মুকুলকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন অমিত শাহ, রাজ্য নেতৃত্বকে বার্তা বিজয়বর্গীয়র
মুকুল রায় দল ছাড়ার পর থেকেই জল্পনা চলছিল, কোন পথে পা বাড়াবেন তৃণমূলত্যাগী এই নেতা। সেই জল্পনায় ইতি পড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
মুকুলের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েই গেল! বিজেপির তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেল মুকুলকে নিয়ে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ রবিবার স্পষ্ট করে দিলেন সে কথা। দলের সর্বভারতীয় সভাপতির নির্দেশ রাজ্যে নেতৃত্বকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় নেতা তথা দলের রাজ্য পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।

মুকুল রায় দল ছাড়ার পর থেকেই জল্পনা চলছিল, কোন পথে পা বাড়াবেন তৃণমূলত্যাগী এই নেতা। দল ছাড়ার দিন স্পষ্ট করেননি তিনি। আপাতত ছুটি চাইছেন তিনি। ছুটি থেকে ফিরে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন মুকুলবাবু। আসলে সেটিং ঠিকঠাক করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে অবশেষে তিনি সফল হলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তাঁর অঙ্গুলিহেলনে গড়া ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেসের সাবধানবাণী উড়িয়ে মুকুল রায়কে বিজেপি এন্ট্রি দেওয়ার পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। বিশাল কিছু অঘটন না ঘটলে মুকুলের বিজেপিতে যাওয়া একপ্রকার পাকা। এদিন কেন্দ্রীয় নেতাদের মারফত দলের শীর্ষ নেতা অমিত শাহ সেই বার্তাই দিয়েছেন। এদিন দলের সর্বভারতীয় সভাপতির সেই বার্তা দলের কোর কমিটির বৈঠকে রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।
তিনদিন ধরে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা রাজ্যে পড়ে রয়েছেন শুধু মুকুল রায়কে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য। জেলা সভাপতি থেকে শুরু করে রাজ্য নেতাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল বিজেপি। শনিবারই রাজ্য দফতরে বৈঠকে বসে রিপোর্ট তৈরি করে ফেলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। মূল্যায়নের সেই রিপোর্ট অমিত শাহকে পাঠানোর পরই সিলমোহর পড়ে গেল সিদ্ধান্তে। শেষপর্যন্ত পদ্মেই ফুটছে মুকুল। তা প্রায় পাকা।

হঠাৎই মুকুলের বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছিল আকাশে। ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে থেকে সভাপতি অমিতাভ মজুমদার নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন- 'মুকুল রায় আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের চর। বিজেপির ক্ষতি করতেই তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন আসলে নাটক।'
এই চিঠি আসার পর বিজেপিও চূড়ান্ত ধন্দে পড়ে। পরে সবদিক বিবেচনা করে মুকুল রায়কে দলে নেওয়ার পক্ষেই মতপোষণ করা হয়। মুকুল রায়কে নিলে রাজ্যে বিজেপির শক্তি বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। মুখে না বললেও বিজেপি জানে, রাজ্যে এখনও তৃণমূলকে লড়াই দেওয়ার মতো জায়গায় আসেনি দল। মুকুলের মতো কোনও বড় 'খেলোয়াড়'কে দলে সই করাতে না পারলে রাজ্যে দ্বিতীয় দল হয়েই থাকতে হবে। কোনওদিনও প্রথম স্থান অধিকার করা যাবে না।
বিজেপি মনে করছে, মুকুল রায় সঙ্গে করে কতজন তৃণমূল নেতাকে আনতে পারবেন, তা মুখ্য বিবেচ্য নয়। মুকুল রায় তো আসছেন- সেটাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব। তৃণমূলের ক্ষতি, বিজেপির লাভ তো হচ্ছে। সেটাই কম কী! সেই আঙ্গিকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুকুলের বিজেপিতে যাওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। দু-একদিনের মধ্যেই তা সরকারিভাবে ঘোষণাও করা হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications