আদিবাসী আবেগে পিছোচ্ছে নবান্ন অভিযান! জোড়া অস্ত্রে শান দেওয়াই লক্ষ্য বিজেপির
তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সেই নবান্ন অভিযান চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু ওইদিনের নবান্ন অভিযান পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি।
তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সেই নবান্ন অভিযান চূড়ান্ত হয়েছিল। কিন্তু ওইদিনের নবান্ন অভিযান পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, ৭ সেপ্টেম্বরের নবান্ন অভিযান আরও ৬ দিন পিছিয়ে যেতে পারে। নবান্ন অভিযান হতে পারে ১৩ সেপ্টেম্বর।

কিন্তু কেন নবান্ন অভিযান পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিল বিজেপি? যখন হাতে-গরম ইস্যু রয়েছে তাঁদের কাছে, তখন কেন বিজেপির নবান্ন অভিযান পিছিয়ে দেওয়া হল, তার একটা মহার্ঘ্য কারণ রয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হয়েছেন। তারপর গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন অনুব্রত মণ্ডলও। তার থেকেও বড় কী এমন কারণ, যেখানে বিজেপি নবান্ন অভিযান পিছিয়ে দিল?
পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডল দুর্নীতি-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার পরও বিজেপি সেভাবে আন্দোলনকে জোরদার করতে পারেনি। তা নিয়ে ঘরে-বাইরে সমালোচিত হচ্ছে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব। সেই অবস্থায় রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ঝড় তুলতে তারা নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল। কিন্তু আদিবাসী আবেগ কাজে লাগাতে তারা নবান্ন অভিযান পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।
ঠিক কী করাণে দিন বদল করা হচ্ছে নবান্ন অভিযানের, তাও স্পষ্ট হয়েছে। এখন শুধু বিজেপির ঘোষণার অপেক্ষা বলে বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, আদিবাসী মহল্লায় বড় উৎসব হল করম পরব বা করম পুজো। সেই পুজোয় কোনওভাবে আঘাত দিতে চাইছে না বিজেপি। তাই করম পরব কাটল নবান্ন অভিযান করবে বিজেপি।
আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক কোনওভাবেই আঘাত দিতে চাইছে না পদ্মশিবির। তাই তাঁদের ভাবাবেগ কোনওভাবে ধাক্কা লাগুক, তা একেবারেই চায় না বিজেপি। গতবার অর্থাৎ ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে এবং ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে মাইলেজ দিয়েছিল আদিবাসী ভোট। আবার তা নিজেদের পালে ফেরাতে চাইছে বিজেপি।
তাই আদিবাসীদের করম পরবকে মাথায় রেখেই নবান্ন অভিযানের নতুন দিন করতে চায় গেরুয়া শিবির। বিজেপির যুক্তি, পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত মণ্ডলের ইস্যু তাদের হাতেই রয়েছে। এই দুর্নীতি ইস্যুতে লাগাতার আন্দোলন চলছে। তাকে বৃহত্তর রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তা যদি দুদিন পরেও হয়, তাতে এমন কোনও সমস্যা তৈরি হবে না। কিন্তু সেই আন্দোলন নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে আঘাত দিতে পারবে না বিজেপি।
বিজেপির নবনিযুক্ত পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল দুই অস্ত্রকেই ব্যবহার করতে চাইছে। সেই কারণেই পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল বিজেপির নবান্ন অভিযান। তারপর অভিযান পিছিয়ে দেওয়ার আরও একটি কারণ, ৭ সেপ্টেম্বর করম উৎসবের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নবান্ন বন্ধ থাকবে। তাহলে অভিযান করা কি আদৌ যুক্তিযুক্ত হবে। সেই ভাবনা থেকেই কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications