তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসানোই লক্ষ্য, বিজেপি বিকল্প পথের সন্ধানে
বিজেপি বুঝে গিয়েছে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসাতে না পারলে বাংলা জয় করা যাবে না। সে জন্য বিকল্প এক পন্থা অবলম্বন করল বিজেপি। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের আগে নন্দকুমার মডেলকই তারা করতে চাইছে তুরুপের তাস।
বিজেপি বুঝে গিয়েছে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসাতে না পারলে বাংলা জয় করা যাবে না। সে জন্য বিকল্প এক পন্থা অবলম্বন করল বিজেপি। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটের আগে নন্দকুমার মডেলকই তারা করতে চাইছে তুরুপের তাস। তেইশে পঞ্চায়েত ভোটে জয় তুলে নিতে নীচুতলায় বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এগনোর পরিকল্পনা করেছে বিজেপি।

একুশের ভোটে ধাক্কা খাওয়ার পর শুধু হার জুটেছে। বিজেপি চাই ২০২৪-এর মহাযুদ্ধের আগে পঞ্চায়েত ভোটকে পাখির চোখ করেছে। বছর ঘুরলেই ভোট, তার আগে বিজেপি গ্রাম দখলের লড়াইয়ে তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে নজর দিয়েছে। কেননা সংখ্যালঘু ভোট সিংহভাগ তৃণমূলের দিকে রয়েছে। ফলে তৃণমূল ২৫ শতাংশ এগিয়ে থেকে ভোট লড়াই শুরু করছে।
তাই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্কে থাবা বসালে না পারলে বিজেপির কোনও আশা নেই বাংলায়। তৃণমূলকে টেক্কা দিতে গেলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতে হবে। আর এই জন্যই নীচুস্তরে বামেদের হাত ধরতেও বিজেপি মরিয়া। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বামেদের সঙ্গে জোটের প্রসঙ্গ উড়িয়ে দিলেও নীচুতলার নেতৃত্ব কিন্তু যথেষ্ট আগ্রহী এই মডেলে।
নন্দকুমার মডেলে সাফল্যরের বিজেপির নীচুতবার নেতৃত্বে ঠিক করেছে, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে গেলে বামেদের সঙ্গে অলিখিত জোট দরকার। শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্য এই জল্পনার পারদ চড়িয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী একটি সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বলেছেন, তৃণমূল সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোটে হারবে। বিজেপিকে সংখ্যালঘুরা জেতাবে কি না জানি না, তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। সংখ্যালঘু ভোটে তৃণমূল হারবে। তাঁর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই উঠে এসেছে রাম-বাম জোট তত্ত্বের চর্চা।
শুভেন্দু অধিকারী এর আগে একাধিকবার বামেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। একসঙ্গে তৃণমূল-বিরোধী আন্দোলনে শামিল হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। আবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে এক জায়গায় ভোট দেওার আহ্বানও জানিয়েছিলেন। আর সম্প্রতি বিজেপি সাংদ সৌমিত্র খাঁ আবার বলেছেন তৃণমূল বনাম আমরা সবাই। আমাদের সঙ্গে যাঁরাই আসবেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলকে হারাতে চাই। অর্থাৎ প্রকারান্তরে তিনি বামেদের আহ্বান জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, কংগ্রেসকেও ঘুরিয়ে বার্তা দিয়েছেন।
এখন তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোট কাড়তে বামেদের শক্তিশালী করে তাঁরা হাত ধরে চলবেন কি না, তা বলবে ভবিষ্যৎ। তবে পঞ্চায়েত ভোটের আগে এমন নানা তত্ত্ব নিয়ে চর্চা চলছে। মোট কথা, বাংলায় জয় হাসিল করতে বিজেপি এখন মরিয়া। তাতে যে অঙ্কে জয় আসে আসুক, তৃণমূলকে হারানোই মূল কথা। আর সেই সলতে পাকানোর কাজটা শুরু করে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বাংলায় ক্ষমতার স্বাদ পেতে তাই বিকল্প ভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে বিজেপির অন্দরে।












Click it and Unblock the Notifications