Dilip Ghosh: "কেজরি, হেমন্ত, লালুপ্রসাদরা জেলে গেলে, দিদিমণির কী আর বাধা আছে!" মালদহে নিশানা দিলীপের
Dilip Ghosh: এসএসসি দুর্নীতির দায়ে ফের মমতার জেলযাত্রার দাবি তুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মালদহের বুলবুলি মোড়ে চায় পে চর্চায় যোগ দিয়ে একাধিক ইস্যুতে শাসকদলকে আক্রমণ শানান বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। চাকরি বাতিল কাণ্ড থেকে ওয়াকফ প্রতিবাদ, শাসকদলকে তুলোধনা দিলীপের। উপস্থিত ছিলেন মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু, বিজেপি বিধায়ক গোপাল সাহা-সহ অন্যান্যরা।
এসএসসি দুর্নীতি প্রসঙ্গে যোগ্যদের তালিকা নিয়ে মমতাকে সুপ্রিম কোর্টের দরবারে যেতে পরামর্শ দিলীপের। তিনি বলেন, "নিজেদের লোকের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাতে চুরিটা না ধরতে পারে। সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল, এবার কি রাষ্ট্রপুঞ্জে যাবে? ব্রাত্য বসুর কিছু করার নেই। মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে ১৮ হাজারের চাকরি ফেরত দিন। শিক্ষকদের সার্ভিস ব্রেক হয়ে গিয়েছে, সেটা একমাত্র আদালতই চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু সরকার চায় না সমাধান হোক।"

কেজরিওয়ালের জেলযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও জেলযাত্রার দাবি তুললেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাব দিয়েছেন মানুষ। কেজরিওয়াল খুব বুদ্ধিমান ছিল, ভেবেছিল কেউ সরাতে পারবে না। সকালে দেখল যমুনার জলে ফেলা হয়েছে। মহানন্দার জলে একেও ফেলতে হবে। যদি কেজরিওয়াল যায়, হেমন্ত সোরেন যায়, লালুপ্রসাদ যায়, দিদিমণির কি আর বাধা আছে? বৃদ্ধাবাস জেলেই হবে, কেউ বাঁচাতে পারবে না।"
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল না হওয়া পর্যন্ত হিন্দুদের উপর অত্যাচার চলবে বলে শাসকদলকে নিশানা দিলীপের। বলেন, "দেশের কোথাও মাওবাদী, জঙ্গিরা নেই। কাশ্মীর পুরো ঠান্ডা। শুধু পশ্চিমবঙ্গে খুন খারাবি চলছে। মোথাবাড়ি, জঙ্গিপুরে হিন্দুদের গাড়ি জ্বালিয়েছে, দোকান বাড়ি জ্বালিয়েছে। পুলিশের থানা জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুলিশকে পেটানো দরকার ছিল। দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়ালে চুপ করে দেখে, আর যে মাস্টারমশাইরা ধর্না দিতে গেছিলেন, তাদের লাঠি-লাথি মারছে। এরা কাপুরুষ।"
দিলীপের আরও আক্রমণ, "রোহিঙ্গাদের গায়ে হাত দিতে পারে না মমতার পুলিশ। মোথাবাড়ি, জঙ্গিপুরে থানা জ্বালিয়েছে। এত অযোগ্য মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে কোনওদিন হয়নি। পশ্চিমবঙ্গকে ভিখারি করে দিয়ে যাবে। আরজি করের ঘটনাও চাপা দিয়েছেন নিজের লোকেদের বাঁচানোর জন্যে। আর এবার শিক্ষকদের বলছেন ভলান্টিয়ারি সার্ভিস করুন। পার্টির লোকেরা করে? খাবে কী? সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে যোগ্যদের লিস্ট দিন।"
মমতা যোগ্যদের লিস্ট দিলে অযোগ্যরা কালীঘাট ঘেরাও করবে বলে মন্তব্য দিলীপের। তিনি বলেন, "যারা টাকা দিয়েছে বলতে পারছে না। টাকাও গেল ,চাকরিও গেল। এবার নেতাদের রাস্তায় ধরবে। ৫০০ টাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে ভোট দিলে ছেলে-মেয়ের চাকরি চলে যাবে।"
এদিন ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়েও সরব হন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, "পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ ৪৮ হাজারের বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু কেউ জানে না কোথায় রয়েছে, কে ভোগ করছে। তৃণমূলের মুসলিম নেতারা সেইসব জমিতে বিয়েবাড়ি, ইটভাটা তৈরি করে পয়সা কামাচ্ছে। এগুলো ছিনিয়ে নিয়ে গরিবদের দেওয়ার জন্যই ওয়াকফ আইন তৈরি হয়েছে। তাতে গরিব মুসলিমদেরও সুবিধা হবে। তা না করে মমতা ব্যানার্জি নেতাদের বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন।"












Click it and Unblock the Notifications