মুকুল রায় শীঘ্রই ‘সুখবর’ পাবেন! বিজেপিতে ১৮ মাসে বছর হয়, ধৈর্য হারাবেন না
বিজেপিতে প্রায় তিন বছর হতে চলল মুকুল রায়ের এখনও একটা পদ মেলেনি। এতদিনে তিনি শুধু কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তাঁর কর্মভূমি যখন বাংলা, সেখানে তিনি দিলীপ ঘোষের অধীন।
বিজেপিতে প্রায় তিন বছর হতে চলল মুকুল রায়ের এখনও একটা পদ মেলেনি। এতদিনে তিনি শুধু কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। তাঁর কর্মভূমি যখন বাংলা, সেখানে তিনি দিলীপ ঘোষের অধীনে কাজ করছেন। সেটাই মুকুল রায়ের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর গুরুত্ব বাড়ানো হোক এমন আর্জি তিনি প্রকারান্তের বহুবার জানিয়েছেন। কিন্তু আজও সেই দুয়ার খোলেনি।

মুকুল রায়কে নিয়ে ভাবছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব
মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ার পর বহুবার তাঁকে মন্ত্রী করা নিয়ে কিংবা কেন্দ্রীয় কোনও পদ দেওয়া নিয়ে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু শেষমে কিছুই জোটেনি। সম্প্রতি তাঁকে রাজ্যসভার সংসদ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পদে আনা হবে বলে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তাও ভেস্তে গিয়েছে। এই অবস্থা মোদী-শাহ ঘনিষ্ঠ এক সংসদ জানিয়েছেন মুকুল রায়কে নিয়ে ভাবছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

মুকুল রায়কে নিয়ে খুব তাড়াতাড়িই সুখবর আসছে
তাঁর কথায়, বিজেপিতে ১৮ মাসে বছর হয়। তাই মুকুল রায়ের পদ ঝুলে রয়েছে। তবে ২০২১-এর আগে বিজেপিতে তাঁর গুরুত্ব বাড়ানো হবে। মুকুল রায় খানিকটা অধৈর্য হয়ে পড়েছেন। তাই এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তবে মুকুল রায়কে যে বিজেপিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, তা নয়। মুকুল রায়কে নিয়ে খুব তাড়াতাড়িই সুখবর চলে, তিনি তা হলফ করে বলতে পারেন।

মুকুলের কলকাতায় ফিরে আসা নিয়ে জল্পনা
এদিকে মুকুল রায় বিগত কয়েকমাস ধরে নিস্ক্রিয় হয়ে আছেন রাজ্য রাজনীতিতে। তাঁর আক্রমণে আগের ঝাঁঝ দেখা যাচ্ছে না তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপির কর্মসূচিতেও সেভাবে দেখা যাচ্ছে না তাঁকে। অমিত শাহের ভার্চুয়াল সমাবেশ ছাড়া নিয়মিত যে বৈঠক গুলি হচ্ছে একটিতেও তিনি সক্রিয় হননি। এই অবস্থায় দিল্লির বৈঠক ত্যাগ করে মুকুলের কলকাতায় ফিরে আসা নিয়ে এখন জোর জল্পনা চলছে।

মুকুলকে নিয়ে দিলীপের ভাষ্যে জল্পনা
মুকুলের এহেন পদক্ষেপে বঙ্গ বিজেপিতে ২০২১ নির্বাচনের আগে ফাটল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কেননা মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষ পরস্পরবিরোধী কথা বলছেন। মুকুল রায় বলছেন তিনি জানতেন চার-পাঁচদিন ধরে বৈঠক চলবে। দিলীপ ঘোষ প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রত্যেকেই জানেন এই বৈঠকের নির্ঘণ্ট। মুকুলদা জানবেন না, তা হতে পারে না।

কলকাতায় ফিরে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুকুল
ফলস্বরূপ মুকুল রায় কলকাতায় ফিরে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা অনেকের মতেই যুক্তিসঙ্গত নয়। বিতর্ক এড়াতেই তিনি ওইসব যুক্তি খাঁড়া করছেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত। না হলে মুকুল রায়ের মতো রাজনীতি অন্তপ্রাণ নেতা একুশের নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে শুধু চোখের ডাক্তার দেখানোর জন্য ফিরে আসবেন একদিন পরেই, তা মানা যায় না।

ঠান্ডা লড়াই রয়েছে মুকুল ও দিলীপের
মুকুল রায় যে ব্যাখ্যাই দিন দিলীপের জবাবে ঠান্ডা লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দিলীপ তো স্পষ্ট করেই বলে দিয়েছেন, অন্য কারও ব্যাপারে আমার পক্ষে বলা ঠিক হবে না। তবে আমাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে চার-পাঁচ দিনের জন্য চলে আসুন, আমি সঙ্গে সঙ্গে বডি ফেলে দিয়েছি দিল্লিতে। যদিও তিনি মুকুল রায়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে মানতে নারাজ।

স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না মুুকুলকে!
মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ মহলে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দিল্লির শীর্ষ নেতাদের কাছে বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আসলে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে তাঁর কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। রাজ্যে যাঁদের সঙ্গে বিজেপির লড়াই, সেই দলে তিনি সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন। সেখানে স্বাধীনতা ছিল তাঁর। বিজেপিতে সেটাই বিরল।

দিলীপ বনাম মুকুলের দ্বন্দ্ব মেটাতে তৎপর হবে বিজেপি!
এই অবস্থায় বিজেপি চাইছে মুকুল রায়ের গুরুত্ব বাড়াতে। কিন্তু সেখানেও অযথা বিলম্ব বাংলায় বিজেপিতে ফাটল তৈরি করেছে। আগে যেমন দুটো গোষ্ঠীর মধ্যে ভেদাভেদ ছিল। এখনও তেমনই রয়ে গিয়েছে। আগে ছিল দিলীপ গোষ্ঠী বনাম রাহুল গোষ্ঠী। এখন সেখানে রাহুল গোষ্ঠীর জায়গায় এসেছে মুকুল গোষ্ঠী। অর্থাৎ দিলীপ বনাম মুকুলের দ্বন্দ্বেই বিজেপিতে আড়াআড়ি ফাটল তৈরি হতে চলেছে ২০২১-এর আগে। তা মেটাতে বিজেপি তৎপর হবে শীঘ্রই।












Click it and Unblock the Notifications