যত ভোট এগিয়ে আসছে, বিজেপির দৈন্য ততই প্রকট হচ্ছে
যত ভোট এগিয়ে আসছে, বিজেপির দৈন্য ততই প্রকট হচ্ছে
আমি ভোট বিশেষজ্ঞ নই, ভোট সমীক্ষকও নই। সচরাচর রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীদের কথাবার্তার ওপর ভিত্তি করে আমি কোনও ধারণা পোষণ করি না। শুধুমাত্র ভোট নিয়ে যাঁরা ভাবনা চিন্তা করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেইসব মানুষজনের মনোভাবটুকু বুঝে আমি আমার ধারণা প্রকাশ করি। সে ধারণা নাও মিলতে পারে। কারণ আমি যাঁদের সংস্পর্শে এলাম, মনোভাব বুঝতে পারলাম, তাঁদের বাইরেও আরও অজস্র লোক রয়েছে। অর্থাৎ ভোটার রয়েছে। যাঁদের মনোভাব হয়তো ভিন্ন এবং তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে ঘটনাচক্রে ২০১০ সাল থেকে আমি রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে যে ধারণা প্রকাশ করেছি, তার শতকরা ৯৮ ভাগই মিলে গিয়েছে। এবার যদি না মেলে তাহলে ধরে নিতে হবে এটাই আমার প্রথম ব্যর্থতা। আমি লোকের মন বুঝতে পারিনি। মাঝখানে যখন বিজেপির লাফঝাঁপ এবং ঢক্কানিনাদে অনেকেই কিছুটা সংশয় পড়েছিলেন, তখনও আমি আমার ধারণা বদলাইনি।

বাড়বে বিজেপি সেই অবস্থা নেই
দমদম এলাকার এক সক্রিয়, অতি তৎপর রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন, সত্যি বলতে কি মাস ৪-৫ আগেও আমার একটু সংশয় ছিল। ভাবছিলাম আমাদের সরকার এত উন্নয়ন করেছে, প্রত্যেকটি সময়ে এত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, ভোটে কি তার কোনও প্রতিফলন ঘটবে না! গত লোকসভা নির্বাচনে আমাদের বিধানসভা এলাকায় বামপন্থী ভোট অনেকটা বিজেপির ঝুলিতে গিয়ে পড়ার পরও তৃণমূলের পাঁচ হাজারের বেশি ভোটে লিড ছিল। এবার কি আর সেটা ধরে রাখা যাবে না! কিন্তু বিজেপির প্রথম দু'দফা প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর আমার সেই সংশয় কেটে গিয়েছে। এখন আমি নিশ্চিত এই এলাকায় আমাদের বিধায়কের মার্জিন আরও অনেকটা বাড়বে বই কমবে না।

প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই হাল্লা বোল
আগামী ২৭ মার্চ এবং ১ এপ্রিল প্রথম দু'দফার ভোট। এই দু'দফার প্রার্থী তালিকা বিজেপি প্রকাশ করেছে সবার শেষে। সেই তালিকা নিয়েও ক্ষোভ-অসন্তোষ ছিল। তবে তা খুব বিরাট আকারে দেখা দেয়নি। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে, স্ক্রুটিনিও হয়ে গিয়েছে। কিছু জায়গায় বিজেপির বিক্ষুব্ধরা প্রার্থী হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তৃতীয় ও চতুর্থ দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর হাল্লা শুরু হয়ে গিয়েছে ব্যাপক। এলাকায় এলাকায় ক্ষোভ বিক্ষোভ হাঙ্গামা। প্রার্থী বদলের দাবিতে কলকাতার নির্বাচনী কার্যালয়েও এসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সেইসব এলাকার কর্মী-সমর্থকরা। যাদের সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জও করতে হয়েছে। এখনও ৪ দফা ভোটের প্রার্থী তালিকা বেরোতে বাকি। সেই তালিকা বেরোলে অবস্থা যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কে জানে! প্রার্থী তালিকা তৈরিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেই নেতাদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদিও আছেন। তাঁরা স্থানীয় প্রার্থীদের ওপরে ততটা ভরসা করতে পারছেন না। বহিরাগত প্রার্থীদের তালিকাভুক্ত করছেন। তৃণমূলের দলছুটের সংখ্যা অনেক। তাই নিয়ে ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে খুব নাজেহাল অবস্থা বিজেপির।

দানা বাঁধছে না বিজেপির প্রচার
অঢেল আয়োজন। সুপারস্টার রাজনৈতিক নেতারা আসছেন প্রচার করতে। বার দুয়েক ঘুরে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। আবার আসবেন। অমিত শাহ তো আছেন, এসেছেন রাজনাথ সিং, আদিত্য যোগী। তবুও প্রচার দানা বাঁধছে না। জনসভায় লোক নেই। ঝাড়গ্রামের সভায় লোক নেই দেখে গেলেনই না অমিত শাহ। যদিও বলা হচ্ছে তার হেলিকপ্টারে গন্ডগোল। তাই যেতে পারেননি। ভার্চুয়াল সভা করেছেন। কপ্টারের গন্ডগোলে শাহ যেতে পারলেন না, এ কথা শুনলে ঘোড়াতেও হাসবে। রাজনাথ, আদিত্য যোগীর সভায় লোক নেই। অন্যদিকে ওজনদার প্রার্থী করতে ৪ জন সাংসদকে নামাতে হয়েছে। তিনজন লোকসভার। বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, নিশীথ প্রামাণিক। যাঁরা গত লোকসভানির্বাচনে জিতে দিল্লি গিয়েছিলেন। একজন রাষ্ট্রপতি মনোনীত রাজ্যসভার সাংসদ, স্বপন দাশগুপ্ত। পরের প্রার্থী তালিকায় আরও কয়েকজন সাংসদ আসতে পারেন। তাহলে ধরে নিতে হবে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রার্থী হওয়ার আবেদনপত্র জমা পড়লেও এরাজ্যে উপযুক্ত প্রার্থী পাচ্ছে না বিজেপি। যাঁরা জিতিয়ে আনতে পারবেন দলকে। দৈন্য দশা ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। এইসব দেখে আমার মনে হচ্ছে এই অবস্থা চলতে থাকলে এবং নরেন্দ্র মোদি এসে ঝড় তুলতে না পারলে তৃণমূল এবার দু'শোর ওপরেই থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications