মুকুলকে ‘আালাদা’ হয়ে যাচ্ছেন! ২০২১ নির্বাচনের আগে বড় ‘সিদ্ধান্ত’ নিয়ে নিল বিজেপি
মুকুল রায় বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে আর আসবেন না, এই খবর নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। তবে বিজেপিও যে সে কথাই ভাবছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল অবশেষে।
মুকুল রায় বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে আর আসবেন না, এই খবর নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। তবে বিজেপিও যে সে কথাই ভাবছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল অবশেষে। মুকুল রায়কে আলাদা অফিস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এমনকী একা মুকুল রায়ের অফিসই নয়, সেইসঙ্গে অমিত শাহেরও একটা অফিস তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে এ রাজ্যে।

মুকুলের জন্য পৃথক অফিস হচ্ছে
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকুল রায়ের জন্য আলাদা অফিস করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে বিশে, দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই দায়িত্ব পালন বিজেপির নতুন অফিস থেকে করবেন মুকুল রায়। কলকাতার অদূরে নিউ টাউন বা সল্টলেকে পৃথক অফিস হচ্ছে তাঁর জন্য। বিজেপিতে রাজনৈতিক ‘অভ্যুত্থান' তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

মুকুলের তৃণমূল যোগ নিয়ে জল্পনা চলছিল
বেশ কিছুদিন ধরেই মুকুল রায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে আসেন। রটে যায় তিনি বিজেপিতে খুশি নেই। সে জন্য তাঁকে মন্ত্রিত্ব এবং কেন্দ্রীয় পদ দেওয়া নিয়ে জল্পনা বাড়তে থাকে। এরই মধ্যে তাঁকে নিয়ে জল্পনা শুরু, তিনি নাকি তৃণমূলে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ইতিমধ্যে দু-বার তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে বলেও বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মেলে। মুকুল রায় অবশ্য সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেন সমূলে।

মুকুল বিজেপিতে অফিসে যাবেন না, জল্পনা
ওই ঘটনায় সপ্তাহকাল কাটনে না কাটতেই ফের তাঁকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এবার জল্পনা তাঁর বিজেপি সদর দফতরে না আসা নিয়ে। তিনি জানিয়েছেন, ৬ মুরলিধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য অফিসে তিনি আর যাবেন না। এ জন্য তিনি পরিচ্ছন্নতার কারণ দর্শিয়েছেন। বলেছেন, বড্ড ঘিঞ্জি ও অপরিচ্ছন্ন অফিস চত্বর। তাই তিনি সল্টলেকে অফিস খুঁজছেন।

মুকুলের ‘দূরত্ব' তৈরির ব্যাখ্যা
প্রশ্ন ওঠে, ২০২১-এর নির্বাচন প্রাক্কালে তিনি কেন এতবড় সিদ্ধান্ত নিলেন। তা নিয়ে চর্চা চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। এর নেপথ্যে যা গূঢ় রহস্যউই থাকুক না কেন, মুকুল রায় সাফাই গান, তিনি তো রাজ্য নেতা নন। তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা, তাহলে তাঁর রাজ্য দফতরে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তা নিয়ে এত কথার কী আছে!

রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের রসদ জোগাবেন মুকুল
এরপরই বিজেপির তরফেও জানানো হয় মুকুল রায়কে নিয়ে আলাদা করে ভাবছে বিজেপি। মুকুল রায়কে ২০২১-এর আগে বিজেপিতে বিশে। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সে জন্য তাঁর বিজেপির সদর দফতরে আসার কোনও প্রয়োজন নেই। পৃথক অফিস হচ্ছে তাঁর জন্য। সেখান থেকেই তিনি বিজেপির হয়ে রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের রসদ জোগাড় করবেন।

শুধু একা মুকুল রায়েরই নয়, শাহেরও অফিস
তবে শুধু একা মুকুল রায়েরই নয়, ২০২১-এর লক্ষ্যে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জন্যও একটি পৃথক অফিস তৈরি করা হচ্ছে এ রাজ্যে। কারণ শাহ এবার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে অনেক বেশি সময় দেবেন। অনেক বেশি প্রচারমুখী থাকবেন। তাই সল্টলেকেই কোনও অফিস খোঁজা হচ্ছে।

তৃণমূল ভেঙে দলের শক্তি বৃদ্ধির দায়িত্বে মুকুল
সম্প্রতি অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল মুকুল রায়। সেই বৈঠকের পরই উভয়ের জন্য পৃথক অফিস হচ্ছে। যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিজেপির পক্ষ থেকে থেকে মুকুল রায়কে মূলত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল ভেঙে গেরুয়া শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি করার। যে সমস্ত তৃণমূল নেতা বিজেপিতে আসতে চান তাঁদেরকে যোগদান করানো ছাড়াও যাঁরা দলে যোগ দিতে শর্তও রেখেছেন, তাঁদের বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করাও মুকুল রায়ের কাজ হবে।












Click it and Unblock the Notifications