বঙ্গ বিজেপিতে আদি-নব্য সমন্বয়ে রদবদলের ভাবনা, ২৪-এর লক্ষ্যে নতুন টিম নিয়ে বিস্তর জল্পনা
বঙ্গ বিজেপিতে আদি-নব্য সমন্বয়ে রদবদলের ভাবনা, ২৪-এর লক্ষ্যে নতুন টিম নিয়ে বিস্তর জল্পনা
বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকেই বিজেপিতে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছিলেন পুরনোরা, নতুনদের দিয়েই বাজিমাত করার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন অমিত শাহ-জেপি নাড্ডারা। কিন্তু নতুনরা একপ্রকার হতাশ করেছিল বিধানসভা নির্বাচনে। তারপরও সেই নতুনদের উপরই ভরসা রেখে শুধু নেতৃত্ব বদল করেছিল বিজেপি। এবার ২৪-এর আগে বিজেপিতে সম্পূর্ণ নতুন ভাবনা।

বিজেপি চাইছে পুরনো ও নতুনের সমন্বয়
বিগত দেড় বছর ধরে বিজেপি সম্পূর্ণ ভরসা রেখেছিল নতুনদের উপর। কিন্তু বঙ্গ নেতৃত্বের কাজে খুশি নন অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডা-রা। তাই তাঁরা বাংলায় পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের আগে নতুন আঙ্গিকে ভাবতে শুরু করেছেন। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার ভাবনার থেকেও বড় পুরনো ও নতুনের মেলবন্ধ ঘটাতে চাইছে বিজেপি।

বিজেপি বঙ্গ নেতৃত্বকে আলদা করে সাজাতে চাইছে
সুনীল বনশল পর্যবেক্ষক হয়ে আসার পর বঙ্গ বিজেপির আসল রোগ ধরতে বেশি সময় লাগেনি। সেইমতোই রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডার কাছে। বনশলের রিপোর্ট মোতাবেক আসন্ন ডিসেম্বরে বিজেপি বঙ্গ নেতৃত্বকে আলদা করে সাজাতে চাইছে। এর ফলে বেশ কিছু নেতা পদচ্যুত হতে পারেন। আবার বেশ কিছু নেতার অন্তর্ভুক্তি হতে পারে রাজ্য কমিটিতে। পুরনো ও নতুনদের সমন্বয়ে এবার রাজ্য কমিটি গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিজেপি।

অভিজ্ঞতার সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি এবার সুকান্ত মজুমদারদের মতো তরুণ তুর্কি নেতাদের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের মেলবন্ধনের ভাবনা কাজ করছে বিজেপিতে। এবার তাহলে দিলীপ ঘোষের অনুগামীদের কপাল খুলতে পারে। তাঁরা ফের বাংলার বিজেপি কমিটিতে মুখ্য ভূমিকায় আসতে পারেন। উল্লেখ্য, বিগত রাজ্য কমিটিতে দেখা গিয়েছে সায়ন্তন বসু, রাজু মুখোপাধ্যায়, রীতেশ তিওয়ারিদের মতো অনেক নেতা অপসারিত হয়েছিলেন।

বিজেপিতে পরিবর্তন প্রসঙ্গে দিলীপ ও সুকান্ত
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপকি তথা বর্তমানে কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ২০২২-এর ডিসেম্বরে বিজেপির সাংগঠনিক নির্বাচন হবে। একইসঙ্গে আমাদের রাজ্যের সংগঠনেও রদবদল হতে পারে। সাংগঠনিক নির্বাচন ও রদবদল করেই বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রণনীতি তৈরি করতে পারে ২০২৪-এর নির্বাচনের। আর বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, সাংগঠনিক ক্ষেত্রে রদবদল হবে বা নির্বাচন যা হবে, সব ঠিক করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা ঠিক করবে, আমরা তা মাথা পেতে নেব।

রদবদল করে নতুন টিম তৈরি করতে চাইছে বিজেপি
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের বাংলায় মস্ত ধাক্কা খাওয়ার পর বিজেপি ঘুরে দাঁড়ানোর রাস্তা খুঁজছে বিজেপি। বিগত পুরসভা ও উপনির্বাচনেও বিজেপি কলকে পায়নি বাংলায়। তাই এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে বিজেপি কামব্যাকের চেষ্টা করছে। তার আগে বিজেপি চাইছে নতুন করে সাজতে। ফের নতুন করে রদবদল করে নতুন টিম তৈরি করতে চাইছে বিজেপি, যে টিম আসন্ন পঞ্চায়েত ও ২০২৪-এর লোকসভায় প্রভূত সাফল্য এনে দিতে পারবে।

বঙ্গ বিজেপির তিনটি ধারাকে মেশাতে হবে
সুনীল বনশল বাংলায় এসেই বুঝতে পেরেছিলেন বঙ্গ বিজেপির আসল রোগ। প্রতিটি কর্মসূচিতেই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বের মধ্যে ফারাক তৈরি হচ্ছে। শাসকের বিরুদ্ধে লড়বে কি, নিজেরাই লড়াই করে মরছে। বঙ্গ বিজেপিতে যে বর্তমানে তিনটি ধারায় চলছে, তা এক ধারায় মেশাতে হবে। তা না হলে আন্দোলন করেও কোনও ফল মিলবে না। নির্বাচন শেষে হারের মুখই দেখতে হবে।

বঙ্গ বিজেপিকে নতুন রূপে সাজাতে বদ্ধপরিকর
সম্প্রতি সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ করে বঙ্গ বিজেপি রাজ্যে তাঁদের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ চলে গিয়েছেন খানিক আড়ালে। আবার সুকান্ত ও শুভেন্দুর মধ্যেও উত্তর-দক্ষিণের ফারাক। দিলীপ ঘোষ চলছেন আপন খেয়ালে। ফলে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব প্রকট হয়ে যাচ্ছে সর্বদা। এই পরিস্থিতিতে বঙ্গ বিজেপিকে নতুন রূপে সাজাতে বদ্ধপরিকর অমিত শাহ-জেপি নাড্ডারা।












Click it and Unblock the Notifications