হিরণ দ্বিতীয় বিয়ে করে বিপাকে, এফআইআর দায়ের করলেন স্ত্রী অনিন্দিতা
বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী এফআইআর দায়ের করলেন। স্ত্রীর উপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন এবং আইনসম্মত বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই অন্য এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে হিরণের বিরুদ্ধে।
হিরণ সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বারাণসীতে বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরই জল্পনা ছড়ায় হিরণ দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তাঁর স্ত্রী সেই পোস্ট দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। ডিভোর্স ছাড়াই কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব?

বিধায়কের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় আনন্দপুর থানায় স্বামী হিরণ এবং মডেল ঋতিকা গিরির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে খড়গপুর সদরের এই বিধায়ককে ঋতিকার সঙ্গে বেনারসে গাঁটছড়া বাঁধার পর সিঁদুর পরে পোজ দিতে দেখা গিয়েছিল।
১৯ বছর বয়সী মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের অনিন্দিতা জানান, এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তাঁরা দুজনেই মানসিক চাপ ও অপমানের শিকার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, হিরণ কোনও বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পাঠাননি। অনিন্দিতা বলেন, "আমাদের বিয়ে হয়েছে ২০০০ সালের ১১ই ডিসেম্বর, আর একবার ভাবুন আমাদের মেয়ের কী অবস্থা! মেয়ের আর পরিবারের স্বার্থে আমি দীর্ঘ সময় ধরে এই নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু চুপ ছিলাম।"
অনিন্দিতা জানান, পশ্চিম মেদিনীপুরের রাজনৈতিক দায়িত্ব সামলেও হিরণ পরিবারের সঙ্গে সময় দিতেন। ঋতিকার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক ছাড়া অন্য কিছু অস্বীকার করতেন। বিধায়কের মেয়ে নিয়াসা জানান, বাবা না জানিয়ে এমন পদক্ষেপ করায় তাঁকে পরিচিত মহলে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে, যা মেনে নেওয়া কঠিন।
নিয়াসা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বাবার আমাদের জানানো উচিত ছিল। তার বদলে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর দেখলাম। আমার বাবা শুধু আমার মায়ের সঙ্গেই বিবাহিত থাকতে পারেন। এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাব, আমি জানি না।" এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক জানান, এফআইআর গতকাল দায়ের হয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, ঋতিকা গিরি একটি সোশ্যাল মিডিয়া বিবৃতিতে অনিন্দিতার অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর সম্পর্কে "ভুল তথ্য" ছড়ানো হয়েছে এবং অনিন্দিতাকে আইনি বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ঋতিকা আগে বেনারসের বারাণসী মন্দিরে মালা পরে পুজো করার একটি ছবিও পোস্ট করেছিলেন।
ঋতিকা তাঁর বিবৃতিতে লেখেন, "আমরা গত পাঁচ বছর ধরে একসঙ্গে আছি, এবং তিনি সবকিছু জানতেন।" ঋতিকা আরও জানান, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টটি সর্বজনীন, কিছুই গোপন করা হয়নি। বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।












Click it and Unblock the Notifications