ভোট ফুরোলেই ভোটের বাদ্যি বাংলায়! পুজোর মরশুমে চারকেন্দ্রে উপনির্বাচনে নিয়ে বিতর্ক
ভোট ফুরোলেই ভোটের বাদ্যি বাংলায়! পুজোর মরশুমে চারকেন্দ্রে উপনির্বাচনে নিয়ে বিতর্ক
ভোট কেন পুজোর মরশুমে? উৎসবের এই মরশুম শেষ করে কি ভোট করা যেত না। শাসক দল যখন ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, তখন বিরোধী দলগুলির সুর মিলে গেল। বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের এক সুর। লড়াইয়ের ময়দান থেকে তারা সরে যাবেন না। তা বলে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতেও তারা ছাড়বে না।

বাংলার বাকি চার কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা
রাত পোহালেই ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচন। সাধারণ নির্বাচন হবে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুরেও। তার আগেই নির্বাচন কমিশন বাকি চার কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করে দিল। ৩০ অক্টোবর বাকি চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন হবে। দিনহাটা, শান্তিপুর, গোসাবা ও খড়দহ কেন্দ্রের ভোটের দামাম বেজে যাবে বৃহস্পতিবারের তিন কেন্দ্রের নির্বাচন মিটলেই।

কেন দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর মধ্যে ভোট, প্রশ্ন
এখন প্রশ্ন হল, কেন দুর্গাপুজো ও কালীপুজোর মধ্যে ভোট করা হচ্ছে। মাঝে আবার রয়েছে লক্ষ্মীপুজো। উৎসবের মরশুমে মানুষের অসুবিধা করে ভোট করার কোনও অর্থ হয় না বলেই মত প্রকাশ করেছে বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস। কমিশনের এই সিদ্ধান্ত সঠিক নয় বলেই তিন বিরোধী মনে করছে। পুজো বা উৎসবরে মরশুম শেষ হলেই ভোট হওয়া উঠিত ছিল বলে মনে করছেন বিরোধী দলের নেতারা।

পুজোর মরশুমে ভোট নিয়ে কী মত তৃণমূলের
৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর-সহ তিন কেন্দ্রে ভোট। আর ৩০ অক্টোবর বাকি চার কেন্দ্রে উপনির্বাচন। ৩০ সেপ্টেম্বরের ভোট মিটে গেলেই ফের আদর্শ আচরণ বিধি লাগু হয়ে যাবে। তৃণমূল স্বাগত জানিয়েছেন এই সিদ্ধান্তকে। রাজ্যের শাসকদলের পক্ষে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, কোনও কেন্দ্রই প্রতিনিধিহীন থাকা উচিত নয়য আমরা সব কেন্দ্রেই নির্বাচন করার জন্য কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছিলাম।

উৎসবের মধ্যে ভোট, সমর্থন করে না বিজেপি
তৃণমূল পুজোর মধ্যে নির্বাচনকে স্বাগত জানালেও বিরোধীরা সমালোচনা করেছেন। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বাঙালি হিসেবে উৎসবের মধ্যে কেউ ভোটকে সমর্থন করবে না। কমিশন ঘোষণা করেছে, তাই আমরা ময়দান ছেড়ে পালিয়ে যাব না। তবে কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের ঘর ছাড়া কর্মী-সমর্থকরা যাতে বাড়ি ফিরে অবাধে প্রচার করতে পারে।

কংগ্রেস ক্ষুব্ধ উপনির্বাচনের দিন নিয়ে, কমিশনে নালিশ
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানান, এতদিন যেহেতু উপনির্বাচন হয়নি, তাহলে আর কয়েকটা দিন পিছিয়েই দেওয়া যেত। উৎসব পার করে নির্বাচন করলেই ভালো হত। আমার মনে হয়, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণার সময় মাথায় রাখেনি এই সময় পশ্চিমবঙ্গে একাধিক পুজো ও উৎসব থাকে। তিনি জানান আমরা এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিবাদ জানাব। এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকে তিনি চিঠিও দিয়েছেন বলে জানান।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনায় সিপিএম
আর সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, প্রথমে ভবানীপুরকে নিয়ে স্পেশ্যাল একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এখন আবার উৎসবের মধ্যে উপনির্বাচন। ন্যূনতম জ্ঞান থাকলে এরকম কেউ করে না। কমিশন কি কোনও খোঁজ খবর রাখে না যে, বাংলায় এইসময় উৎসবের মরশুম। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ৩০ অক্টোবর বাকি চার কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। ভোট গণনা ২ নভেম্বর। তারপর একদিন বাদেই কালীপুজো।












Click it and Unblock the Notifications