বিজেপির বিধায়ক কেন তৃণমূল কার্যালয়ে! ত্রিপুরার গেরুয়া শিবিরে ভাঙনের ইঙ্গিত স্পষ্ট
এবার কি ত্রিপুরা বিজেপিতেও ভাঙন শুরু হতে চলেছে? তৃণমূল ত্রিপুরার দিকে নজর দেওয়ার পর থেকেই বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল।
এবার কি ত্রিপুরা বিজেপিতেও ভাঙন শুরু হতে চলেছে? তৃণমূল ত্রিপুরার দিকে নজর দেওয়ার পর থেকেই বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে বিপ্লব দেবের সঙ্গে দূরত্বই তাঁদের তৃণমূল-যোগের জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছিল। শেষমেশ তৃণমূল ভবনে বিজেপি বিধায়কের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে ভাঙন জল্পনা আরও প্রকট।

তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ ত্রিপুরার বিজেপি বিধায়কের
বিশেষ সূত্রের খবর, শনিবার কলকাতায় এসে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে যান ত্রিপুরার বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস। তিনি আরএসএস ঘনিষ্ঠ নেতা বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি করছেন তিনি। তবে সুদীপ রায় বর্মন বিজেপিতে আসার পর আশিস দাস তাঁর অনুগামী হয়ে পড়েন। বিপ্লব দেবের সমালোচনায় সরব হতে দেখা গিয়েছিল সুরমার এই বিধায়ককেও।

সুদীপ-ঘনিষ্ঠ বিধায়করা বেঁকে বসছেন বিজেপিতে
বিজেপির এই বিধায়ক যে তৃণমূলের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন এদিন কলকাতার তৃণমূল ভবনে তাঁর আশাই বড় প্রমাণ। বেসুরো বিধায়কের এই পদক্ষেপে বিজেপি নেতৃত্বের কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। সুদীপ-ঘনিষ্ঠ বিধায়করা যদি এরপর একে একে তৃণমূলে ভিড়তে শুরু করেন, তবে বিপ্লব দেব সরকারের কপালে দুঃখ রয়েছে।

সুদীপ-অনুগামী বিধায়কের নিশানায় বিপ্লব দেব
ত্রিপুরার ওই বিজেপি বিধায়কের গলায় তৃণমূলের সুর শোনা গিয়েছিল দিন সাতেক আগেই। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের ঘুম ছুটিয়ে ত্রিপুরার পদ্ম-শিবিরের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আশিস দাস। সুদীপ রায় বর্মনকে নিয়ে বিজেপির অস্বস্তি তো আছেই, এবার সুদীপ-অনুগামী এক বিধায়ক বিপ্লব দেব সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাতে সিদ্ধহস্ত।

সুদীপ-অনুগামীর সমালোচনার মুখে বিপ্লব দেব
বিজেপির বিধায়ক আশিস দাস সমালোচনায় বিদ্ধ করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে। আশিস দাস কঠোর সমালোচনা করেন ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিসের আধিকারিদের সম্মেলনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব করা মন্তব্যের। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্য আদালত অবমাননার সমান। তা নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে ত্রিপুরায়। বিরোধীরা তো বিপ্লব দেবকে নিশানা করেনই, বিজেপির বিধায়কও সমালোচনার ঝড় তোলেন বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে।

বিপ্লব দেব বিদ্রোহের আগুন নেভাতে পারেননি
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সিভিল সার্ভিসের আধিকারিদের সম্মেলনে গিয়ে বলেন, পুলিশ তো জেল অবধি নিয়ে যাবে। কিন্তু সেই পুলিশ তো মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিতর্কের ঝড় ওঠে তাঁর এই মন্তব্যের পর। ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। আর এই সমালোচনায় স্পষ্ট মন্ত্রিসভার রদবদলেও বিপ্লব দেব বিদ্রোহের আগুন নেভাতে পারেননি ত্রিপুরা বিজেপিতে।

তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে না তো বিপ্লবের বিজেপি
বিজেপির অন্দরে ধিকিধিকি জ্বলছে বিদ্রোহের আগুন। যে কোনওদিন সেই আগুনে ঘৃতাহুতি পড়তে পারে, তাহলেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে বিজেপি। এই অবস্থায় তৃণমূল বেড়ে চলেছে ত্রিপুরায়। ধীরে ধীরে তারা বিজেপিকে চ্যালেঞ্জের জায়গায় চলে যাচ্ছে। এরপর বিজেপিতে ফাটল ধরতে বিপ্লব দেব সরকারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

বিপ্লবের রাজত্বে যখন মিছিলের অনুমতি মেলেনি তৃণমূলের
সম্প্রতি তৃণমূল ত্রিপুরায় শক্তি পরীক্ষায় নামতে চেয়েছিল পার্টির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। কিন্তু সেই মিছিলের অনুমতি মেলেনি বিপ্লবের রাজত্বে। এই মিছিলকে কেন্দ্রে করে আইনি লড়াই শুরু হয়। তিন বার মিছিলের দিন ঠিক হলেও প্রশাসনিক স্তর থেকে অনুমতি না পাওয়ায় এখনও মিছিল সংঘটিত হয়নি।

বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস অভিষেকের সমর্থনে
এরপরই ত্রিপুরা বিজেপির প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমরা যাতে ত্রিপুরা না যেতে পারি তার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিশ্বের সবথেকে বড় রাজনৈতিক দলের এত ভয় কেন? যেদিন ১৪৪ ধারা উঠবে সেদিনই ত্রিপুরা ঢুকব আমি। আর অভিষেকের সুরে সুর মিলিয়ে বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস বলেছিলেন, ত্রিপুরায় বলা হচ্ছে আইনের শাসন আছে। যদিও সেটা দেখা যাচ্ছে না। এখানে এক এক জনের জন্য এক এক রকম আইন। যেটা বাস্তব, যেটা সত্য, তা স্বীকার করতেই হবে।

আইন ও গণতন্ত্র সকলের জন্য সমান হওয়া উচিত
বিপ্লব দেবের সমালোচনায় বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস আরও বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী তখন বলেছেন অতিথি দেব ভবঃ। তারপর অতিথি আসতে তাঁর ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেওয়ার পথে ১৩-১৪ বার আক্রমণ করা হল কেন। বামেদের একটার পর একটা পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি ঠিক হয়েআমি বিজেপি বিধায়ক হলে বলছি, আইন ও গণতন্ত্র সকলের জন্য সমান এটা মনে রাখা উচিত।












Click it and Unblock the Notifications