মুকুল-ঘনিষ্ঠ কৈলাশের ডানা ছাঁটল বিজেপি শিবির! একুশের আগে কী সমীকরণ বঙ্গের ভোটে
মুকুল-ঘনিষ্ঠ কৈলাশের ডানা ছাঁটল বিজেপি! একুশের আগে কী সমীকরণ বঙ্গের ভোটে
মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আসার পর বিজেপিতে সবথেকে বেশি সখ্যতা হয়েছিল কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র সঙ্গেই। এবার যখন তিনি মুখভার করেছিলেন গুরুত্ব না পেয়ে, তখন অমিত শাহের নির্দেশে কৈলাশই মুকুলকে টেনে বের করেছিলেন। সেই কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র এবার ডানা ছেঁটে দেওয়া হল। বিজেপির থিঙ্কট্যাঙ্ক বঙ্গ রাজনীতির ব্যাটন রাখল নিজেদের হাতে।

দিলীপের পর টার্গেট মুকুল-ঘনিষ্ঠ কৈলাশ
দুদিন আগেই দিলীপ ঘোষ ঘনিষ্ঠ সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায় সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে সরিয়ে অমিতাভ চক্রবর্তীকে আনা হয়েছে। ফলে দিলীপ ঘোষের মুখভার। তিনি কেন্দ্রীয় বিজেপির এই সিদ্ধান্তে অখুশি। তারপর ঘটল কৈলাশের ঘটনা।

কৈলাশকে সরিয়ে বিজেপির কড়া বার্তা
কৈলাশ বিজয়বর্গীয়কে বাংলা ছেড়ে মধ্যপ্রদেশে বেশি সময় দিতে বলা হয়েছে বিজেপির তরফে। বাংলা তিনি দেখবেন, কিন্তু অগ্রাধিকার দিতে হবে মধ্যপ্রদেশকে। মুকুল রায় বিজেপিতে সক্রিয় হওয়ার পর হঠাৎ করে তাঁর মাথার উপর থেকে কৈলাশকে সরিয়ে বিজেপি কড়া বার্তা দিতে চাইল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।

বিজেপি কাউকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না
একদিকে কৈলাশের ডানা ছেঁটে মুকুলের নিবৃত্ত করা আর অন্যদিকে সুব্রতকে সরিয়ে দিলীপকে বার্তা দিয়ে বিজেপির হাইকম্যান্ড বুঝিয়ে দিল তাঁরা ব্যালান্স করে চলছেন। সামনেই নির্বাচন, তাই দ্বন্দ্ব করলে চলবে না। আর বিজেপি কাউকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেও না। সবাইকে সমান চোখে দেখছে। বার্তা দিতে চাইছে, দ্বন্দ্ব ভুলে কাজ করার।

বঙ্গ বিজেপিতে খর্ব কৈলাশের কর্তৃত্ব
বিজেপির হাইকম্যান্ড কৈলাশকে বাংলার থেকে তাঁর নিজের রাজ্য মধ্যপ্রদেশে বেশি সময় দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির আর এক কেন্দ্রীয় সম্পাদক শিব প্রকাশকে বাংলায় বেশি সময় দিতে বলা হয়েছে। এই যে কৈলাশের পরিবর্তে শিবপ্রকাশকে বাংলায় বেশি সময় দিতে বলা, সেটাই খর্ব করেছে কৈলাশের কর্তৃত্ব।

পর পর দুই বড় সিদ্ধান্ত বিজেপিতে
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কৈলাশের ডানা ছাঁটা মুকুল রায় শিবিরের পক্ষে বড় ধাক্কা। কারণ হিসেবে তাঁদের ব্যাখ্যা, বাংলায় মুকুল-দিলীপ দ্বন্দ্ব মেটাতে না পেরেই দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতারা পর পর দুই বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল। একইসঙ্গে মুকুল এবং দিলীপকে বার্তা দেওয়া হল।

দিলীপ ও মুকুল, কারও কিছু বলার নেই
রাজনৈতিক মহলের আরও একটি ব্যাখ্যা, সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে হঠাৎ করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর থেকেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ রাগে ফুঁসছিলেন। তাঁকে শান্ত করতেই মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র ডানা ছেঁটে দেওয়া হল। ফলে কারও কিছু বলার থাকবে না।












Click it and Unblock the Notifications