বেআব্রু বিজেপি-র বিভাজন! রাজ্যের প্রশংসা করে সৌমিত্র খাঁ বিঁধলেন শুভেন্দু অধিকারীকে
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব না পেয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতির পদও এদিন ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষের নামোচ্চারণের বদলে তাঁদের পদের উল্লেখ করে দুজনের সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সৌমিত্রর বক্তব্যের একটা অংশে রাজ্য সরকারের প্রশংসা গোটা বিষয়কে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

কৌশলী সৌমিত্র
আজ ফেসবুক লাইভে সৌমিত্র খাঁ অভিযোগ করেন, বাংলার বিরোধী দলনেতা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভুল বোঝাচ্ছেন। যাতে দলের ক্ষতিই হচ্ছে। দল এককেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। নিজের পরিবারের স্বার্থে দিল্লি দরবার করছেন বিরোধী দলনেতা। বিজেপির মধ্যে বিভাজনের সূক্ষ প্রয়াসও চালিয়েছেন সৌমিত্র। তিনি এবং লকেট চট্টোপাধ্যায় এবার মন্ত্রিত্ব পাননি। সৌমিত্র বোঝাতে চেয়েছেন তাঁর বা লকেটের ভূমিকাও দলের ক্ষেত্রে কোনও অংশে কম নয়! দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারী দুই নেতা দুরকমভাবে দল চালাতে চাইছেন বাংলায়, যা নেতা-কর্মীদের মনোবলকে আঘাত করেছে বলেও দাবি সৌমিত্রর। দিলীপ ঘোষের নাম না নিয়েই সৌমিত্র বলেন, উনি অর্ধেক বোঝেন, অর্ধেক বোঝেন না! বালি পাচার রোধে রাজ্য সরকারের ভূমিকার প্রশংসাও শোনা গিয়েছে বিজেপি সাংসদের গলায়, যা সাম্প্রতিক ঘটনা পরম্পরায় নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

নিশানায় শুভেন্দু
শুভেন্দু অধিকারীকে সরিয়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি করা হয়েছিল সৌমিত্র খাঁকে। পরে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী যেদিন বিজেপিতে যোগদান করেন সেদিন তাঁর প্রশংসায় উচ্ছ্বসিত ছিলেন সৌমিত্র। মাঝেমধ্যেই বাংলা তথা দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ছবি শেয়ারও করতেন। হঠাৎই আজ শুভেন্দু অধিকারীর নাম একবারও উচ্চারণ করলেন না। কখনও বললেন লিডার, কখনও বিরোধী দলনেতা! শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে সৌমিত্র খাঁ বলেন, নরেন্দ্র মোদীর প্রতি আস্থা রয়েছে বলেই সাংসদ থাকাকালীন বিজেপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিই। কোনও লোভ নিয়ে আসিনি। কিন্তু এখন যেভাবে দুই-একজন নেতা দেখাতে চাইছেন তাঁদের নেতৃত্বেই সব কিছু হচ্ছে! তৃণমূল থেকে এক নেতা এসে দিল্লিকে ভুল বুঝিয়ে বিপথে চালিত করছেন। উনি বিজেপিতে আসার আগে বলতেন তৃণমূলের বড় নেতা, এখানেও তেমনটা করছেন।

ক্ষোভের বিস্ফোরণ
সৌমিত্র খাঁ শুভেন্দু অধিকারীকে টার্গেট করেই বলেন, উনি বিজেপিতে এসে ১২৮ জনকে জয়েন করিয়েছিলেন যাঁদের বেশিরভাগ চোর-চিটিংবাজ এবং ভোটে হেরেছেন। ভোটে হারাটা অবশ্য দোষের কিছু নয়। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভুল করছিলেন। সেটা ধরেছিলাম বলে আমাকে সাইড করে দেওয়া হয়। দল একমুখী বা এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়ে গিয়েছে। দলের পক্ষে খারাপ। এখন ভোটের সময় নয় বলেই ভুলগুলি ধরিয়ে দিচ্ছি। অথচ বিরোধী দলনেতা দেখাচ্ছেন যেন বিজেপির জন্য তাঁর মতো আত্মত্যাগ আরও কারও নেই। আমরা কেউ কখনও দিল্লিতে দরবার করে বলিনি বাবার জন্য, ভাইয়ের জন্য এটা-ওটা করে দেন। যেভাবে অধিকারী অধিকারী, অধিকার অধিকার করা হচ্ছে তাতে আমি ফেড-আপ। উনিও যেমন অনেকবার জিতেছেন, আমিও জিতেছি। বিরোধী দলনেতাকে বলব, আগে আয়নায় নিজের মুখ দেখুন। আমার বাড়ি এখনও একতলা, দোতলা নয়। আর বিরোধী দলনেতা নিজেকে জাহির করছেন, দলকে নয়।

দিলীপকে আক্রমণ ও বিভাজনের প্রয়াস
সৌমিত্র খাঁ দিলীপ ঘোষের নাম না করে বলেন, আমাদের রাজ্যের বিজেপি সভাপতি অর্ধেক বোঝেন, অর্ধের বোঝেন না। যেভাবে দল চলছে তাতে ভালো কিছু হবে না। যুব মোর্চা চালানোও মুশকিল। গঠনতান্ত্রিক বিরোধিতা করতে হবে। আমাদের অনেক ছেলে, এতো কর্মী মারা গেছেন, এটা দুঃখের। সঠিকভাবে তাঁদের পাশে থাকতে পারিনি। ভোটে যা ফল হয়েছে তাতে ব্যর্থতার দায়িত্ব নিয়েই মোর্চা সভাপতির পদ ছাড়ব আগেও দলকে বলেছিলাম। সম্প্রতি মোর্চার সভায় যাইনি। মানুষের কাজ করতে পারছিলাম না। তবে বিজেপি ছাড়ার প্রশ্ন নেই। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তফশিলী জাতি, উপজাতি, মতুয়া সম্প্রদায়ের জনপ্রতিনিধিদের ঠাঁই দেওয়ায় নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ ও জেপি নাড্ডার প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান সৌমিত্র। বলেন, বাংলার মানুষ দুঃখে আছেন। সোনার বাংলা আমরা গড়ব। নরেন্দ্র মোদী যতদিন রয়েছেন ততদিন আমিও বিজেপিতে থাকব।

বিদ্রোহী সাংসদ রাজ্যের প্রশংসায়
বালি চুরির প্রসঙ্গ টেনে সৌমিত্র খাঁ বলেন, এই দুর্নীতির প্রতিবাদ থেকে আমি সরছি না। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকরা এতে জড়িত। তবে রাজ্য সরকার যেভাবে বালি চুরি কড়ভাবে দমন করথে তা দেখে ভালো লাগছে। দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করতে গিয়ে সৌমিত্র রাজ্য সরকারের প্রশংসা হঠাৎ করায় নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিজেপির অনেকে এমনও বলছেন, সৌমিত্র তো দলকেই জানাতে পারতেন। ফেসবুক লাইভ করার কী ছিল? ফলে সৌমিত্র হঠাৎ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের একাংশের প্রতি বিষোদ্গার করায় তিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাস্তির মুখে পড়বেন কিনা সেটাও দেখার। যদিও শুভেন্দু অধিকারী নিজে সৌমিত্রর বক্তব্যকে গুরুত্বই দিতে চাননি। সৌমিত্র-র স্ত্রী সুজাতা খাঁ অবশ্য নিশ্চিত সৌমিত্র তৃণমূলেই ফিরবেন। তিনিও নিশানা করেছেন শুভেন্দু অধিকারীকে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা
সৌমিত্র খাঁ-এর সঙ্গে মুকুল রায়ের সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত। মুকুল রায় এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করলেও ভুল হয়েছিল বলে সপুত্র বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সৌমিত্র কী করবেন তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। এমন চর্চাও শোনা গিয়েছিল, সৌমিত্র মন্ত্রিত্ব পেলে হয়তো দল ছাড়বেন না। এখন বিজেপি সৌমিত্রকে শাস্তির পথে হাঁটলে তিনিও মুকুল রায়ের সঙ্গে তৃণমূলে পা বাড়াবেন কিনা সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। যদিও মুকুল রায় তৃণমূলে যাওয়ায় তিনি সরবও হয়েছিলেন। এটাও ঠিক, সৌমিত্রর লোকসভা কেন্দ্রের বেশ কয়েকটি বিধানসভা ক্ষেত্রে বিজেপি লোকসভা ভোটে এগিয়ে থাকলেও বিধানসভা ভোটে তার কয়েকটি পুনরুদ্ধার করেছে বিজেপি। সৌমিত্র বিজেপিতে থেকেও কাজ করতে না পারার কথাও বলেছেন। সবমিলিয়ে জল কোনদিকে গড়াবে তা আগামী কয়েক দিন বাংলার রাজনীতিতে বহুলচর্চিত বিষয় হতে চলেছে। সৌমিত্র পর একইভাবে শুভেন্দুকে নিশানা করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, বিজেপির ফাটল চওড়া করতে তাঁদের ব্যবহার করেই দলে ফেরানোর সলতে পাকাচ্ছে না তো তৃণমূল?
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
ভোটের আগে তালিকা সংশোধনে তৎপরতা, সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ -
মালদহের ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত ও সংগঠিত, কালীঘাটে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করে দাবি শুভেন্দুর -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
কালিয়াচক কাণ্ডের পর ফের অশান্তি! অমিত শাহ-র রোড শো ঘিরে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, হাতাহাতি তৃণমূল-বিজেপির -
প্রবল ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া, আতঙ্কে পথে মানুষ -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত?












Click it and Unblock the Notifications