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে চান। বাকি ভারত স্তম্ভিত... পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব নেই।" রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে শমীক জানান, পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট সরকারের সিঙ্গুরে ভূমি অধিগ্রহণের "পদ্ধতির" বিরোধী ছিল বিজেপি।
তবে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকারের নীতি শিল্পক্ষেত্রে সকল অগ্রগতি থামিয়ে দিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসে তৃণমূল ঘোষণা করেছিল, তারা এক বর্গফুট জমিও অধিগ্রহণ করবে না। এটাই শিল্প বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় বাধা।" তিনি উল্লেখ করেন, রাজ্যের আবাদি জমির ৮২ শতাংশ খণ্ডিত এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের মালিকানাধীন।
বিজেপি যে মডেলটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে প্রস্তাব করেছিল, সেটিও স্মরণ করিয়ে দেন শমীক। হরিয়ানা বা পঞ্জাবের মতো এই মডেলে অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করে উন্নীত জমির একটি অংশ কৃষকদের ফেরত দেওয়া হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিঙ্গুরে জমির "চরিত্র বদলে গেলেও" এর এখনও যথেষ্ট শিল্প সম্ভাবনা রয়েছে।
শ্রমিকদের ব্যাপক হারে রাজ্য ত্যাগের বিষয়টিও তুলে ধরেন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, "পুরুষরা কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাওয়ায় একটার পর একটা গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে।" চলমান নির্বাচনী বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) সময় হয়রানির অভিযোগও খারিজ করে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি উল্টো দাবি করেন, বিজেপি কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
তাঁর অভিযোগ, দল বেশ কিছু জায়গায় ফর্ম জমা দিতে পারেনি এবং বুথ-স্তরের এজেন্টদের কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে, বিজেপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পশ্চিমবঙ্গে এসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দাবি জানিয়েছে বলেও জানান শমীক ভট্টাচার্য।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশি "অনুপ্রবেশকারীদের" "সুরক্ষা" দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে "চরমপন্থীদের সরকার" উৎখাত করার মনস্থির করেছে। শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে বিহারের মন্ত্রী মঙ্গল পান্ডের সঙ্গে দেখা করতে পাটনাতে রয়েছেন, যিনি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপিরও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ উন্মোচিত হয়েছেন... তিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছেন, আর এই কারণেই তিনি ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) বিরোধিতা করছেন।" পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা আরও দাবি করেন, "মানুষ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই উগ্রপন্থীদের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনের পর রাজ্যে 'সনাতনী সরকার' গঠিত হবে।"
শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির "ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা"র পর এখন পশ্চিমবঙ্গেই তাদের লক্ষ্য। তিনি যোগ করেন, "'অঙ্গ' (বিহার) এবং কলিঙ্গ (ওড়িশা)-এর পর এবার বাংলার পালা। এবার বাংলায় শুধু 'রাষ্ট্রবাদীদের' (জাতীয়তাবাদীদের) সরকার হবে।"












Click it and Unblock the Notifications