পঞ্চায়েতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও নির্লিপ্ত ভূমিকা, শাহী সফরের পর ভোলবদল বঙ্গ বিজেপির
একেবারে ভোটের প্রাক্কালে বঙ্গে এসেও পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে একটাও টুঁ শব্দ করেননি অমিত শাহ। পঞ্চায়েত ভোটকে এড়িয়ে লোকসভার প্রচার চালিয়ে টার্গেট ফিক্সড করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন আবার পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রশ্নে বিজেপির সুর বদলে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির এই হঠাৎ সুরবদল কেন? এটি কি নিছকই কোনো কৌশল। শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে ফের এক দফায় অমিত শাহ কোর কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু সেই বৈঠকে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কোনো দাবিই জানাল না বঙ্গ বিজেপি।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে সরব হয়েই ক্ষান্ত ছিলেন না বঙ্গ বিজেপির নেতারা, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তো হাইকোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিলেন। তিনি সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোট স্থগিতের আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্ত তা খারিজ করে হাইকোর্ট শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আলাদা করে মামলার পরামর্শ দিয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা মামলা করা হলেো কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আলাদা মামলা করেননি শুভেন্দু অধিকারী বা বিজেপির অন্য কোনো নেতা বা নেত্রী। তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও পঞ্চায়েতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে কোনো আবেদন করেননি বঙ্গ বিজেপির নেতারা।

এরপর বিজেপির পক্ষে নির্বাচন কমিশনের কাছে কেন্রীী য় বাহিনীর দাবি করাও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিজেপির একাংশেরও এই মত। তাঁরা বুঝতে পারছেন না পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে বিজেপি কী পরিকল্পনা, কেন পঞ্চায়েত নিয়ে নিস্পৃহ বিজেপি।
বীরভূমের সিউড়ির সভায় পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে কোনো রা কাটতে দেখা যায়নি। আবার দলের কোর কমিটির বৈঠকেও নীরব বিজেপির নেতা-নেত্রীরা। বৈঠক শেষ বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার শুধু বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিষয়টি আদালতের এক্তিয়ারে।

পঞ্চায়েত ভোট সুষ্ঠু ও অবাধ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এতদিন সরব হওয়ার পর তা শুধু হাইকোর্টের উপর ছেড়ে দিয়েই যেন দায় ঝাড়তে চাইছে বিজেপি। পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে কেন কোনো মাথাব্যথা নেই, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অমিত শাহের গোটা সফরে পঞ্চায়েত নিয়ে নির্লিপ্ত গেরুয়া শিবির।
পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে নীরব থাকার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিজেপির অবস্থান বদল একটি সুচিন্তিত কৌশল বলে মনে করছে একাংশ। বিজেপির এই অবস্থান বদল তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল যতই এবার সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিক না কেন, নীচুতলায় যে তা হওয়া সার্বিকভাবে সম্ভব নয় তা বিলক্ষণ জানেন বিজেপি নেতারাও।












Click it and Unblock the Notifications