এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মনোভাবে উচ্ছ্বসিত বিজেপি, মমতার জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টায় কড়া জবাব বলে দাবি
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে কড়া প্রতিক্রিয়া বিজেপির। বিজেপির মতে, SIR-এর বিষয়ে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার 'কড়া জবাব'।
বিজেপি আরও দাবি করে, গণতন্ত্রের পথ ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর আর উপায় নেই।

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনে (SIR) কোনও বাধা বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচন কমিশনের নোটিশ পোড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে হলফনামা জমা দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৯ জানুয়ারির আদেশে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও এন. ভি. অঞ্জারিয়ার একটি বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, পশ্চিমবঙ্গের ডিজি, সকল জেলার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকদের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভোটার তালিকা সংশোধনে (SIR) নির্বিঘ্নে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, " ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় যে কোনও আদেশ বা ব্যাখ্যা দেবে, কিন্তু এসআইআর-এ কোনো বাধা হতে দেবে না... আমি মনে করি এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য কড়া জবাব, যিনি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছিলেন।"
পাত্র অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রক্রিয়াকে 'গণতন্ত্রবিরোধী' এবং পশ্চিমবঙ্গের বিরুদ্ধে 'ষড়যন্ত্র' আখ্যা দিয়ে এটি বন্ধের দাবি তুলেছিলেন।
তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, "সুপ্রিম কোর্টে ভারতীয় গণতন্ত্রের বড় জয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিকটিম কার্ডের কৌশল ব্যর্থ। যারা এসআইআর নিয়ে বাংলা ও দেশকে বিভ্রান্ত করছিল, আজ সুপ্রিম কোর্টে তাদের পরাজয় ঘটেছে।"
পাত্র দাবি করেন, শীর্ষ আদালত পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রধানকে যে শোকজ নোটিশ দিয়েছে, সেটি এক প্রকার মুখ্যমন্ত্রীকেই। তিনি যুক্তি দেন, "আপনাকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বিভিন্ন দায়বদ্ধতার কারণে শোকজ করা হয়েছে। ডিজি আপনার অধস্তন কর্মকর্তা, এই দায় সম্পূর্ণ আপনার।"
বিজেপি নেতা আশা করেন, সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 'কিছু শিক্ষা' নেবেন, গণতন্ত্রের পথ অনুসরণ ছাড়া তাঁর উপায় নেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপ্রত্যাশিত আচরণের কারণে তাঁর প্রকৃতি নিয়ে এখনও সন্দিহান। অতীতে দেখা গিয়েছে, আদালতের রায় সত্ত্বেও তিনি হিংসা ও অসহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছেন।
বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য জানান, রাজ্য সরকারের দাখিল করা আর্জি সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য 'বড় ধাক্কা'। এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, "আদালত দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) বহাল রেখেছে এবং স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে নির্বাচন কমিশনের বিধিবদ্ধ ক্ষমতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছে।"
মালব্য আরও বলেন, আদালতের এই নির্দেশ 'সাধারণ সত্য'কে জোরদার করেছে যে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং বাংলায় আইনের শাসনই প্রতিষ্ঠা পাবে।
তিনি যোগ করেন, "যদি রাজ্য সরকার আগে দায়িত্বশীল আচরণ করত, তাহলে বাংলার সাধারণ নাগরিকদের 'হয়রানির' শিকার হতে হতো না, যাকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই 'হয়রানি' বলেছিলেন।"
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ও পশ্চিমবঙ্গকে দেওয়া নির্দেশকে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রতি 'কড়া চপেটাঘাত' বলে আখ্যা দেন। 'এক্স' বার্তায় তিনি বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিথ্যার মুখোশ সম্পূর্ণ খুলে দিয়েছে।"












Click it and Unblock the Notifications