কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে ধ্বস্তাধস্তি, শুভেন্দু অধিকারী-দিলীপ ঘোষকে লালবাজার তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
পশ্চিমবঙ্গ বাঁচাও কর্মসূচি ঘিরে উত্তাল ধর্মতলা। ধর্মতলা চত্বর থেকে সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং প্রাক্তন বিধায়ক শিলভদ্র দত্তকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ঘটনাস্থলে
পশ্চিমবঙ্গ বাঁচাও কর্মসূচি ঘিরে উত্তাল ধর্মতলা। সোমবার সকালেই ধর্মতলা চত্বর থেকে সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং প্রাক্তন বিধায়ক শিলভদ্র দত্তকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। আর এরপরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীরা।

Recommended Video
গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীকেও। আসেন বঙ্গ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতারাও। তাঁদেরকেও একে একে মহামারী আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে ব্যাপক উত্তেজনা। বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ঘটনাস্থলে।
পুলিশের দাবি, কোনও অনুমতি দেওয়া হয় বিজেপিকে। ফলে কোভিড পরিস্থিতিতে কোনও কর্মসূচি করতে দেওয়া যাবে না বলে অভিযোগ। জানা যায়, খেলা দিবসের পাল্টা পশ্চিমবঙ্গ বাঁচাও কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়। সেই মতো সকাল থেকে চলছিল প্রস্তুতি। রানি রাসমণি রোডে এই জমায়েত শুরু হয়। কিন্তু হঠাত করেই বিশাল পুলিশবাহিনী গোটা এলাকা ঘুরে ফেলে।
শুধু তাই নয়, একের পর এক বিজেপি নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং প্রাক্তন বিধায়ক শিলভদ্র দত্তকে গ্রেফতার করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। মহামারী আইনে গ্রেফতার করা হয় তাঁদের। এই ঘটনার পর কিছুটা কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনে বিজেপি। কার্যত সকাল থেকে রানি রাসমণিতে পুলিশের তরফে সবরকম ব্যবস্থা করা হয়।
কিন্তু পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন বিজেপি নেতারা। যোগ দেন দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারী, জয় প্রকাশ মজুমদার সহ একাধিক বিজেপি নেতা। ছিলেন বিজেপি নেত্রী দেবশ্রী চৌধুরীও। ধর্নার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়।
আর এই অবস্থায় পুলিশকে বাধা দেয় শুভেন্দু, দিলীপ ঘোষের সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী। কার্যত ধ্বস্তাধস্তি বেঁধে যায় দুপক্ষের মধ্যে। শেষমেশ পুলিশের চাপে বেশ বাসে উঠতে বাধ্য হন বিজেপি নেতারা। জানা গিয়েছে, লালবাজারে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মহামারী আইনে তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা কল্যাণ চৌবে জানিয়েছেন, করোনাকে ভুলে গোটা রাজ্যে তৃণমূলের ফুটবল খেলা চলছে। সেখানে মহামারী আইন কার্যকর হচ্ছে না? একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পুলিশের তাণ্ডব মানা যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁর। এই ঘটনার পর বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, আমরা প্রথমদিন থেকে বলে এসেছি রাজ্যে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। সেটাই ফের একবার প্রমাণিত হল।
আজ ১৬ অগস্ট খেলা দিবস পালন করছে তৃণমূল। সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল খেলা চলছে। কার্যত করোনা বিধিকে অনেক জায়গাতে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। যদিও প্রথম দিন থেকে খেলা হবে দিবস নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়ে আসছিল বিজেপি।
এমনকি খেলা হবে দিবসের দিন পরিবর্তন করা নিয়েও রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপির তরফে এই খেলা হবে দিবসের প্রতিবাদ জানিয়ে আসা হচ্ছিল। কিন্তু এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কোনও বক্তব্য রাখেনি।
যার পাল্টা হিসাবে রানি রাসমণিতে পশ্চিমবঙ্গ বাঁচাও কর্মসূচী পালনের ডাক দেয় বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।












Click it and Unblock the Notifications