তৃণমূলের বিরুদ্ধে মহাজোট পঞ্চায়েত নির্বাচনে! পাহাড়ে বিজেপির নেতৃত্বে এককাট্টা গুরুংরা
২০ বছর পর পাহাড়ে পঞ্চায়েত নির্বাচন হচ্ছে। স্বভাবতই খুশির হাওয়া পাহাড়বাসীর মনে। এই অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলিও প্রস্তুত এই নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য। ভোট ঘোষণা হতেই পাহাড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মহাজোট গড়ে উঠতে পারে বলে জল্পনা চলছে।
বিজেপির নেতৃত্বে পাহাড়ে তৃণমূল বিরোধী মহোজোট গড়ে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। আবারও বিমল গুরুং বিজেপিক দিকে ঝুঁকতে চলেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে গুরুংয়ের।

পাহাড়ের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এবার বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা বিজেপি ও অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টির সঙ্গে জোট করে লড়তে পারে। আবার বিজেপির সঙ্গে রয়েছে জিএনএলএফ-সহ একাধিক পাহাড়ি দল। ফলে পাহাড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মহাজোট গড়ে উঠতে পারে।
শনিবার বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তের সঙ্গে গোর্খা জনমুক্তি প্রধান বিমল গুরুং ও হামরো পার্টির প্রধান অজয় এডওয়ার্ডের মধ্যে বৈঠক হয়। এদিকে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত আবার বৈঠক করেন তাদের জোটসঙ্গী জিএনএলেফ, সিপিআরএম, অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগ-সহ পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে।
বিজেপি এখন চাইছে মহোজাট করে পাহাড়ে পঞ্চায়েত জখল করতে। রাজু বিস্ত এদিনে খোলাখুলিই বলেন, এটা পৃথক রাজ্যের জন্য নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নের জন্য। তাই আমরা পাহাড়ের উন্নয়নের স্বার্থে, পাহাড়বাসীর স্বার্থে মহোজাট করতে চাই।

পাহাড়ে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিজেপি। যতই তারা তিন তিনবার লোকসভায় প্রতিনিধি পাঠাক পাহাড় থেকে। তা যে শুধু পাহাড়ি দলগুলির সমর্থনের কারণেই হয়েছে তা জানে রাজনৈতিক মহল। বিজেপিও জানে সে কথা। সেই কারণেই পাহাড়ি দলগুলিকে এক করে বিজেপি এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোরদার লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে চাইছে।
পাহাড়ে এই মুহূর্তে সবথেকে শক্তিশালী দল হল অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা বা বিজিপিএম। বিজিপিএম তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে বর্তমানে পাহাড়ের প্রশাসক দল। দার্জিলিং পুরসভাও এখন বিজিপিএমের দখলে। একদিকে যখন বিজিপিএম-তৃণমূল, অন্যদিকে বিজেপি গুরুংয়ের দল-সহ অন্যান্য পাহাড়ি দলকে একত্রিত করে জোরদার লড়াই দিতে চাইছে।

এদিন সাংসদ রাজু বিস্তের বাসভবনে জোটসঙ্গীদের নিয়ে গোপন বৈঠক হয়। দফায় দফায় এই বৈঠক চলে। জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাজু বিস্ত বলেন, জোটসঙ্গীরা যে যেখানে শক্তিশালী, সে সেখানে নিজেদের প্রতীকে লড়বে।
সাংসদ রাজু বিস্ত বলেন, গ্রামের নির্বাচনের গ্রামের লোকেরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে এখনও মহাজোট চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করেই তা জানানো হবে। এবং লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করা হবে।












Click it and Unblock the Notifications