আব কি বার, ২৫ পার! তৃণমূলকে একুশে সাফ করতে না পেরে ২৪-এর রণনীতি বিজেপির
ঊনিশে হাফ, একুশে সাফ- স্লোগান তুলে কুরুক্ষেত্রে নেমেছিল বিজেপি। কিন্তু একুশের মহাসংগ্রামে বিপর্যয় হয়েছে বাংলার গেরুয়া শিবিরের। তারপর দলে শুধু কোন্দল আর ভাঙন। একের পর এক বিজেপি নেতা, বিধায়ক, সাংসদ দল ছাড়ছেন।
ঊনিশে হাফ, একুশে সাফ- স্লোগান তুলে কুরুক্ষেত্রে নেমেছিল বিজেপি। কিন্তু একুশের মহাসংগ্রামে বিপর্যয় হয়েছে বাংলার গেরুয়া শিবিরের। তারপর দলে শুধু কোন্দল আর ভাঙন। একের পর এক বিজেপি নেতা, বিধায়ক, সাংসদ দল ছাড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে ২০২৪-এর রণনীতি স্থির করে ফেলল বিজেপি। তৈরি হল ২৪-এর নয়া স্লোগান।

অব কি বার, ২৫ পার
ঊনিশে তৃণমূলকে হাফ করে দেওয়ার সংকল্প নিয়ে ভোট ময়দানে নেমেছিল বিজেপি। আর তৃণমূল তুলেছিল ৪২-এ ৪২-এর স্লোগান। কিন্তু বিজেপিই মিলিয়ে দিয়েছিল ভবিষ্যদ্বাণী। দিলীপ-মুকুলের পরিকল্পনায় তৃণমূল নেমে এসেছিল ২২-এ। আর বিজেপি ২ থেকে বেড়ে ১৮। প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি লোকসভা আসনে জয়যুক্ত হয়েছিল বিজেপি। সেই থেকেই শুরু হয়েছিল একুশের স্বপ্ন দেখা।

একুশে সাফ, তৈরি স্লোগান
২০১৯-এর ভোট থেকে যে রসদ পেয়েছিল, তা দিয়েই বিজেপি ভেবেছিল একুশের বৈতরণী পার করে যাবে। কিন্তু বাংলা বড় শক্ত ঠাঁই, সেই আবেগের জোয়ারে ভাসেনি বাংলা। ঊনিশে হাফ হলেও একুশে সাফ হয়নি তৃণমূল। বিজেপির পরিস্থিতি হয়েছে শোচনীয়। তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে দিয়েছেন একুশের ভোটে।

আব কি বার ২০০ পার
বিজেপি একুশরে নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরিকল্পনা করেছিল। সেই মহোল্লাসে বিজেপি ঘর ভেঙে ছারখার করে দিতে শুরু করেছিল তৃণমূল। তখনও বোঝা যায়নি বাংলার নির্বাচনে তৃণমূল ফের বিপুল আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে। ভোটের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তৃণমূল তিনবারের মধ্যে সেরা আসন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। ২০০-র স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে বিজেপি ঠেকেছে শুধু ৭৭-এ।

ভবিষ্যতের রণনীতি নিরূপণ
সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিজেপি এদিন বৈঠকে বসেছিল ভবিষ্যতের রণনীতি নিরূপণ করতে। কী করে দলের ভাঙন রুখে বিজেপিকে আবার নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। বিদ্রোহী ও বেসুরোদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও বলেন দলবিরোধী কাজ রেওয়াত করা হবে না।

অনুশাসনের বার্তা বিজেপির
এদিন বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দলের নেতা-কর্মীদের অনুশাসনের বার্তা দেওয়া হয়। দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপি ব্যক্তি নয়, নীতি-নির্ভর দল। বিজেপি হল গঙ্গার মতো। সব ময়লা ধুয়ে যাবে বিজেপিতে। যারা ভয় পান বিজেপি ছেড়ে দিন। তা না হলে যত বড় নেতাই হন না কেন, দল তাড়িয়ে দেবে। বুথস্তরে সংগঠন বাড়ানোর উপর জোর দেন সুকান্ত মজুমদার।

২০২৪-এর লক্ষ্যে বিজেপি
এদিনের বৈঠকে বিজেপি ২০২৪-এর লক্ষ্য স্থির করে ফেলে। তৈরি হয় নতুন স্লোগান। নতুন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ২০২৪-এ কমপক্ষে ২৫ আসন দখলের ডাক দেন। তিনি স্লোগান তোলেন, আব কি বার ২৫ পার। সেইসঙ্গে তিনি পুরসভা ভোটে জয়ের টার্গেট ফিক্সড করেন। বলেন, পুরসভায় না জিলে লোকসভা জেতা যায় না। এমপি-এমএলএ ধরে রাখা যায় না।

বিজেপিতে কৃতিত্ব দিলীপের
সদ্য প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকেই বিজেপিকে বড় করার সিংহভাগ কৃতিত্ব দিলেন বর্তমান রাজ্য সভাপতি। সুকান্ত মজুমদার বলেন, দিলীপ ঘোষের হাত ধরেই বিজেপি ২ কোটির বেশি ভোট পেয়েছে। তাঁর আমলেই বিজেপি গোটা বাংলায় সম্প্রসারিত হয়েছে। এ কৃতিত্ব অস্বীকার করা যাবে না। বাংলায় বিজেপির শক্তিবৃদ্ধির সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিলীপ ঘোষেরই।












Click it and Unblock the Notifications