দিলীপ-ঘনিষ্ঠদের ‘বাদ’ বিজেপির পঞ্চায়েত কমিটিতে, ফেরার যুদ্ধেও আদি-নব্য দ্বন্দ্ব
দিলীপ-ঘনিষ্ঠদের ‘বাদ’ বিজেপির পঞ্চায়েত কমিটিতে, ফেরার যুদ্ধেও আদি-নব্য দ্বন্দ্ব
শুধু ২০২৪-কেই পাখির চোখ করে এগোচ্ছে না বিজেপি, পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়েও এখন থেকে পরিকল্পনা কষাও শুরু হয়ে গিয়েছে। একুশের নির্বাচনের হারের পর যতই গেরুয়া শিবির পিছু হটতে থাকুক না কেন, ২০২৩-এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ফের নতুন উদ্যমে লড়াইয়ের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি।

বিজেপিতে ফের শুরু হয়ে গেল অসন্তোষের বাতাবরণ
সম্প্রতি গেরুয়া শিবির বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে একটি কমিটিও তৈরি করে দিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের গড়া পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত কমিটি গড়ার পর মঙ্গলবার প্রথম বৈঠক হল। হেস্টিংসের পার্টি অফিসে সেই বৈঠক সংঘটিত হওয়ার পর থেকে ফের বিজেপিতে শুরু হয়ে গেল অসন্তোষের বাতাবরণ।

পুরনো কমিটি বদলে পঞ্চায়েত ভোটের জন্য নতুন কমিটি
পঞ্চায়েত ভোটকে পাখির চোখ করে বঙ্গ রাজনীতিতে যখন বিজেপি ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তখন বিজেপিতে এই অসন্তোষ কেন? স্বাভবিকভাবেই সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে। আসলে কিছুতেই বিজেপিতে আদি-নব্য দ্বন্দ্বের অবসান ঘটছে না। পুরনো কমিটি বদলে পঞ্চায়েত ভোটের জন্য নতুন কমিটি গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে বাদ পড়েছেন আদি নেতারা।

কমিটিতে বাদ পড়া চারজনই দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ নেতা
বিজেপির এই কমিটিতে চার নেতাকে বাদ দিয়ে আনা হয়েছে চার জন বিধায়ককে। কিন্তু সমস্যা হল যে চারজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই চারজনই হলেন দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ নেতা। তুষার মুখোপাধ্যায়, প্রবাল রাহা, অনল বিশ্বাস ও গৌর মণ্ডলকে বাদ দিয়ে আনা হয়েছে চার বিধায়ককে। যে চার বিধায়ককে আনা হয়েছে, তারা সবাই-ই বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের কমিটিতেও আদি বনাম নব্য দ্বন্দ্ব
অর্থাৎ পঞ্চায়েত নির্বাচনের কমিটিতেও আদি বনাম নব্য দ্বন্দ্ব প্রকট। প্রকট হয়ে উঠেছে দিলীপ ঘোষ বনাম সুকান্ত মজুমদার দ্বন্দ্বও। কারণ দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়ে সুকান্ত মজুমদারের ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের স্থান দেওয়া হয়েছে নতুন কমিটিতে। তা নিয়ে শুরু হয়েছে জরো চর্চা। বিজেপির আদি বনাম নব্য ফের সামনে চলে এসেছে।

বেছে বেছে দলের সমস্ত পুরনো নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে
বিজেপি পঞ্চায়েত ভোট পরিচালনায় প্রথমে একটি কমিটি গড়ে। তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপির তরফে ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে পরিবর্তন করা হয়েছিল। দলের রাজ্য অফিস সম্পাদকের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে চার জন নেতা পুরনো কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন। বিজেপির বর্ষীয়ান এক নেতা জানিয়েছেন, বেছে বেছে দলের সমস্ত পুরনো নেতাদের সব জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিজেপির সংগঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে, আশঙ্কা দলেই
আবার বিজেপির এই নবীকরণে মূল টার্গেট করা হচ্ছে দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ বা অনুগামীদের। বিজেপির একাংশ মনে করছে এভাবে চললে বিজেপির সংগঠন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। বিজেপির পঞ্চায়েত ভোট কমিটির ইনচার্জ দেবশ্রী চৌধুরী অবশ্য বিড়ম্বনা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ওই চার জনের উপর আরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। এক জনের উপর চাপ যাতে না পড়ে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে এই পরিবর্তনে।












Click it and Unblock the Notifications