বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলের পুর প্রশাসকের প্রশংসায়, চপ ভাজার পর সৌজন্যে জল্পনা তুঙ্গে
বিজেপির বিধায়ক রাস্তায় বসে চপ ভেজে দলে বেসুরো হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন নাকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিজেপির বিধায়ক রাস্তায় বসে চপ ভেজে দলে বেসুরো হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন নাকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি এবার পুরসভায় হাজির হলেন একেবারে ফুল-মিষ্টি সহযোগে। বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা পুর প্রশাসকের হাতে তুলে দিলেন ফুলের তোড়া সঙ্গে মিষ্টিও। আর প্রশংসায় মুখর হলেন তৃণমূল নেত্রী তথা পুর প্রশাসকের।

মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুপ্রাণিত হয়ে চপ ভেজেছিলেন বিধায়ক। তারপর পুরসভায় গিয়ে পুরপ্রশাসক তৃণমূল নেত্রী অলকা সেন মজুমদারের প্রশংসাকে শুধু সৌজন্য বলে ভাবতে রাজি নয় রাজনৈতিক মহল। আগের দিনের চপ ভাজার পর যতটা না জল্পনা ছড়িয়েছিল, এবার বিজেপি বিধায়কের মুখে তৃণমূল নেত্রী তথা পুর প্রশাসকের প্রশংসা অন্য মাত্রা পেল। বিধায়ককে নিয়ে চাপ বাড়ল বিজেপির অন্দরে।
এদিন বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পুর প্রশাসক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি বলেন, বিজেপি বিধায়ক তৃণমূলে আসতে চাইলে তাঁকে স্বাগত। তাঁর এই কথাতেই জল্পনার মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। এর আগেও বিজেপির ওই বিধায়ক নানা সময়ে নানা জল্পনার অবতারণা করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি যে সমস্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাতে তাঁর বিজেপি-ত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে বিজেপিতে ভাঙন চলছে। বিধায়করা বিজেপি ছেড়ে যোগ দিচ্ছেন শাসক শিবিরে। ইতিমধ্যেই বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ৭৭ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৭০-এ। তারপর মতুয়া গড়ে বিজেপি বিধায়করা বিদ্রোহী হয়েছেন। বাঁকুড়াতেও হোয়াটস অ্যাপ বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল বিজেপিতে। তার সূত্র ধরে বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নিত্য নতুন জল্পনার অবতারণা করে চলেছেন।
দিন দুয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চপ শিল্পের বার্তাকে সমর্থন জানিয়ে চপ ভাজলেন বিজেপি বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই কাজ করেছিলেন বলে দাবি বিধায়কের। যদিও সেই কথাতে মুখ্যমন্ত্রী প্রতি কটাক্ষও লুকিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু তারপর যেভাবে পুর প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করে তিনি প্রশংসার বাণ ছুটিয়েছেন, তাতে তাঁর গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক আগেও তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তৃণমূলের অভিনেত্রী প্রার্থী সায়ন্তিকাকে ফুলের তোড়া নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন একটি দুর্ঘটনায় জখম হওয়ার পর। বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানার সৌজন্য আগে থেকেই ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই সৌজন্যের অন্য মড়ক দেখতে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বিজেপিতে ফের ভাঙন ধরতে চলেছে? বিজেপির পরিষদীয় টিম আরও ছোট হতে চলেছে? এখনও তা নিশ্চিত না হলেও জল্পনার শেষ নেই।












Click it and Unblock the Notifications