মুকুল-কৈলাশের কর্তৃত্বে খর্ব হচ্ছে আদি নেতাদের ক্ষমতা, বঙ্গ বিজেপিতে কি শুরু মুষলপর্ব
মুকুল-কৈলাশের কর্তৃত্বে খর্ব হচ্ছে আদি নেতাদের ক্ষমতা, বিজেপিতে কি শুরু মুষলপর্ব
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতেও অন্তর্দ্বন্দ্ব চরমে। বিশেষ করে তৎকাল বিজেপির সঙ্গে আদি বিজেপির লড়াই এখন তুঙ্গে উঠেছে। বর্তমানে বঙ্গ বিজেপিতে তৎকালদের আধিপত্য ও প্রতিপত্তি বেড়েছে। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসা মুকুল রায়ের গুরুত্ব বৃদ্ধিতে বিজেপির আদিনেতারা হালে পানি পাচ্ছে না। ফলে বিজেপিতে অশনি সংকেত দেখা দিতে চলেছে।

বিজেপিতে নব্য নেতাদের বাড়বাড়ন্ত আদিদের চক্ষুশূল
২০২১-কে পাখির চোখ করে বিজেপি এগনোর পরিকল্পনা করেছে এবার। কিন্তু বাংলায় নির্বাচনের ছ-মাস আগেও বিজেপি কোন্দল মুক্ত নয়। কার নেতৃত্বে লড়বে বিজেপি, তা যেমন ঠিক হয়নি, তেমনই বিজেপিতে নব্য নেতাদের বাড়বাড়ন্তও ভালো চোখে দেখছেন না আদি নেতা-কর্মীরা। ফলে আসন্ন নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে।

মুকুল সর্বভারতীয় সহসভাপতি হওয়ার পর বদলাচ্ছে হাওয়া
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে মুকুল রাযের একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল বিজেপিকে সাফল্য এনে দেওয়ার পিছনে। কিন্তু তারপর মুকুল রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে যান এবং ব্যাটন থাকে দিলীপ ঘোষের হাতে। কিন্তু সম্প্রতি মুকুল রায় বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি হওয়ার পর থেকেই হাওয়া বদলাতে শুরু করেছে।

মুকুল-অনুগামী নেতার কাছে পদ খোয়াতে হয়েছে রাহুলকে
মুকুল রায়ের গুরুত্ব বৃদ্ধির দিনেই বঙ্গ বিজেপির অন্যতম মুখ রাহুল সিনহাকে প্যাভিনিয়নে পাঠিয়ে দিয়েছেন মুকুল রায়। রাহুল সিনহা ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে আসা মুকুল-অনুগামী নেতা অনুপম হাজরা। তার প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিল বিজেপি। রাহুল সিনহাও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর সব চুপচাপ।

সৌমিত্র নবান্ন অভিযানে দিলীপ একা পড়েছিলেন একধারে
তারপর থেকেই দিলীপ ঘোষকে আড়ালে রেখে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এবং মুকুল রায় রাজ্যে ছড়ি ঘোরাচ্ছিলেন। এরই মাদঝে সৌমিত্র খানের নেতৃত্বে যুব মোর্চা নবান্ন অভিযানে দেখা গিয়েছে তা আসনে মুকুল-অনুগামী নেতাদের আস্ফালন ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সেখানে দিলীপ একা পড়েছিলেন একধারে। বাকিরা অন্যদিকে। আর রাহুল তো আসেননি।

দিলীপের ডানহাত সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে
দিলীপ এরপর নিজের কর্তৃত্ব যাচাই করতে মুকুল-ঘনিষ্ঠ সৌমিত্র খানের সমস্ত কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। সৌমিত্র প্রথমে জেহাদ ঘোষণা করলেও, বিজয়ায় দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি হয়েছে তার। কিন্তু তারপর দিনই দিলীপ ঘোষের জন্য এসেছে অতি খারার খবর। তাঁর ডানহাত সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সম্পাদক (সংগঠন)-এর পদ থেকে।

দিলীপকে নিয়ে মুকুল-কৈলাশের বার্তার পরও থামছে না কোন্দল
সুব্রতর অপসারণের প্রতিবাদে দিলীপ ঘোষও পদত্যাগ করতে পারেন, এই সম্ভাবনা নিয়ে যখন চর্চা চলছে অবিরত, তখন মুকুল রায় আর কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সাফ জানিয়েছেন, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বেই লড়াই হবে ২০২১-এ। দিলীপ ঘোষই বাংলার বিজেপি সভাপতি, তা নিয়ে কোনও মতভেদ নেই।

বিজেপির আদি নেতারা কোণঠাসা মুকুল-ঘনিষ্ঠের ভিড়ে
কিন্তু নিচতুলার বিজেপি নেতা-কর্মীরা এই বিবৃতিতে ভুলছে না। তাঁরা দেখেতে পাচ্ছেন ক্রমেই বিজেপির আদি নেতারা কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে। সেখানে তৃণমূল ছেড়ে আসা তৎকাল নেতারাই সামনের সারি আলোকিত করে বসে আছেন। মুকুল রায় থেকে শুরু করে অনুপম হাজরা, সৌমিত্র খান, সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং-সহ তৃণমূল নেতারাই বিজেপির অগ্রভাগে।

দিলীপ ঘোষের আপ্ত সহায়েক পোস্টই ক্ষোভের প্রমাণ
তাই ক্ষোভ বাড়ছেই প্রতিনিয়ত। তার প্রমাণও মিলেছে ইতিমধ্যে। খোদ দিলীপ ঘোষের আপ্ত সহায়ক দেব সাহা সম্প্রতি ফেলবুকে পোস্ট করেছিলেন, বর্গি দেশের এক উজির বারবার পশ্চিমবঙ্গে আঘাত হানছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কিছু বর্গি পেয়াদা। এই পোস্টই এখন বি্জেপির নিচতুলার কর্মীদের মনের কথা হয়ে উঠেছে। আর নিশানা সেই মুকুল-কৈলাশকেই।












Click it and Unblock the Notifications