আর ৩ বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিলেই বিপাকে পড়ে যাবে বিজেপি, সিঁদুরে মেঘ পদ্মশিবিরে
বিজেপি ২০০ আসনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলার কুরুক্ষেত্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল। কিন্তু ২০০ আসন তো দূর অস্ত, তারা সেঞ্চুরি থেকেই দূরে রয়ে গিয়েছে। প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে। ৯৯ অতিক্রম করেনি বিজেপি।
বিজেপি ২০০ আসনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলার কুরুক্ষেত্রে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছিল। কিন্তু ২০০ আসন তো দূর অস্ত, তারা সেঞ্চুরি থেকেই দূরে রয়ে গিয়েছে। প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে। ৯৯ অতিক্রম করেনি বিজেপি। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা মাত্র ৭৭-এ থমকে গিয়েছে। কিন্তু এখন যেভাবে সেই সংখ্যা আবার কমতে শুরু করেছে, বিজেপি অন্য ভয় পেতে শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে চার বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে
ইতিমধ্যে চার বিজেপি বিধায়ক দল ছেড়েছেন। তাঁরা ফের ফিয়ে গিয়েছেন তাঁদের পুরনো দল তৃণমূলে। এই তালিকার সর্বাগ্রে রয়েছেন মুকুল রায়। কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক মুকুল রায় সুপুত্র বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। আর তাদের পথ ধরে আরও তিন বিধায়ক ইতিমধ্যেই তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়া বাকি তিন বিধায়ক হলেন বিষ্ণুপুরের তন্ময় ঘোষ, বাগদার বিশ্বজিৎ দাস ও কালিয়াগঞ্জের সৌমেন রায়।

৭৭ থেকে চার মাসে ৭১-এ নেমে এসেছে বিজেপি
চার বিধায়কের তৃণমূলে যোগদান ও দুই বিধায়কের পদত্যাগের ফলে আদতে বাংলার বিধানসভায় বিজেপির সদস্য সংখ্যা এখন কমে ৭১। ৭৭ থেকে তাঁরা চার মাসের মধ্যে ৭১-এ নেমে এসেছে। এখনও যেভাবে বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে বেসুরোর সংখ্যা বাড়ছে তাতে অশনি সংকেত দেখছে পদ্মশিবির। বিধায়কদের দলত্যাগে রাজ্যসভার ভোট নিয়ে না সমস্যায় পড়ে বিজেপি।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার লাইনে বিজেপির রাজ্যসভা বেলাইন
বিজেপি এবার বাংলা থেকে ৭৭টি আসনে জিতেছিল। ফলে রাজ্যসভার দুজন সাংসদ তাঁরা বাংলা থেকে পাঠাতে পারত। দলের হিসেব অনুযায়ী রাজ্য থেকে রাজ্যসভায় দু'জন সাংসদ পাঠাতে গেলে ৬৯ জন বিধায়ক দরকার। কিন্তু বিজেপি বিধায়করা যেভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার লাইন দিয়েছেন, তাতে সেই আশাও শেষ হয়ে যেতে বসেছে। পরিস্থিতি যা বিজেপি দু'জন সাংসদ পাঠাতে ব্যর্থ হবে।

সাতদিনের মধ্যে তিনজন বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে
সাতদিনের মধ্যে তিনজন বিজেপি বিধায়ক যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। এঁদের মধ্যে আবার একজন উত্তরবঙ্গের বিধায়কও রয়েছেন। উত্তরবঙ্গে এই প্রথম কোনও বড় নেতা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে এলেন। কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়ের যোগদানের পরদিনই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বিধায়ক বেসুরো বাজতে শুরু করলেন। বিজেপির একাংশ তো বিশ্বাস করতে শুরু করে দিয়েছেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীর তৃণমূলে যোগদান স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

বিজেপিতে সন্দেহভাজনের তালিকায় যাঁরা
আর বিজেপিতে সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছেন আর বেশ কয়েকজন বিধায়ক। রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীকে তাঁরা সবার উপরে রেখেছেন। এছাড়া উত্তরবঙ্গের আরও দুই বিধায়ক রয়েছেন, যাঁরা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরতে পারেন অচিরেই। আর দক্ষিণবঙ্গের তিনজন বিধায়ক রয়েছেন সন্দেহভাজনের তালিকায়। বিজেপি নেতৃত্বের কথায় সন্দেহের ছবিটা স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশ। আর যাঁদের নিয়ে সন্দেহের ছবি স্পষ্ট হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে একজন আলিপুরদুয়ার জেলার, একজন দক্ষিণ দিনাজপুরের, একজন নদিয়ার, একজন হুগলির এবং একজন জঙ্গলমহলের।

যদি সন্দেহভাজন ছ-জন তৃণমূলে যোগদান করেন
বিজেপি ছেড়ে যদি সন্দেহভাজন ছ-জন তৃণমূলে যোগদান করেন বা দল ছাড়েন, তাহলেই বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমে ৬৫-তে নেমে যাবে। তিনজন কমলেই বিজেপির অভীষ্ট সিদ্ধ হবে না। বিজেপি কমে ৬৮ হওয়া মানে দু'জন সাংসদকে পাঠাতে পারবে না রাজ্যসভায়। আর সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছে চিত্রটা। বিজেপি নিয়মিত ব্যবধানে কমছে বাংলার বিধানসভায়।

ফুল টিম নামিয়েও বিজেপি বাংলায় আটকে যায় ৭৭-এ
এবার তৃণমূলকে সরিয়ে রাজ্যে পরিবর্তনের সরকার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিল বিজেপি। সেইমতো তাঁরা ২০০ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছিল। কিন্তু মমতা বন্যোিলপাধ্যায়ের ক্যারিশ্মা, প্রশান্ত কিশোরের সুদক্ষ গেমপ্ল্যান আর অভিষেক বন্যোর পাধ্যায়ের হার না মানা মানসিকতায় বিজেপির ফুল টিম আটকে যায় ৭৭-এ। এমনকী মোদী-শাহ রাজ্যে ঘরঘাট ফেলে দেওয়া সত্ত্বেও কোনও ফায়দা তুলতে পারেনি বিজেপি। এক পায়েই বাংলার কুর্সির দখল রাখেন মমতা বন্যোযাপাধ্যায়। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে তিনি পায়ে চোট পান। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস আরও বেশিসংখ্যক আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে।

৩ থেকে বেড়ে ৭৭, ৭৭ থেকে কমে...
তবে বিজেপি ৩ থেকে বেড়ে ৭৭ হয়। এটা অবশ্যই কৃতিত্ব। তাঁদের স্বপ্নপূরণ না হলেও প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রাজ্যে স্বীকৃতি মিলেছে এই প্রাপ্তি। বিজেপি এই ৩ থেকে বেড়ে ৭৭-এর সমীকরণকেই পাথেয় করে দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে। কিন্তু দিন দিন ৭৭ থেকে কমে যাওয়া পদ্মশিবিরকে নিরাশ করে তুলছে। সেই নিরাশার বাণী শোনা যাচ্ছে নেতা-নেত্রীদের গলাতেও।












Click it and Unblock the Notifications