মুকুল চার বছর পর ‘ঘরে’ ফিরলেন, তাঁর পথ ধরে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের লাইনে এবার কারা
মুকুল চার বছর পর ‘ঘরে’ ফিরলেন, পিছনে কারা লাইন দিয়ে রয়েছেন তৃণমূলে ফিরতে
মুকুল রায়ের ঘরওয়াপসি হল প্রায় চার বছর পর। ফের জোড়া লাগতে চলেছে তৃণমূলের ভাঙা সংসার। আবারও রাজ্য রাজনীতিতে একসঙ্গে দেখা যাবে মুকুল-মমতা জুটিকে। এখন প্রশ্ন উঠছে মুকুল রায় তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর আর কারা ফিরতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসে। মুকুলের পিছনে কারা লাওইন দিতে পারে, তা নিয়েই জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

মুকুলের পিছু পিছু বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে কারা
মুকুল রায়ের সঙ্গেই তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন শুভ্রাংশ রায়। অর্থাৎ মুকুলের দলবদলের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি থেকে আরও এক তারকার পতন হল। একইসঙ্গে মুকুলের ঘরওয়াপসির সঙ্গে সঙ্গে বিধানসভা থেকে আরও এক বিধায়ক সংখ্যাও কমে গেল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, মুকুলের পিছু পিছু বিজেপির অনেকেই তৃণমূলে ফিরতে পারেন, সেই তালিকাও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

মুকুলের অনুগামী যেসব নেতারা গিয়েছিলেন বিজেপিতে
মুকুলের অনুগামী বলে রাজ্য রাজনীতিতে যাঁরা পরিচিত, তাঁরা হলেন সব্যসাচী দত্ত, সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা, শীলভদ্র দত্ত প্রমুখ। এছাড়া অর্জুন সিং থেকে থেকে শুরু কেরে নিশীথ প্রামাণিক ও আরও অনেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়ের হাত ধরে। হালে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রবীর ঘোষাল-সহ অনেকের বিজেপিতে যাওয়ার পিছনেও মুকুলের হাত ছিল।

মুকুলের পথ ধরে কি তৃণমূলে ফিরবেন সব্যসাচী দত্ত
মুকুলের তৃণমূলে যাওয়ার আগে সব্যসাচী দত্ত বারবার বিজেপিতে বেসুরো হয়েছেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসাতেও পঞ্চমুখ হয়েছেন। সম্প্রতি বাংলা ভাষাভাষী নিয়ে তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনাও করেন। সব্যসাচীর বারবার এই সরব হওয়ার পর রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সব্যসাচীর তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা প্রবল।

মুকুল অনুগামী অনুপম হাজরার ফেসবুক পোস্টে জল্পনা
আর এক মুকুল-অনুগামী অনুপম হাজরাও জল্পনা বাড়িয়েছন মুকুল রায় তৃণমূলে ফেরার মুখে ফেসবুকে পোস্ট করে। তিনি বিজেপিতে লবিবাজি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন। এবং মুকুল রায়কে যে বিধানসভা নির্বাচনে সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। এর সঙ্গে অবশ্য জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, তিনি বিজেপি ছাড়ছেন না। আর বেসুরো তকমা যেন না দেওয়া হয় তাঁকে।

মুকুলের পথ ধরে তৃণমূলে ঢুকতে পারেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও
মুকুল রায় তৃণমূলে যোগদানের পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও যোগ দিতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটে হারার পর থেকেই তিনি তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। মমতার সরকারের সমালোচনা না করে আত্মসমালোচনা করতে বলেছেন বিজেপিকে। এসব কিছুর পর রাজীবের ফেরা শুধু আটকে তৃণমূলের সবুজ সংকেতে।

তৃণমূলে ফেরার আহ্বান জানিয়ে রেখেছেন যাঁরা
এছাড়া ভোটের আগে বিজেপিতে যাওয়া সোনালি গুহ, সরলা মুর্মু, অমল আচার্য, দীপেন্দু বিশ্বাসরা তৃণমূলে ফেরার আহ্বান করে বসে আছেন। তাঁরাও যে ধীরে ধীরে তৃণমূলে ফিরবেন তা বলাই যায়। এই তালিকায় যোগ দিতে পারেন বাচ্চু হাঁসদা, ভূষণ সিং-এর মতো অনেক নেতা-নেত্রী। যাঁরা মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে এসেছিলেন তাঁরা অনেকেই ফিরতে পারেন তৃণমূলে।

মুকুল অনুগামী হলেও বিরোধিতা সৌমিত্র খাঁয়ের
মুকুল অনুগামী বলে পরিচিত সৌমিত্র খাঁ বিজেপিতে বেসুরো হয়েছিলেন কয়েকদিন আগেই। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে ছেড়েছিলেন তিনি। ফলে বিজেপি ছাড়ার জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। তবে তিনি বিজেপি ছাড়ছেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন। তিনি ফের মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠক করলে, জল্পনা আরও বাড়ে। তবে মুকুল তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর সৌমিত্র কিন্তু ভিন্ন পথে হেঁটে মুকুল রায়কে মীরজাফর বলে নিশানা করেন। বলেন, মুকুল রায় চাণক্য নন, মীরজাফর আবার প্রমাণ হল।

মুকুলের হাত ধরে অর্জুন বললেন বেইমান, তবু...
সেইসঙ্গে মুকুলর রায়ের হাত ধরে অর্জুন সিং বিজেপিতে যাওয়ার পরও তাঁকে মুকুলের দিকের নেতা বলেই মনে করা হত। কিন্তু মুকুল রায়ের ফুলবদলের পর যেভাবে তিনি সরব হয়েছেন বেইমনা বলে, তাতে তাঁর এখনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তবে অদূর ভবিষ্যতে কী হবে এখনই বলা যায় না। তবে একথা বলা যায়, মুকুলের হাত ধরে বিজেপিতে যাওয়া দুলাল বর, বিশ্বজিৎ দাস, শীলভদ্র দত্তদের মতো নেতারাও যে তৃণমূলমুখী হতে পারেন বলাই যায়। সেইসঙ্গে প্রশ্ন থাকে শান্তনু ঠাকুরদের নিয়েও।












Click it and Unblock the Notifications