দিলীপ এগিয়ে গেলেন! বিজেপিতে মুকুল কি তবে পিছনে পড়ছেন লোকসভার আগে
মেদিনীপুর থেকে লোকসভার প্রচার শুরু করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সভায় কিন্তু কলকে পাননি মুকুল রায়। সেখানে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষই ছড়ি ঘুরিয়েছেন।
পঞ্চায়েতে জঙ্গলমহলে বিজেপির সাফল্যের পর থেকেই প্রশ্নটা উঠে পড়েছিল। বিজেপির এই সাফল্যে কৃতিত্ব কার? মুকুল রায় না দিলীপ ঘোষের? বঙ্গ বিজেপির দুই নেতার অনুগামীরা নিজেদের মতো করে যুক্তি সাজিয়েছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়াতেও লড়াইয়ে নেমেছিলেন। আবারও মোদীর জনসভাকে ঘিরে সেই একই প্রশ্ন উঠে পড়ল।

আসন্ন লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির মুখ কে হবেন, দিলীপ ঘোষ নাকি মুকুল রায়। সোমবার মেদিনীপুরে কৃষক কল্যাণ সমাবেশের মঞ্চ থেকেই একপ্রকার লোকসভার প্রচার শুরু করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সভায় কিন্তু কলকে পাননি মুকুল রায়। সেখানে দিলীপ ঘোষই ছড়ি ঘুরিয়েছেন। নিজের গড় মেদিনীপুরে মুকুল রায়কে জায়গা দেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও প্রথম সারিতে দেখা যায়নি তাঁকে। এমনকী পিছনেও নয় তিনে ছিলেন আড়ালে। তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রী এসেছেন রাজ্য, তাঁর সভায় কেন কোনও গুরুত্ব পেলেন না মুকুল রায়।
এদিনের সভার পর বিজেপির অন্তর্কলহ সামনে চলে এসেছিল। বাবুল সুপ্রিয় সঙ্গে রাজ্য সভাপতির বাকবিতণ্ডার পর মুকুল রায়কে নিয়েও প্রশ্ন উঠে পড়েছে। এমনিতেই জঙ্গলমহলে মুকুল রায়ের প্রবাব-প্রতিপত্তি রয়েছে। তিনি তৃণমূলে থাকাকালীন একার হাতে সংগঠন সামলেছেন। জঙ্গলমহলের ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুকুল রায়ের উপর নির্ভর করতেন।
মুকুল রায় বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর জঙ্গলমহলে তৃণমূলের সংগঠনও নড়বড়ে ঠেকেছে। পরোক্ষে দেখা গিয়েছে বিজেপিকে বাড়তে।
এই বৃদ্ধি কার জন্য, তা নিয়ে বিজেপির বিতর্ক রয়েছে। এক শ্রেণি মনে করে মুকুল রায় আসাতেই বিজেপির এই বাড়বাড়ন্ত। অন্য এক শ্রেণির মতে, দিলীপ ঘোষই এর নেপথ্যে। তার কারণ দিলীপ ঘোষ জঙ্গলমহলের মানুষ, তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন এই জঙ্গলমহলকে। আদিবাসীদের মনের ভাষা বোঝেন। তাতে মুকুল অনুগামীদের প্রশ্ন, তাহলে এতদিন সেখানে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত দেখা যায়নি কেন?
এই অবস্থায় মেদিনীপুরে দিলীপ ঘোষের গড়ে তিনি এককভাবেই দেখাতে চেয়েছেন তাঁর ক্যারিশ্মা।
পুরুলিয়ায় অমিত শাহের সভায় বহু জনসমাগম ঘটেছিল, সেই সাফল্যের কৃতিত্ব কার ছিল, তা নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল বিজেপির অন্দরে। এবার আর সেই বিতর্ক রাখতে চাননি। দিলীপ ঘোষও যে ভালো সংগঠক, যোগ্য লোকের হাতেই যে বিজেপির দায়িত্ব রয়েছে, তা তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন পরতে পরতে।












Click it and Unblock the Notifications