১০ জন বিধায়কও থাকবেন না বিজেপিতে, যদি...! গোষ্ঠীকোন্দলে সাংসদ বনাম বিধায়ক

বিজেপিতে সাংসদ বনাম বিধায়কের দ্বন্দ্ব। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে সরব। ভোট পরবর্তী গেরুয়া শিবির নাজেহাল বিধায়ক-সাংসদ, নেতা-নেত্রীদের বিরোধ মেটাতে। কয়েকদিন আগেই বেসুরো বেজেছিলেন বিজেপির রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী।

বিজেপিতে সাংসদ বনাম বিধায়কের দ্বন্দ্ব। এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে সরব। ভোট পরবর্তী গেরুয়া শিবির নাজেহাল বিধায়ক-সাংসদ, নেতা-নেত্রীদের বিরোধ মেটাতে। কয়েকদিন আগেই বেসুরো বেজেছিলেন বিজেপির রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। এবার সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এল।

এক বিধায়ক দলবদলের পরই বিজেপিতে বেসুরো আরও এক

এক বিধায়ক দলবদলের পরই বিজেপিতে বেসুরো আরও এক

এই প্রথম উত্তরবঙ্গ বিজেপিতে বড় ফাটল ধরিয়ে বিধায়ক দলবদল করেছেন। সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়। তার পরদিনই বিজেপিতে বেসুরো বেজেছেন উত্তরবঙ্গের আর এক বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তিনি মন্তব্য করেন বিজেপি কাজ করার উপযুক্ত প্লাটফর্ম নয়। তারপর থেকেই জল্পনা চলছিল।

বিধায়ক বনাম সাংসদ দ্বন্দ্ব বিজেপিতে

বিধায়ক বনাম সাংসদ দ্বন্দ্ব বিজেপিতে

এরপর কৃষ্ণ কল্যাণীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। বিধায়ক নাকি দলীয় কার্যালয়ে সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর ছবি ঢেকে দিয়েছেন। তার প্রতিক্রিয়ায় আবার বিরূপ মন্তব্য করেন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তিনি বলেন, তাঁর জনপ্রিয়তায় অখুশি ছিলেন সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী। তাই তাঁকে হারাতে চেয়েছিলেন তিনি। এমনকী তিনি দল থেকে তাঁকে তাড়ানোর চক্রান্ত করছেন বলেও অভিযোগ করেন।

উনি নাকি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন!

উনি নাকি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন!

সম্প্রতি রায়গঞ্জের সুপার মার্কেট সংলগ্ন বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের বাইরের গেট ও সামনের পোস্টারে থাকা দেবশ্রী চৌধুরীর ছবি সাদা কাগজে ঢেকে দেওয়া হয়। তারপরই বিধায়ক বনাম সাংসদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। দেবশ্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, উনি রায়গঞ্জ থেকে বিধানসভায় দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। উনি নাকি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন।

সাংসদ নাকি বিজেপি রাজ্য সভানেত্রী হবেন

সাংসদ নাকি বিজেপি রাজ্য সভানেত্রী হবেন

এখানেই শেষ নয়। কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, এখন শুনছি রায়গঞ্জের সাংসদ নাকি বিজেপি রাজ্য সভানেত্রী হবেন। তাই যদি হয়, তাহলে বিজেপিতে ১০ জন বিধায়কও থাকবেন না। সাংসদের বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা ভাষায় এই মন্তব্য করেন রায়গঞ্জের বিধায়ক। একটা সময় দেবশ্রী চৌধুরীর হাত ধরেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এখন সেই দেবশ্রীর সঙ্গেই তাঁর অহি-নকুল সম্পর্ক।

তবে কি কৃষ্ণ কল্যাণী দলবদলের পথেই হাঁটছেন

তবে কি কৃষ্ণ কল্যাণী দলবদলের পথেই হাঁটছেন

এখন প্রশ্ন বারবার কৃষ্ণ কল্যাণীর এই বেসুরো হওয়া, দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা, সাংসদের বিরুদ্ধাচারণ করা কীসের ইঙ্গিত। তবে কি কৃষ্ণ কল্যাণী দলবদলের পথেই হাঁটছেন। তিনি কি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে দিয়েছেন। দলবদলের জল্পনা সমূলে উড়িয়ে দিয়েছেন রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক। তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দল থেকে কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

কৃষ্ণর মানসিক সমস্যা! মানসিক অবসাদ দেবশ্রীর

কৃষ্ণর মানসিক সমস্যা! মানসিক অবসাদ দেবশ্রীর

কৃষ্ণ কল্যাণীর এহেন মন্তব্য নিয়ে সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কৃষ্ণর মানসিক সমস্যা হয়েছে। আমি ওর ব্যাপারে কিছু বলব না। আমি সংগঠন করে উঠে এসেছি। তাই আলপটকা মন্তব্যের কোনও জবাব দিতে আমি চাই না। কৃষ্ণ কল্যাণী তার পাল্টা দিয়েছেন, কেউ কিছু হারালে ডিপ্রেশন হয়। আমি তো কিছু হারাইনি। হারিয়েছেন উনি। তাই ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ ওনার হওয়ার কথা। কারণ ওনার মন্ত্রিত্ব চলে গিয়েছে!

বাংলাজুড়েই বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল চরমে

বাংলাজুড়েই বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল চরমে

শুধু রায়গঞ্জ বা উত্তরবঙ্গ বিজেপিতে নয়, বাংলাজুড়েই বিজেপিতে গোষ্ঠীকোন্দল চরম আকার নিয়েছে। তার জেরে বিজেপি ভাঙন সমস্যায় জর্জরিত। রায়গঞ্জের পাশাপাশি বনগাঁ বিজেপির সাংগঠনিক জেলাতেই চরম আকার নিয়েছে কোন্দল। সেখানে আবার বিজেপির সাংসদ বনাম বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতির বিবাদ।

দলে ভাঙন রোখার জন্য বিজেপির বৈঠক ভাঙাহাট

দলে ভাঙন রোখার জন্য বিজেপির বৈঠক ভাঙাহাট

সম্প্রতি বাগদার বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। তারপর দলে ভাঙন রোখার জন্য বিজেপি একটি বৈঠক ডাকে। সেখানে সংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়। কিন্তু সাংগঠনিক জেলার তাবড় নেতারা গরহাজির ছিলেন। ছিলেন না খোদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি, ছিলেন না মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দুলাল বর-সহ অনেকেই।

বিজেপিতে ১০ বিধায়ক থাকবে কি না সন্দেহ!

বিজেপিতে ১০ বিধায়ক থাকবে কি না সন্দেহ!

ইতিমধ্যে বিজেপির চার বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। মুকুল রায় থেকে শুরু করে কালিয়াগঞ্জের সৌমেন রায়, আর মাঝে বিষ্ণুপুরের তম্নয় ঘোষ ও বাগদার বিশ্বজিৎ দাস বিজেপি ছাড়েন। বিজেপি এক ধাক্কায় নেমে আসে ৭৭ থেকে ৭১-এ। আগেই বিজেপির দুই বিধায়ক ইস্তফা দিয়ে সাংসদ পদকে বেছে নিয়েছিলেন। এখন আবার আরও জনা ২৫-এক বিধায়ক তৃণমূলে যোগদানের লাইনে রয়েছেন বলে দাবি মুকুল রায়ের। আর কৃষ্ণ কল্যাণী তো বলেই দিয়েছেন বিজেপিতে বিধায়ক থাকবেই না। মেরেকেট ১০ জন!

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+