সীমান্ত শহরের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআরসি ও সিএএ নিয়ে ভয় না পাওয়ার বার্তা শমীকের
কেন্দ্র সরকারের এনআরসি ও সিএএ আইন পাশ হওয়ার পর দেশের নানান প্রান্ত থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার দেখা মিলছে। বিজেপি বিরোধী দল গুলি যেখানে এই বিলের বিরোধিতা করছেন।
কেন্দ্র সরকারের এনআরসি ও সিএএ আইন পাশ হওয়ার পর দেশের নানান প্রান্ত থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার দেখা মিলছে। বিজেপি বিরোধী দল গুলি যেখানে এই বিলের বিরোধিতা করছেন। সেখানে বিজেপি একেবারে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে মানুষকে এনআরসির প্রয়োজনীয়তা তথা গুরুত্ব বোঝানোর জন্য। সেরকমই এক টুকরো ছবি দেখা গেল বসিরহাট মহকুমার সীমান্তবর্তী শহর বসিরহাটে। সিএএ বিল পাশ হওয়ার পর থেকেই বসিরহাট মহকুমার একাধিক জায়গায় দেখা গিয়েছে এর বিরোধিতা করা হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় চলেছে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। কোথাওবা রাস্তায় রীতিমতো টায়ার জ্বালিয়ে, কুশপুতুল পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেছেন সিএএ ও এনআরসি অমান্যকারিরা।

বাদ পড়েনি মহকুমার অন্যতম লাইফলাইন হাসনাবাদ লোকালো। একাধিক স্টেশনে অবরোধ চলায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বাতিল করতে একাধিক লোকাল। চরম হয়রানির শিকার হতে হয় বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত থেকে শুরু করে সুন্দরবনের কয়েক লক্ষ সাধারণ মানুষ, অফিস ও নিত্য যাত্রীকে। পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ হয়ে পড়ে যে প্রশাসন এই মহকুমায় নেট পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। গেরুয়া শিবির যদিও বরাবরই দাবি করে এসেছে বিজেপি বিরোধী দল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিআই (এম), কংগ্রেসের মতো দলগুলি শুধুমাত্র নিজেদের ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিকে দৃঢ় করতে মানুষকে ভুল বুঝিয়েছেন। সেই ভুল শোধরানোর জন্যই এবার মাঠে নেমে পড়ল পদ্ম শিবির।
বসিরহাট পৌরসভার নয় নং ওয়ার্ডের মানুষকে এনআরসি ও সিএএ এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআরসি ও সিএএ এর বিষয়ে আলোচনা করলেন রাজ্য বিজেপি নেতা তথা বসিরহাট দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক শমীক ভট্টাচার্য্য। শুধুমাত্র আলোচনাই নয়, এনআরসি ও সিএএ নিয়ে যাতে সাধারণ মানুষ চিন্তিত না হয় সেই জন্য একটি পুস্তিকাও বিতরণ করেন তিনি।
সেখানে তিনি বলেন, তৃণমূল যেভাবে এনআরসি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছে তারই পাল্টা প্রচার শুরু করলেন তারা। সাম্প্রতিককালে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একরকম কথা বলছেন আর তার ঠিক উল্টো কথা বলছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন সুপ্রিমকোর্ট যদি মনে করেন এর প্রয়োজন আছে তাহলে প্রয়োগ হবে।
২৬শে জানুয়ারির কুচকাওয়াজে বাংলা, মহারাষ্ট্রের এবং কেরালার ট্যাবলো বাদ গেছে তা নিয়ে তিনি বলেন, "ভারতবর্ষের সংবিধান আছে, সংবিধানবিরোধী কোন কিছু হলে তার জন্য সাংবিধানিক অধিকার আছে বাদ দেওয়ার।" পাশাপাশি রাজ্য তৃণমূলের পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর কে নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন। কিশোরকে আমি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে মনে করি না। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মানুষ উনার শরণাপন্ন হয়েছেন, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এদিনের এই কর্মসূচিতে তার সাথে যোগ্য সঙ্গত দেন বসিরহাট বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তারক ঘোষ, বসিরহাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মহল্লা প্রধান প্রদীপ রায়, বসিরহাটের বিজেপি নেতা শুভ্রজিৎ ভট্টাচার্য্য, তরুণ ঘোষ সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মী, সমর্থকরা।












Click it and Unblock the Notifications