রাজ্যে বিধান পরিষদ নিয়ে আপত্তি জানাতে চলেছে বিজেপি, মমতার উদ্যোগ নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা
প্রথমে কিছু না বললেও, এবার বিধান পরিষদ (bidhan parishad) নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চলেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি (bjp)। গেরুয়া শিবিরের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগের বিরোধিতা করা হবে বলে জানা গিয়
প্রথমে কিছু না বললেও, এবার বিধান পরিষদ (bidhan parishad) নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চলেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি (bjp)। গেরুয়া শিবিরের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগের বিরোধিতা করা হবে বলে জানা গিয়েছে। বিজেপি মনে করে বিধানসভা (assembly) থাকা সত্ত্বেও পছন্দের লোকেদের জায়গা করে দিতে রাজকোষের ওপরে বোঝা চাপাতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) ।

মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাশ
২০১১-তে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে বিধান পরিষদ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে চেষ্টা শুরু করেছিলেন পরিশদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় সরকার ও বিরোধীদের নিয়ে অ্যাডহক কমিটি তৈরি করা হয়েছিল. তবে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে বিষয়টি গতি পায়। ইতিমধ্যেই প্রস্তাব রাজ্য মন্ত্রিসভায় অনুমদিত হয়েছে।

সংশয় ছেড়ে যুক্তির আশ্রয়
দেশের সব থেকে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশ বিজেপি শাসিত। সেখানে রয়েছে বিধান পরিষদ। তাই এই রাজ্যের ক্ষেত্রে বিজেপি কোনও অবস্থান নেবে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল গেরুয়া শিবিরে। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত রাজ্যে বিধান পরিষদ তৈরির চেষ্টার বিরুদ্ধে অলআউট যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। তারা আরও বলেছে, সংবিধান অনুযায়ী বিধান পরিষদের সেরকম কোনও ক্ষমতা নেই। আর যেখানে রাজ্য বলছে আর্থিক অবস্থা খারাপ, সেখানে বিধান পরিষদের গঠনের প্রয়োজনীয় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। প্রসঙ্গত ৬ জুলাই রাজ্য বিধানসভায় বিধান পরিষদ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বেশিরভাগ বিজেপি শাসিত রাজ্যে আছে বিধান পরিষদ
দেশে বর্তমানে বেশিরভাগ বিজেপি শাসিত রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। রাজ্যগুলির উচ্চকক্ষ রয়েছে উত্তর প্রদেশ, বিহার, কর্নাটকে। এছাড়াও তা রয়েছে মহারাষ্ট্র, জম্মু-কাশ্মীর এবং অন্ধ্রপ্রদেশে। এসব ক্ষেত্রে বিজেপির সাফাই হল রাজ্যগুলিতে বিধান পরিষদ আগে থেকেই চালু রয়েছে। এই রাজ্যের মতো লুপ্ত হওয়া উচ্চকক্ষকে বিজেপি ফিরিয়ে আনেনি বলেও বলা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের তরফে।

রাজ্য বিধানসভায় পাশ হলেও বাধা হবে সংসদ
সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে রাজ্য বিধানসভায় বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব তৃণমূল পাশ করাতে পারলেও, তা বাধা হয়ে দাঁড়াবে সংসদে পাশ করানোর ক্ষেত্রে। কেননা সেখানে বিজেপি তথা এনডিএ সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্যদিকে এবারের বিধানসভায় তাদের কোনও সদস্য না থাকলেও, বামেরাও আগের মতোই রাজ্যে বিধান পরিষদের বিরুদ্ধে সরব। সে ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

রাজ্যে বিধান পরিষদের অবলুপ্তি ১৯৬৯ সালে
একটা সময়ে এই রাজ্যে বিধান পরিষদ ছিল। ১৯৬৯ সালে রাজ্য বিধানসভায় সর্বসম্মতিতে তার অবলুপ্তি হয়। সেই সময় উদ্যোগটা ছিল সিপিএম-এর। তাতে মদ দিয়েছিলেন কংগ্রেস এবং যুক্তফ্রন্টের ২২২ জনের সবাই। তৎকালীন আরএসপির যতীন চক্রবর্তীর প্রস্তাবে সমর্থন করেছিলেন কংগ্রেসের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। তিনি বিধান পরিষদকে কটাক্ষ করে অ্যাপেনডিক্স নামে অবিহিত করেছিলেন। বিধান পরিষদকে আর্থিক বিলাসিতার পাশাপাশি গণতন্ত্রের পক্ষে অস্বাস্থ্যকর বলেও কটাক্ষ করেছিলেন, সেই সময় বিধান পরিষদের বিরোধিতা করা বিধানসভার সদস্যরা।












Click it and Unblock the Notifications