পঞ্চায়েত ভোটের লক্ষ্যে ময়দানে নেমে পড়ল বিজেপি, বুথ ‘দখলে’ শুরু সশক্তিকরণ অভিযান
প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে এমন কয়েকটি বুথকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যে বুথগুলিতে গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে ভোটে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল।
পঞ্চায়েত নির্বাচন কড়া নাড়ছে বাংলায়। যে কোনও দিন ঘোষণা হতে পারে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার ভোট। তার আগে বুথ সশক্তিকরণ অভিযানে নেমে পড়ল বিজেপি। রবিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের ১০ নম্বর অমৃতখণ্ড পঞ্চায়েতের খানপুর এলাকায় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করে তিনি জানান, রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি চলবে। সেইমতো এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর ছাড়াও অন্যান্য জেলায় বুথ সশক্তিকরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এবার থেকে নিয়ম করে এই কর্মসূচি চলবে।

মূল অনুষ্ঠানটি হয় দক্ষিণ দিনাজপুরে। সেই অনুষ্ঠানে সুকান্ত মজুমদার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত গ্রামবাসীদের মধ্য থেকে বুথ সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আগামীদি্নে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিটি বুথে দুজন করে কার্যকর্তার মাধ্যমে এই কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিজেপি নেতৃত্ব।
এদিনের কর্মসূচিতে নিজেদের অসুবিধার কথা তুলে ধরেন গ্রামবাসীরা। গ্রাম থেকে প্রধান সড়কে ওঠার প্রায় দু'কিলোমিটার রাস্তা সারাইয়ের দাবিতে সরব হন সকলে। ফলে গ্রাম সশক্তিকরণ কর্মসূচিতে বাসিন্দাদের মৃদু বিক্ষোভও লক্ষ্য করা গেছে। রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, বুথ সংগঠন শক্তিশালী করতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে বুথকে শক্তিশালী করতে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার লাউদোহা তিন নম্বর মণ্ডলের বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা এলাকার কুচডিহি গ্রামের বেশ কয়েকটি বুথে বুথে প্রচার অভিযান চালালেন। বুথ সশক্তিকরণ অভিযানের নামে এই প্রচার অভিযান চলে। পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপির আহ্বায়ক রূপক পাঁজা জানান, জানান এদিন লাউদোহা তিন নম্বর মণ্ডলের কুচডিহিগ্রামে বুথ সশক্তিকরণ অনুষ্ঠানটি হল। এটি প্রতি গ্রামেই হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে এমন কয়েকটি বুথকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যে বুথগুলিতে বিজেপির জয় নিশ্চিত, অথচ গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল নেতাকর্মীরা সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে ভোটে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। তাই সেই সব বুথগুলিতে সশক্তিকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে জাগিয়ে তোলা হবে।
এদিনের কর্মসূচিতে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও জেলা নেতৃত্ব মানুষের অভাব ও অভিযোগের কথা শোনেন। রূপকবাবু জানান, মানুষের তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ বেড়েছে। তবে শাসকদলের ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ তাঁরা। তবে পাণ্ডবেশ্বর বিজেপির আহ্বায়ক আশাবাদী আগামী পঞ্চায়েত ভোটে এই এলাকা থেকে তৃণমূল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ফের বিজেপির ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হবে পাণ্ডবেশ্বর।












Click it and Unblock the Notifications