বিজেপিতে যোগ দিয়েই ৪৬ জন প্রার্থী হয়েছেন বাংলায়, বইছে বিদ্রোহের চোরাস্রোতও
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এখনও অবধি ২৮২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। তার মধ্যে ৪৬ জনই হলেন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা-নেত্রীরা।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এখনও অবধি ২৮২ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। তার মধ্যে ৪৬ জনই হলেন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতা-নেত্রীরা। ২০১৯- থেকে ২০২১ সাল অর্থাৎ দু'বছরের মধ্যে বিজেপিতে যোগের হিড়িক পড়েছিল। আবার তাদের মধ্যে শেষ ছ-মাসে যোগ দেওয়া ৩৪ জনকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

বিজেপিতে এসেই প্রার্থী অন্য দলের নেতারা
শুধু তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতা-নেত্রীরাই নন, বিজেপিতে এসেই প্রার্থী হয়েছেন অন্য দলের নেতা-নেত্রীরাও। এই তালিকায় তৃণমূলের পরেই রয়েছে সিপিএম। সিপিএমের ছ-জন, কংগ্রেসের চার-জন এবং ফরওয়ার্ড ব্লক ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা থেকে আসা নেতানেত্রীদের মধ্যে থেকে একজন করে প্রার্থী হয়েছেন।

বিজেপি-তে যোগদানকারীদের টিকিট দিতেই বিক্ষোভ
বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই প্রায় প্রতিটি জেলায় ব্যাপক আকারে বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে বিজেপি নেতা-কর্মীদের। সম্প্রতি বিজেপি-তে যোগদানকারীদের টিকিট দেওয়ার জন্যই এই বিক্ষোভ। বিজেপির আদিনেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁরা এতদিন দল করে এলেন, আর প্রার্থী হচ্ছেন যাঁদের বিরুদ্ধে তাঁরা লড়াই করেছেন তাঁরা।

দলীয় কর্মীদের হতাশা বিজেপির টিকিট বিতরণে
গত দু-বছরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ৪৬ জন প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩ জন গত ছয় মাসে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এটাই মূল কারণ পুরানো দলীয় কর্মীদের হতাশার। টিকিট বিতরণে অসন্তুষ্ট পাঁচ জন আদি নেতা প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বিজেপি ছেড়ে দিয়েছেন। আরও কয়েকজন প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন।

প্রার্থী পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি
এখানেই শেষ নয় বিতর্কের। জেলা নেতাদের চাপে একটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও প্রাক্তন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অশোক লাহিড়ী উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার আসনে সুমন কাঞ্জিলালের জায়গায় এসেছেন। বিজেপি ২৮২টি আসনে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেছে। পুরুলিয়া জেলার বাঘমুণ্ডি জোটের শরিক এজেএসইউয়ের জন্য ছেড়ে দিয়েছে।

আমরা সবাইকে টিকিট দিতে পারি না
বিজেপির কথায়, বাংলায় মাত্র ২৯৪টি আসন রয়েছে। আমরা সবাইকে টিকিট দিতে পারি না। কিছু লোক টিকিট পাবে, অন্যরা পাবে না। আমাদের এটি গ্রহণ করতে হবে। যারা দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর করছেন, পোস্টার ছিঁড়েছেন এবং আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না। আমরা এই ধরনের আচরণ অনুমোদন করি না এবং আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে বিক্ষোভ
পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলির অন্তর্ভুক্ত প্রথম দুটি পর্যায়ের প্রার্থীর তালিকায় কোনও প্রতিবাদ দেখা যায়নি। পরে ১৪ মার্চ বিজেপি তার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ করে। তারপরই প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে হুগলি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হাওড়া জেলার পার্টির কর্মীরা হেস্টিংয়ে বিজেপির সদর দফতরে গিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।












Click it and Unblock the Notifications