আরজি কর কাণ্ড থেকে নজর এড়াতেই 'ম্যান মেড বন্যা'র তত্ত্ব? নথি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন বিজেপি নেতার
আরজি কর কাণ্ড থেকে নজর এড়াতেই 'ম্যান মেড বন্যা'র তত্ত্ব? মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ। হাওড়া, হুগলি সহ মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও জলের তলায়। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। যার ফলে বন্যা পরিস্থিতির নতুন করে অবনতি হওয়ার আশঙ্কা। যদিও বাংলার এই বন্যার জন্য ডিভিসিকে দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায় এটা ম্যান মেড বন্যা।
ইচ্ছাকৃত ভাবে জল ছেড়ে বাংলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। আর এহেন দাবি ঘিরে জোর চাপানোতর রাজনৈতিকমহলে। আর এর মধ্যই মুখ্যসচিবের একটি চিঠি সামনে এসেছে। যেখানে ডিভিসির জল ছাড়ার কথা জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, জেলাগুলিকে সাবধান থাকার কথাও বলা হয়েছে সেই চিঠিতে। আর তা তুলে ধরে এদিন ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী সব জায়গায় ডিভিসিকে দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু আগেই জল ছাড়ার বিষয়ে ডিভিসি রাজ্যকে জানিয়েছিল তা এই চিঠি প্রমাণ বলে দাবি বিজেপি নেতার। শুধু তাও নয়, ১৬ তারিখ গত ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিভিসি যে পরিমান জল ছেড়েছে, তার থেকে অনেক বেশি রাজ্যের জলাধার থেকে রাজ্য সরকার জল ছাড়া হয়েছিল। আর তা ছাড়া হয়েছিল অজয়, ময়ূরাক্ষী, কংসাবতী এবং সুবর্ণরেখা ব্যারেজ থেকে। শুধু তাই নয়, জলাধারগুলির জল ধারনের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা ছাড়া হয় বলে দাবি বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের।
আর এখানেই বিজেপি নেতার প্রশ্ন, যখন জলধারনের ক্ষমতা ছিল রাজ্যের চার ব্যারেজের সেই সময় কেন ছাড়া হল জল? আরজি কর কাণ্ড থেকে নজর এড়াতে পরিকল্পিত ভাবেই রাজ্য সরকার জল ছেড়েছিল? তাও এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী একতরফা ভাবে ডিভিসিকে দায়ী করে চলেছে। কেন বাংলার জলাধার থেকেও যে জল ছাড়া হয়েছে সেটা বলছেন না। সবটাই পরিকল্পিত? তাও এদিন প্রশ্ন তোলেন বিজেপি নেতা।
অন্যদিকে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যেটা বলেছে আমি তার সঙ্গে একমত। এই জলটা যদি একটু আগে থেকে অল্প অল্প করে ছাড়তো তাহলে মানুষের সুযোগ ছিল দরকারি জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার। শুধুমাত্র ১৮ তারিখে পাঁচবার জল ছেড়েছে পাঁচ লক্ষ তিরিশ হাজার কিউসেক। একদিনে এত জল ছেড়েছে যে ভয়ংকর ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। প্রচুর ধান সবজি নষ্ট হয়েছে। মানুষের জীবন নষ্ট হয়েছে মানুষ মারা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications