বিজেপির কত জন বিধায়কের যোগদান অভিষেকের মঞ্চে! বিরাট ভাঙনের জল্পনা বিপ্লব-শিবিরে
২০২২-এ বিজেপি সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে ত্রিপুরার মাটিতে শক্তি প্রদর্শনে নামছে তৃণমূল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং মিছিল করবেন ত্রিপুরায়।
২০২২-এ বিজেপি সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে ত্রিপুরার মাটিতে শক্তি প্রদর্শনে নামছে তৃণমূল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং মিছিল করবেন ত্রিপুরায়। আর অভিষেকের নেতৃত্বে এই শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চেই বিজেপির বিরাট ভাঙন নামতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।

অভিষেকের ব়্যালিতে তৃণমূলের ঝান্ডা ধরবেন বিজেপি বিধায়ক!
আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আগরতলায় অভিষেকের নেতৃত্বে ওই পদযাত্রা হওয়ার কথা। ত্রিপুরা তৃণমূলের দাবি, ওই দিন অভিষেকের হাত ধরে বিজেপির বেশ কয়েকজন বিধায়ক যোগ দিতে পারেন তৃণমূল। তৃণমূলের ঝান্ডা হাতে তাঁরা অভিষেকের নেতৃত্বে হাঁটতে পারেন মিছিলে। ত্রিপুরা রাজনীতিতে আসতে পারে বিরাট পরিবর্তন।

বিজেপির পায়ের তলার মাটি আলগা হচ্ছে ত্রিপুরায়
এতদিন ত্রিপুরার মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনের সারিতে ছিলেন রাজ্য সভাপতি আশিসলাল সিংহ। কিন্তু কংগ্রেস ছেড়ে সুবল ভৌমিক তৃণমূলে যোগ দিতেই তাঁকে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে। সুবল ভৌমিক বিজেপি বিধায়কদের তৃণমূলে যোগদান প্রসঙ্গে বলেন, সম্ভাবনা তো আছেই। প্রতিদিন যেভাবে ত্রিপুরার মানুষ তৃণমূলের দিকে ঝুঁকছেন বিজেপি বুঝতে শুরু করেছে তাদের পায়ের তলার মাটি আলগা হচ্ছে।

অনেক বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে
ত্রিপুরায় তৃণমূল শক্তি বাড়াচ্ছে। কংগ্রেস ভেঙে ইতিমধ্যেই সামনের সারির বেশ কয়েকজন যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। সিপিএম ছেড়েও নেতা-কর্মীরা তৃণমূলের দিকে এসেছেন। বিজেপি ছেড়েও অনেকে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। তবে বিজেপির বড় নেতারা এখনও কেউ ছেড়ে আসেননি। অনেক বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বে বিজেপির একাংশ জোট পাকাচ্ছে
ইতিমধ্যে সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বে বিজেপির একাংশ কলকাতায় গিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক করে যান বলে সূত্রের খবর। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই জল্পনা, তবে কি এবার সুদীপ অনুগামী বিধায়করা অভিষেকের সভায় এসে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেবেন? তা নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিপুরা সফর শুরুর আগে।

সুদীপ অনুগামী বিজেপি বিধায়করা যোগ দেবেন তৃণমূলে!
সুদীপ অনুগামী বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে, যাঁরা অভিষেকের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। সুদীপ অনুগামীদের মধ্যে নাম রয়েছে সুরমার বিধায়ক আশিস দাস, বরদোয়ালির বিধায়ক আশিস সাহা, ওম্পির বিধায়র বুর্বুমোহন ত্রিপুরা ও ঊনোকোটি জেলার বিধায়ক দিবাচন্দ্র রাঙ্খেল।

সুদীপ রায় বর্মন যে বিজেপিতে কোণঠাসা
যদিও বিজেপির তরফে এই সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির কথায়, তৃণমূল হাওয়া গরম করার জন্য এসব কথা বলছে। এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। সুদীপ রায় বর্মনের অনুগামীরা তাই কী করবেন, সেদিকেই দৃষ্টি রাজনৈতিক মহলের। তবে সুদীপ রায় বর্মন যে বিজেপিতে কোণঠাসা তা পরিষ্কার।

বিপ্লবের চালে মাত সুদীপ রায় বর্মন এখন জল মাপছেন
ত্রিপুরা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সুদীপ রায় বর্মন এখন জল মাপছেন। বিপ্লবের চালে তিনি খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। সুদীপ রায় বর্মনের শিবিরে ভাঙন ধরিয়ে দিয়েছেন বিপ্লব দেব। সুদীপ-অনুগামী দুই বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন। তাতেই তিনি দলের ভাঙন অনেকটা রুখতে সমর্থ হয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

নতুন করে অঙ্ক কষতে শুরু করেছে তৃণমূল
ত্রিপুরা ৬০ আসনের বিধানসভা। এবার এখানে চার-পাঁচটা আসন বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। তাই দু-পক্ষই জল মাপছে। এবং অঙ্ক কষে এগনোর চেষ্টা করছে। বার্গেনিং পলিটিক্সের জন্য রাস্তা খোলা রাখছেন সুদীপ রায় বর্মন বা বিপ্লব দেবরা। এর মধ্যে সুদীপপন্থী সুশান্ত চৌধুরী ও রামপ্রসাদ পালকে মন্ত্রী করে যে ঝটকা দিয়েছেন বিপ্লব দেব, তা সামলাতে নতুন করে অঙ্ক কষতে শুরু করেছেন সুদীপ রায় বর্মন।

ত্রিপুরার রাজনীতি একপ্রকার ঘেঁটে, সমীকরণের ছড়াছড়ি
ত্রিপুরায় জাতি, জনজাতি, বাঙালি, হিন্দু-মুসলমান সমীকরণের অঙ্ক ভালোই জানেন সুদীপ। তারপর রয়েছে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল, আইপিএফটি ও প্রদ্যোৎ কিশোর বর্মনের তিপ্রামথার ভোট ভাগের অঙ্ক। বর্তমানে ত্রিপুরার রাজনীতি একপ্রকার ঘেঁটে রয়েছে। এই অবস্থায় ভোট ভাগাভাগি, আসন সমঝোতা- এমন নানা সমীকরণ রয়েছে।

বিজেপির মতোই ত্রিপুরার কুর্সি দখলের চেষ্টায় তৃণমূল
এমতাবস্থায় শেষপর্যন্ত ত্রিপুরায় আদৌ কোনও দলবদল হবে কি না তা নিয়েই সংশয় থাকছে। দলবদল হলেও কে বা কারা তৃণমূলে যোগ দিতে পারে, সেসব নিয়েও চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল ত্রিপুরায় একটা সময় দলবদলের ফেরে বিধানসভার বিরোধী দল হয়েছিল। এখন আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হচ্ছে। আর ২০১৮-র আগে শূন্য থেকে শুরু করেই বিজেপি কুর্সি দখল করেছিল। এবার একইভাবে ত্রিপুরার কুর্সি দখলের চেষ্টায় তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications