একুশের নির্বাচন তো এখনও ঢের বাকি! মমতার বাংলা দখলের কেন এত তাড়া বিজেপির
একুশের নির্বাচন তো এখনও ঢের বাকি! মমতার বাংলা দখলের কেন এত তাড়া বিজেপির
করোনার থাবায় দেশের পাশাপাশি বাংলাও বিপর্যস্ত। করোনার বাড়বাড়ন্তকে থোড়াই কেয়ার করে বিজেপি এরই মধ্যে প্রচার শুরু করে দিয়েছে। বুঝিয়ে দিয়েছে, যতই করোনা হোক, বাংলা দখলই তাঁদের মূল উদ্দেশ্যে। তাই দেশে করোনা সংক্রমণ ৩ লক্ষ ছুঁই ছুঁই করলেও বাংলাকে নিশানায় ভার্চুয়াল ব়্যালি করলেন অমিত শাহ।

বিজেপির কেন এত তাড়া?
কেন বিজেপির এত তাড়াহুড়ো বাংলায়? অমিত শাহের ভার্চুয়াল সমাবেশের পরই সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে। আগামী বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। এখনই বিজেপি প্রচার শুরু করে দেওয়ার পিছনে মূল উদ্দেশ্য হল পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো। বর্তমান করোনা ও আম্ফান বিধ্বস্ত অবস্থায় বাংলায় ভোট মেরুকরণই বিজেপির মাল উদ্দেশ্য।

করোনা এক্সপ্র্সেই বিদায় যাত্রা মমতার
৯ জুন ভার্চুয়াল সমাবেশের মাধ্যমে বিজেপিকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যে শ্রমিক ট্রেনকে ‘করোনা এক্সপ্রেস' আখ্যা দিয়েছেন, সেই ট্রেনেই তাঁর ‘প্রস্থান' হবে বাংলার ক্ষমতা থেকে।

একে করোনা, তার উপর আম্ফানের থাবা
শাহ তাঁর এই ভার্চুয়াল সমাবেশ থেকে স্পষ্টতই বাংলার ব্যর্থতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। এই সময় চলে গেলে বাংলার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে এতটা ফাঁকা মাঠ তিনি পাবেন না। কেননা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ব্যর্থ করোনা মোকাবিলায়। তার উপর জুটেছে আম্ফানের খাঁড়া। এই দুই বিপর্যয় সামলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মমতা।

বাংলার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার এটাই সময়
তাই বিজেপি মনে কর এটাই প্রকৃষ্ট সময় বাংলাকে নিশানা করার। দেরি করলে আর কোনও গুরুত্বই থাকবে না এই অভিযোগের। কেননা, মোদী রা্জ্য বা বিজেপি পরিচালিত রাজ্যগুলির কী হাল হবে কেউ জানে না। তার উপর করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে মুখ্যমন্ত্রী আবার বিদেপির বিরুদ্ধে নিশানা করতে এনপিআর, সিএএ বা এনআরসির মতো ইস্যু পেয়ে যাবে! সেই কারণেই কালবিলম্ব না করে আসরে নেমেছে বিজেপি।

তৃণমূলের ঘাঁটিতে বিষ ছড়াতে তৎপর বিজেপি
রাজ্য এখন করোনা ঘাতক এবং ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কোপে পড়েছে। এই অবস্থায় চাপে পড়া বাংলাকে আরও চাপে রাখতে বিজেপি আসরে নেমে পড়ল। লক্ষ্য অবশ্যই ২০২১। এই সময়ে আবার পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরছেন। সেটাও একটা বড় ইস্যু। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি অভিযোগ। মুসলিম অধ্যুষিত মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের ঘাঁটিতে প্রভাব ফেলেতে তাই তৎপর বিজেপি। মুসলমানদের একটি অংশ টিএমসি থেকে সরে এসে কংগ্রেস-বাম জোট বা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের দিকে ঝুঁকলে বিজেপি ফায়দা লুটতে পারবে।

যে অঙ্কে যুদ্ধ জয় ২০১৯-এ, একুশেও তাই
এখানে উল্লেখ্, ভোট মেরুকরণ করেই মালদার বুক থেকে বিগত লোকসভা নির্বাচনে একটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। এবারও সেই একই অঙ্ক কষে নামছে গেরুয়া শিবির। তাই সবকিছু স্তিমিত হওয়ার আগে চটজলদি বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে তিন ছুড়তে শুরু করলেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications