নিঃশব্দে চলছে গেরুয়া 'দখলদারি'! বাঙালিয়ানা রপ্ত করে রাজ্যে একইদিনে দুই কেন্দ্রীয়মন্ত্রী
স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পর এবার দলিত পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন সারলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জীব বলিয়ান৷ বুধবার দলীয় কাজে মুর্শিদাবাদে এসে ছিলেন সঞ্জীব বলিয়ান৷ সেখানেই রঘুনাথগঞ্জে এক দলিত পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন করেন তিনি৷ ভাত, ডাল, পোস্তোর বড়া ও শেষ পাতে রসগোল্লা খেলেন তিনি৷ এরপরই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার প্রশ্নে রাজ্যের শাসক দলকে বিঁধলেন কেন্দ্রের প্রাণী সম্পদ বিকাশ মন্ত্রী সঞ্জীব বালিয়ান।

সংগঠন যথেষ্ট মজবুত নয়
আসন্ন বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে ঝাঁপালেও রাজ্যের সর্বত্র বুথ স্তরে যে দলের সংগঠন যথেষ্ট মজবুত নয়, তা জানেন বিজেপি নেতৃত্ব। সেই কারণেই ভোটের আগে সব ফাঁকফোঁকর ভরাতে পাঁচ রাজ্য থেকে দলের পাঁচ সাধারণ সম্পাদককে রাজ্যে পাঠিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি, আট মন্ত্রী। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে আট মন্ত্রীর মধ্যে।

ভোটারদের মন জয় করতে বাংলা শেখার চেষ্টা
এই নেতাদের কড়া নির্দেশ, দলীয় কর্মী এবং ভোটারদের মন জয় করতে বাংলা শেখার চেষ্টা করতে হবে। ডাল, ভাত, শাক, সবজির বাঙালি ঘরানার রান্না খাওয়া শিখতে হবে। বাঙালির খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করার অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন ওই ১৩ জন। তাই রঘুনাথগঞ্জের দলিত পরিবারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজনজ যে সরাসরি অমিত শাহের নির্দেশে, তা বলাই বাহুল্য।

কোচবিহারে কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল
এদিকে রাজ্যে এদিন আরও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। কোচবিহার রাজপ্রাসাদের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। বুধবার দুপুরে কোচবিহার রাজপ্রাসাদ পরিদর্শনে আসেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক সহ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজপ্রসাদ পরিদর্শনের পর মন্ত্রী বলেন, 'এই স্থাপত্য আমাদের গৌরবান্বিত করে।'

তৃণমূলেক বহিরাগত তকমাকে নাকচ
মঙ্গলবারই কোচবিহারে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় পর্যটনমন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল। এরপর বুধবার তিনি পরিদর্শন করেন কোচবিহারের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান৷ সূত্রের খবর অনুযায়ী, পর্যটন কেন্দ্রগুলির উন্নয়নের স্বার্থে তিনি নিতে পারেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কোচবিহারের পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলাও ঘুরে দেখেন তিনি৷ এই সফর ঘিরে 'বহিরাগত' তরজা শুরু হলে তা নাকচ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, 'আমি মণিপুরের পর্যেবক্ষক ছিলাম। সেখানে সরকার গঠন করে বিজেপি। এখানে তাই শাসক দল ভয়ে রয়েছে।'

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই সফর যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ
কোচবিহার জেলায় রয়েছে বিভিন্ন বিভিন্ন ঐতিহাসিক পরিদর্শন কেন্দ্র৷ যার মধ্যে অন্যতম কোচবিহারের রাজপ্রাসাদ, ঐতিহ্যবাহী রাজপাট, স্মৃতিবিজড়িত গোসানিমারি, বাণেশ্বর শিব মন্দির, মধুপুরধাম সহ একাধিক পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু প্রয়োজনীয় সরকারি উদ্যোগের অভাবে প্রচারে উঠে আসেনি পর্যটনকেন্দ্রগুলি। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় সারা বছর সমাগম হয়েছে প্রচুর পর্যটকের৷ কিন্তু কোচবিহারে পর্যটকের সংখ্যা ছিল নিতান্তই হাতে গোনা৷ আগামী দিনে কোচবিহারকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি উঠছিল বিভিন্ন মহল থেকে। এরইমধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই সফর যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ।












Click it and Unblock the Notifications