অভিষেককে নিয়ে প্রতিযোগিতায় কুণালের পরে অপরূপাও! মমতার গদি নিয়ে কটাক্ষ রাহুল-অধীরের
কুণাল ঘোষের 'ভুল' ধরেও অবস্থান বদল অপরূপার! গদি নিয়ে কটাক্ষ রাহুল-অধীরের
তৃতীয় তৃণমূল সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনে মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেছিলেন দিদি মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন ২০৩৬ সাল পর্যন্ত। এর এদিন দলেরই আরামবাগের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার বললেন দিদির মুখ্যমন্ত্রীত্বের সময়কাল ২০২৪ পর্যন্ত। তারপরেই দিদি প্রধানমন্ত্রী হবেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মত প্রকাশের পরে অবশ্য তৃণমূল সাংসদ সেই পোস্ট মুছে দেন। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপি (bjp) নেতা রাহুল সিনহা (Rahul Sinha) এবং প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)।
কুণাল ঘোষের ফেসবুক পোস্ট
২ মে কুণাল ঘোষ ফেসবুক পোস্টে বলেছিলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিক হিসেবে বলতে পারেন, ২০২৬ সাল পর্যন্ত মমতাদি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। জ্যোতি বসু করে যাওয়া রেকর্ড ভাঙবেন তিনি। আর ২০৩৬ সালে তিনি অভিভাবকের মতো এমন এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন অভিষেক। তবে এই সময়ের মধ্যে যদি দিল্লি কিংবা দেশে দায়িত্ব নিতে হয়, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকমের হবে।

অপরূপা পোদ্দারের টুইট
এদিন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের থেকে আরও একধাপ এগিয়ে, টুইটারে পোস্টে আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দার বলেন, তিনি চান আমাদের দিদি ২০২৪-এ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন আরএসএস মনোনীত রাষ্ট্রপতির থেকে। আর এই বিজেপির গোবর্ধন জগদীপ ধনকরের থেকে বাংলায় ২০২৪-এ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তাদের প্রিয় যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পোস্ট নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরেই তা মুছে দেন তৃণমূল সংসদ।

রাহুল সিনহার কটাক্ষ
এদিন বিষয়টি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তিনি বলেছেন, অভিষেকের আর তর সইছে না। পারলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে তিনিই গদিতে বসে পড়েন। তার জেরেই এই অবস্থা। এই ধরনের টুইট যাঁরা করছেন, তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। তাঁরা দিল্লির লোভ দেখিয়ে মমতাকে গদি ছাড়া করতে চাইছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, দিল্লিও হবে না, এদিকও যাবে। এই বিষয়টি তৃণমূলের সর্বনাশ করবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলে থাকেন, কুণাল ঘোষ এবং অপরূপা পোদ্দার দলীয় রাজনীতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে পরিচিত।

দিবাস্বপ্ন, কটাক্ষ অধীরের
তৃণমূল নেতাদের এই মনবাসনাকে দিবাস্বপ্ন বলে কটাক্ষ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। তিনি বলেছেন, তৃণমূলে তোষামদের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী আর ভাইপোর তোষামদ চলছে। তার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী আর ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়ে দিলেই সব ঝামেলা মিটে যায়। তিনি বলেন, বাংলার লোকেরা বড় জায়গায় যান, তা সব বাঙালিই চায়। কিন্তু তার ভিত্তি থাকতে হবে। রাজনীতি আর জ্যোতিষ চর্চা এক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications