যেখানেই বিতর্কিত প্রচার, সেখানেই গোহারা বিজেপি, মোদী-শাহরাও হালে পানি পাননি
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৮টি আসনে জিততে সমর্থ হয়েছে বিজেপি। বিজেপির হেভিওয়েটরা দিল্লিজুড়ে প্রচারে ঝড় তুলেছিল। বিরোধীদের লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্যের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল তারা।
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৮টি আসনে জিততে সমর্থ হয়েছে বিজেপি। বিজেপির হেভিওয়েটরা দিল্লিজুড়ে প্রচারে ঝড় তুলেছিল। বিরোধীদের লক্ষ্য করে বিতর্কিত মন্তব্যের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল তারা। কিন্তু বিজেপি যে জনমানসে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে, তার প্রমাণ দিল্লি নির্বাচনের ফল। আপ এবারও ক্লিন সুইপ করে বেরিয়ে গিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যে সমাবেশগুলিতে বক্তব্য রাখেন, সেই ১২টির মধ্যে কেবল তিনটি আসন বিজেপি পেয়েছিল। চার দিনব্যাপী প্রচারে তিনি পাটপাড়াগঞ্জ, কিরারি, মেহেরলি, উত্তম নগর, দ্বারকা, তুঘলকাবাদ, বিকাশপুরী, রোহিনী, করওয়াল নগর, জাহাঙ্গীরপুরী ও বদরপুরে বিজেপি প্রার্থীদের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
আবার নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরাও প্রচার করেও ফায়দা তুলতে পারেননি। যেসব কেন্দ্রে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রচারে গিয়েছেন, তার বেশিরভাগ কেন্দ্রেই হার মানতে হয়েছে বিজেপিকে। শাহিনবাগের ঘটনা বারবার প্রচারের আলোয় আনা হয়েছে, কিন্তু শাহিনবাগ ইস্যু ডুবিয়ে ছেড়েছে বিজেপিকে।
পশ্চিম দিল্লির জনকপুরিতে বিজেপি সাংসদ পার্শ্ব ভার্মা একটি সমাবেশ চলাকালীন বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সেখানে বিজেপি প্রার্থী আশীষ সুদ আপের রাজেশ ঋষির কাছে ১৪,৯১৭ ভোটে হেরেছিলেন। ভার্মা বলেছিলেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সঙ্গে কাশ্মীরে যা ঘটেছিল তা দিল্লিতেও ঘটতে পারে। লক্ষ লক্ষ লোক শাহিনবাগে জড়ো হয়েছে, তারা ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করতে পারে এবং আপনার বোন-কন্যাকে হত্যা করতে পারে। জনগণকে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। সেখানে জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপিকে ঝাড়ু মেরে বিদায় করেছে।
দক্ষিণ দিল্লির সিএএবিরোধী একটি মূল প্রতিবাদকারী স্থান শাহিনবাগ বিজেপির নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল এই নির্বাচনে। দলীয় প্রার্থী আজাদ সিং আপের ধর্মপাল লাক্রার কাছে হেরে গিয়েছেন। রিথালায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর 'দেশ কে গদ্দারন কো' মন্তব্য করেছিলেন। সেখানে আপের মহিন্দর গোয়েল বিজেপির মণীশ চৌধুরীকে পরাজিত করেছেন।
মডেল টাউন থেকে বিজেপি প্রার্থী কপিল মিশ্র হেরেছেন। তিনি এই নির্বাচনকে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ বলে তুলনা করে বিতর্কিত টুইট করেছিলেন। শেষপর্যন্ত আপের অখিলেশপতি ত্রিপাঠির কাছে হেরে যান তিনি। আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তাঁকে হার মানতে হয়।












Click it and Unblock the Notifications