চোপড়া কাণ্ড নিয়ে মমতার ইস্তফা দাবি বিজেপির, রিপোর্ট তলব করলেন রাজ্যপাল
পশ্চিমবঙ্গে তালিবানি অত্যাচারের শিকার যুগল। চোপড়ার ঘটনা ভাইরাল হতেই রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে যিনি মা-বোনেদের সম্মান নিয়ে কথা বলেন সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নেতাই এক মহিলার উপর এভাবে নারকীয় অত্যাচার চালাচ্ছে । এই তালিবানি শাসন চালাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাই। এই ঘটমনা দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছে বিজেপি।

গতকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল একটি ভিডিও। তাতে দেখা গিয়েছিল এক গৃহবধূ এবং এক যুবককে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারছে এক ব্যক্তি। আর চারপাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে জনতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ভাইরাল হতেই জানা যায় যে সেটি উত্তর দিনাজপুরের লক্ষ্মীপুর গ্রামের ঘটনা। যিনি মারছেন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা।
চোপড়ার বিধায়কও সেকথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন। অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতার নাম জেসিবি বা তাজিমুল হক। গ্রামে কোনও ঘটনা ঘটলেই ইনসাফ সভা নামে সালিশি সভা বসাতেন সেই নেতা। তাঁর আদালতে এক প্রকার বিচার হত। সেই ইনসাফ সভাতেই গত শুক্রবার গ্রামের এক গৃহবধূর বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক নিয়ে মিমাংসা করা হয়। তার পরেই বেধড়ক এই মারধর।
যাকে বলে তালিবানি নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরে। বিধায়ক ঘনিষ্ঠ নেতা তাজিমুল সেকারণে পুলিশও তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার সাহস দেখায়নি প্রথমে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি ভাইরাল হতেই চাপ বাড়ে পুলিশ প্রশাসনের উপরে। তারপরেই স্বতোঃপ্রণদিত মামলা দায়ের করে তাজিমুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে বিধায়ক তাজিমুলের কীর্তিকে সমর্থন না করলেও লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছিলেন মেয়েটিরও দোষ ছিল।
তারপরেই দিল্লিতে বিজেপির মুখপত্র সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতার এই কীর্তি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। বিজেপি নেতা অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গেই এই তালিবানি আইন সম্ভব। মুসলিম বলে নিজেদের আলাদা করে আইন তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করেছেন তিনি।
বিজেপির পক্ষ থেকে তাজমুলকে সন্দেশখালির শাহজাহান শেখের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যেমন সন্দেশখালিতে এক কথায় এক নায়ক তন্ত্র চালাত শাহজাহান শেখ। তাজমুলও সেটাই করত। এলাকার দাপুটে নেতা ছিলেন তিনি। তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য ছিলেন তাজিমুল। তার আতঙ্কে কেউ ভয়ে কোনও কথা বলতে পারতেন না।












Click it and Unblock the Notifications