বিজেপি কি মতুয়া ভোট ধরে রাখতে পারবে? নাকি একুশের ভোটে খেল দেখাবে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া মহাসংঘের প্রভাব শুরু গুরুচাঁদ ঠাকুরের পুত্র প্রমথরঞ্জন ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী বীণাপাণি দেবীর হাত ধরে। এই বীণাপাণিদেবীঅ মতুয়া মহলে বড়মা নামে পরিচিত ছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গে মতুয়া মহাসংঘের প্রভাব শুরু গুরুচাঁদ ঠাকুরের পুত্র প্রমথরঞ্জন ঠাকুর এবং তাঁর স্ত্রী বীণাপাণি দেবীর হাত ধরে। এই বীণাপাণিদেবী মতুয়া মহলে বড়মা নামে পরিচিত ছিলেন। পিআর ঠাকুরের মৃত্যুর পরে বড়মার জীবিতাবস্থা পর্যন্ত মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রধান মাতৃকার হিসাবে বিবেচনা করা হত তাঁকেই। তাঁকে ঘিরেই আবর্ত হত রাজনীতি।

মাথার উপর বড়মার হাত থাকলেই বাজিমাত মতুয়া ভোটে

মাথার উপর বড়মার হাত থাকলেই বাজিমাত মতুয়া ভোটে

ভোটের আগে সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতারা বড়মা ও ঠাকুর পরিবারের আশীর্বাদ চাইতে যেতেন। যাঁর মাথার উপর হাত রাখতেন বড়মা, মতুয়া ভোট সেদিকেই যেত। তারপর ঠাকুর পরিবার থেকেও অনেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছে। তৃণমূল সরকারে মন্ত্রীও ছিলেন এই পরিবারের সদস্য। তারপর সাংসদ হয়েছেন, এখন আবার বিজেপির সাংসদও এই পরিবারের।

বড়মা থাকাকালীন মমতারই দাপট ছিল মতুয়া মহলে

বড়মা থাকাকালীন মমতারই দাপট ছিল মতুয়া মহলে

একদা রাজ্যে কংগ্রেসের পিছনে ছিল মতুয়া সম্প্রদায়। ১৯৭৭ সাল থেকে বামফ্রন্টের দিকে ঝুঁকছিল তারা। ২০০৯ সাল থেকে বামদের দিক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ঘুরে যান মতুয়ারা। বড়মা তাঁর মেয়ের আসনে বসিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি থাকাকালীন মমতারই দাপট ছিল মতুয়া মহলে।

ঠাকুর পরিবারে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপি ঢুকে পড়েছে

ঠাকুর পরিবারে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপি ঢুকে পড়েছে

বড়মার মৃত্যুর পর থেকে ঠাকুর পরিবারে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপি ঢুকে পড়ে। একটা সময়ে লোকসভা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার জন্য বড়মার দুই পুত্র কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর এবং মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুরকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল। তারপর মঞ্জুলকৃষ্ণের পরিবার এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকে। মঞ্জুল-পুত্র শান্তনু ঠাকুর এখন বিজেপির সাংসদ কপিল-জায়া মমতাবালাকে হারিয়ে।

মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতিতে বাজিমাত ২০১৯-এ

মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতিতে বাজিমাত ২০১৯-এ

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বড়মার সঙ্গে দেখা করেছিলেন এবং ক্ষমতায় এলে মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান তিনি। শান্তনু ঠাকুর তাঁকে আমন্ত্রণ করেছিলেন। এরপর বনগাঁ আসনে বিজেপির টিকিটে মমতাবালা ঠাকুরের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন শান্তনু।

বাংলার নির্বাচনী প্রচারে সিএএ বা এনআরসি ইস্যু

বাংলার নির্বাচনী প্রচারে সিএএ বা এনআরসি ইস্যু

এবার বিজেপি বাংলার নির্বাচনী প্রচারে সিএএ বা এনআরসি ইস্যু সামনে আনছে না। একটি অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, এই দুটি বিষয়ই ভোটারদের আকৃষ্ট করছে না। বেশি বরফ কাটছে না। ঠাকুরনগরে আবার ভিন্ন চিত্র। শান্তনু ঠাকুর এই বিষয়ে জনসাধারণের সঙ্গে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। বিজেপি হাইকমান্ড তাঁকে দলীয় লাইনে আনতে সমর্থ হয়েছে শেষপর্যন্ত।

মতুয়া ভোট নিয়ে টানাটানি তৃণমূল ও বিজেপির

মতুয়া ভোট নিয়ে টানাটানি তৃণমূল ও বিজেপির

গত বছরের নভেম্বর মাসে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ২৫,০০০ শরণার্থী পরিবারের জমির অধিকারের কথা ঘোষণা করেছিলেন এবং বলেছিলেন ১.২৫ লক্ষ পরিবার তা অর্জন করবে। তিনি মতুয়া উন্নয়ন বোর্ডকে ১০ কোটি এবং নমশূদ্র উন্নয়ন বোর্ডের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। এদিকে, মতুয়া সম্প্রদায়ের সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেন, কোভিড টিকা অভিযান শেষ হওয়ার পরে বাংলায় সিএএ প্রয়োগ করা হবে।

মতুয়া ভোট ধরে রাখতে সমর্থ হবে বিজেপি? নাকি খেলা তৃণমূলের

মতুয়া ভোট ধরে রাখতে সমর্থ হবে বিজেপি? নাকি খেলা তৃণমূলের

মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করছে। অন্য একটা অংশ শাহের বক্তব্য এবং তার কার্যকরের পরিকল্পনার সঙ্গে খানিক একমত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে সংশয় একেবারে দূর হয়নি। ২০১৯ সালে যে সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি, তারা কি ২০২১-এ সেই মতুয়া ভোট ধরে রাখতে সমর্থ হবে? নাকি তৃণমূলের কৌশল কার্যকর হবে? আসন্ন নির্বাচনের ফলেই তা জানা যাবে, কেনদিকে মতুয়ারা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+