মুকুলকে দিয়ে শুরু, কল্যাণীই শেষ নয়! নেতৃত্ব বদলেও বিজেপিতে ভাঙন রোখার লক্ষণ নেই
মুকুলকে দিয়ে শুরু, কল্যাণীই শেষ নয়! নেতৃত্ব বদলেও বিজেপিতে ভাঙন রোখার লক্ষণ নেই
উত্তরবঙ্গের কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায় তৃণমূলে যোগদানের পর থেকেই রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক বেসুরা গাইছিলেন। প্রায় এক মাস ভর জল্পনার পর জল্পনা বৃদ্ধির পর ভবানীপুরের উপনির্বাচনের পরদিনই বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। ফলে বিজেপি আরও মাইনাস হয়ে ৭৭ থেকে ৭০ হয়ে গেল বিধানসভায়। কিন্তু প্রশ্ন, কেন নেতৃত্ব বদলেও ভাঙন রোখা যাচ্ছে না?

বিজেপিতে বেসুরো বেড়েই চলেছে
মুকুল রায়কে দিয়ে শুরু হয়েছিল বিজেপির ভাঙন। একুশের নির্বাচনের পর সপুত্র মুকুল রায় যোগদান করেছিলেন তৃণমূলে। তারপর মুকুল অনুগামী নিচুতলার অনেক নেতা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন। কিন্তু সে অর্থে উপতলায় ভাঙন ধরেনি এখন। কেননা ভোটের আগে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের ফেরাতে এখনও কুণ্ঠা রয়েছে। কিন্তু বিজেপিতে বেসুরো বেড়েই চলেছে তা সত্ত্বেও।

তৃণমূলের পথে পা বাড়িয়ে রয়েছেন
তবে মুকুল রায়ের পর আরও তিন বিজেপি বিধায়ক দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ থেকে শুরু করে উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক সৌমেন রায়ও যোগ দেন তৃণমূল। এবার রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী বিজেপি ছাড়লেন। তিনিও তৃণমূলের পথে পা বাড়িয়ে রয়েছেন বলে জল্পনার পারদ চড়তে শুরু করেছে এখন থেকে।

বিজেপি এখন ৭৭ থেকে ৭০-এ দাঁড়িয়ে
মুকুল রায়, তন্ময় ঘোষ, বিশ্বজিৎ দাস, সৌমেন রায় এবং কৃষ্ণ কল্যাণী বিজেপি থেকে মাইনাস হয়ে গিয়েছেন ভোটের চার মাসের মধ্যে। আর ভোটের পরই দিনহাটার বিধায়ক নিশীথ প্রমাণিক ও শান্তিপুরের বিধায়ক জগন্নাথ সরকার পদত্যাগ করেছিলেন তাঁদের সাংসদ পদ রক্ষা করার জন্য। ফলে ইতিমধ্যেই সাতজন বিধায়ক কমে গিয়েছে বিজেপির। বিজেপি এখন ৭৭ থেকে ৭০-এ দাঁড়িয়ে রয়েছে।

বিজেপির আরও ২০ জন বিধায়ক লাইনে
মুকুল রায় থেকে শুরু করে হালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করছেন, বিজেপির আরও ২০ জন বিধায়ক লাইনে রয়েছেন। তাঁরাও বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসতে চায়। সেক্ষেত্রে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমে এক বছরের মধ্যেই ৫০ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতেই অনেক বিধায়ক বেঁকে বসে আছেন বলে জানা গিয়েছে।

নয়া রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা!
সম্প্রতি বিজেপির নেতৃত্বে বদল ঘটেছে। রাজ্য সভাপতি পদে দিলীপ ঘোষের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি দলের দায়িত্ব নিয়েই বেসুরোদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছিলেন, একসঙ্গে কাজ করার। কিন্তু সেই বার্তা উপক্ষা করে উত্তরবঙ্গে বিজেপিতেই বড় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙন নয়া রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা বলেও ব্যাখ্যা করেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

দলত্যাগের পরই তৃণমূলে যোগদান-জল্পনা
রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক এক মাস ভর বেসুরো বাজছিলেন। দলের সমালোচনায় তিনি নানা মন্তব্য করেছেন। তারই জেরে দলের তরফে তাঁকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়ে। সেই নোটিশ হাতে পেতেই সটান দল ছাড়ার কথা ঘোষণ করে দেন কৃষ্ণ কল্যাণী। তাঁর দলত্যাগের পরই তৃণমূলে যোগদান নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

দিলীপের প্রতিক্রিয়ায় জল্পনায় আরও
এদিকে শুধু কৃষ্ণ কল্যাণীই নয়, এদিন বিজেপির জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়েও দিলীপ ঘোষ যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তাতে বিজেপিতে যে অনেক বেসুরোই রয়েছেন, তা বলাই যায়। বিজেপি নেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে অন্তত ৫০ হাজার ভোটে জিতবেন। তারপরই দিলীপ ঘোষ পাল্টা জানান, ওসব জয়-বিজয়ের কথায় বিজেপি চলে না।

দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেক, জল্পনা
একুশের নির্বাতনের পর থেকে বিজেপিতে বেসুরোর সংখ্যা নেহাত কম নয়। তৃণমূল বাংলায় বিরাট জয় পাওয়ার পর ভোটের আগে দল ছেড়ে যাওয়া অনেক নেতা-নেত্রীই বিজেপি ছেড়ে ঘরে ফিরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল তাঁদের জন্য দরজা হাট করে খোলেনি। এই তালিকায় ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতা। ছিলেন সোনালি গুহ, সরলা মুর্মু, অমল আচার্য, দীপেন্দু বিশ্বাসদের মতো অনেকেই। মোট কথা বিজেপিতে বেসুরোর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিজেপির আরও বিধায়ক, এমনকী কয়েকজন সাংসদও দল ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এখনও।












Click it and Unblock the Notifications